শরতেই শুরু হোক গোলাপের শীতপ্রস্তুতি
ছবি: সংগৃহীত
বসন্ত-গ্রীষ্মে গোলাপের যত্নে ব্যস্ত থাকলেও শীতের আগে অনেকেই গাছের দিকে নজর দেন না। অথচ এই সময় সঠিক পরিচর্যা না হলে ঠান্ডায় ডালপালা ও শিকড় ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষ করে হাইব্রিড টি, গ্র্যান্ডিফ্লোরা ও ফ্লোরিবান্ডা জাতের জন্য বাড়তি সতর্কতা দরকার।
যা করবেন
চারপাশ পরিষ্কার রাখুন:কিছু রোগজীবাণু শীতেও মাটিতে বেঁচে থাকে। তাই ঝরা পাতা ও ডালপালা সরিয়ে ফেলুন। রোগের লক্ষণ থাকলে সেগুলো ময়লার সঙ্গে ফেলে দিন।
গোড়ায় মালচ দিন: গাছ পুরোপুরি সুপ্ত হলে, সাধারণত প্রথম তীব্র শৈত্যপ্রবাহের পর, মালচ দিন। দেশীয় ও ঝোপজাতীয় গোলাপে ৪-৮ ইঞ্চি স্তর যথেষ্ট। হাইব্রিড জাতের ক্ষেত্রে জোড়কলমের স্থানটি পুরোপুরি ঢেকে দিতে হবে।
পানি কমান: গাছ সুপ্ত হওয়ার দিকে গেলে ধীরে ধীরে পানি কমান। তবে বৃষ্টি কম হলে পরিমিত দিন, কারণ মাটি অতিরিক্ত শুকালে ঠান্ডায় ঝুঁকি বাড়ে।
যা করবেন না
শুকনো ফুল ছাঁটবেন না: এতে নতুন কুঁড়ি গজায়, অথচ এখন লক্ষ্য গাছের বৃদ্ধি ধীর করা।
সার দেবেন না:সম্ভাব্য প্রথম শৈত্যপ্রবাহের ছয় থেকে আট সপ্তাহ আগেই সার বন্ধ করুন। দেরিতে সার দিলে নরম ডালপালা গজায়, যা ঠান্ডায় সহজে নষ্ট হয়।
বেশি ছাঁটাই করবেন না: শীতপ্রধান অঞ্চলে ছাঁটাইয়ে তৈরি ক্ষত তীব্র ঠান্ডায় ক্ষতির কারণ হতে পারে। তবে গোড়ায় মাটির ঢিবি দিতে কিছু ডাল ছোট করা যায়। শীত মৃদু হলে এই নিয়ে তেমন চিন্তা নেই।
শীতের সুরক্ষা
শীতের বাতাসে ডাল বেশি দুললে শিকড় আলগা হতে পারে। তাই গাছ সুপ্ত হলে ডালপালা মাটি থেকে ২-৩ ফুট উচ্চতায় ছেঁটে দিন। এরপর নিচের যেকোনো একটি পদ্ধতি বেছে নিন:
মাটির ঢিবি: গোড়া ও মূল কাণ্ডের সংযোগস্থল ঘিরে প্রায় ১২ ইঞ্চি উঁচু মাটি দিয়ে তার ওপর মালচ বা ঝরা পাতা বিছান।
কাপড়ে মোড়ানো: বাতাস চলাচল করে এমন কাপড়, চট বা গোলাপের বিশেষ ঢাকনা ব্যবহার করুন।
মিনেসোটা টিপ পদ্ধতি: অতিরিক্ত ঠান্ডায় ডালগুলো একসঙ্গে বেঁধে সাবধানে বাঁকিয়ে অগভীর নালায় শুইয়ে মাটি চাপা দিন। মাটি জমে গেলে ওপরে খড় বিছান। বসন্তে উষ্ণ হলে ডালগুলো তুলে আনুন।
সময়মতো এই যত্ন নিলে শীত পেরিয়ে বসন্তে আপনার গোলাপ গাছ আবার সতেজ ফুলে ভরে উঠবে।
/শুভ/
