ইনসাফ বারাকাহ হাসপাতালে চিকিৎসায় অবহেলায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ
ইনসাফ বারাকাহ কিডনি ও জেনারেল হাসপাতালে খাদ্যনালির টিউমার অপারেশনের পর চিকিৎসায় অবহেলা ও আইসিইউতে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষিত চিকিৎসক ও নার্স না থাকায় রোগীর মৃত্যু অভিযোগ উঠেছে। জসিম উদ্দিন খান নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে রোগীর ছেলে রাজু’র বরাতে হাসপাতাল কতৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া একটি অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। জসিম উদ্দিন আরেক পোস্টে রোগীকে নিজের খালা পরিচয়ে লেখেন, ‘ইনসাফ বারাকাহ হাসপাতাল আমার খালাকে মেরে ফেলেছে। আইসিইউ ভুয়া। ডাক্তার ভুয়া। সব গুপ্ত।’ অভিযোগে ৭০ বছর বয়সী মমতাজ বেগমের ছেলে রাজু তাঁর মায়ের শারীরিক অবস্থার অবনতির জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতাকে দায়ী করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিচার, হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল এবং ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। ১৭ অক্টোবর হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে দেওয়া লিখিত অভিযোগে এসব দাবি জানান রাজু। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, মমতাজ বেগম, স্বামী মরহুম বজলুর রহমান, পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার চিড়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। গত ৬ অক্টোবর খাদ্যনালির টিউমারজনিত অসুস্থতা নিয়ে তাঁকে ইনসাফ বারাকাহ কিডনি ও জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর আগে পিজিসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ৬ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানোর কথা জানান তাঁর ছেলে। তাঁর দাবি, পরীক্ষার প্রতিবেদন অনুযায়ী মায়ের কিডনি, লিভার ও ফুসফুসসহ অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গের অবস্থা স্বাভাবিক ছিলো এবং তাঁর উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস ছিলো না। রাজু অভিযোগে আরও জানান, জটিল থোরাসিক সার্জারির জন্য চিকিৎসক আমিনুল হক লেনিনকে নির্বাচন করা হয় এবং তাঁর পরামর্শে হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করানো হয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ৪ থেকে ৫ ঘণ্টায় অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন হয়। অস্ত্রোপচারের পরদিন রোগীকে কেবিনে স্থানান্তরের পরিকল্পনাও ছিলো। অস্ত্রোপচারের পর আইসিইউতে থাকা অবস্থায় তাঁর মায়ের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে বলে অভিযোগ করেন রাজু। তাঁর দাবি, ওই সময় আইসিইউতে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষিত চিকিৎসক ও নার্স উপস্থিত ছিলেন না। দায়িত্বে থাকা চিকিৎসকের বক্তব্য অনুযায়ী, অ্যানেস্থেশিয়ার পর রোগী নিজেই অক্সিজেন সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত একটি বিকল্প শ্বাসনালি-সংক্রান্ত টিউব টেনে খুলে ফেলেন। উপস্থিত কর্মীরা সময়মতো সেটি পুনরায় স্থাপন করতে পারেননি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। রাজু আরও অভিযোগ করেন, পরবর্তী সময়ে অক্সিজেন সরবরাহের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সতর্কতা ও দক্ষতার অভাবের কারণে তাঁর মায়ের ফুসফুসের টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং শরীরে অতিরিক্ত অক্সিজেন প্রবেশের ফলে শারীরিক অবস্থার গুরুতর অবনতি ঘটে। বর্তমানে তাঁর মা মৃত্যুঝুঁকিতে রয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসক ও ওষুধের খরচ বাদে প্রতি রাতে একজন রোগীর জন্য ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা বিল দিতে হলে রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব কার- অভিযোগে এমন প্রশ্নও তুলেছেন রাজু। তাঁর অভিযোগ, হাসপাতালের দায়িত্বে অবহেলা ও যথাযথ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ব্যর্থতার কারণেই তাঁর মায়ের এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অভিযোগপত্রে রাজু হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। পরিবারসূত্রে জানা যায়, সোমবার দিবাগত রাত ১২ টায় হাসপাতালে মমতাজ বেগম শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। ইনসাফ বারাকাহ হাসপাতালের কাস্টমার কেয়ার ম্যানেজারের কাছে বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মিটিং-এ আছি পরে কথা বলবো।’ পরে কখন কল করলে তাঁকে পাওয়া যাবে বললে তিনি কোনো উত্তর দেননি। /সাইফুল/