স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা, নিহত বেড়ে ৬৪
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলে জানিয়েছে, একই গন্তব্যের দিকে যাওয়া দু’টি ট্রেন একই লাইনে চলছিলো। এর মধ্যে একটি ট্রেন আরেকটি ট্রেনকে পেছন থেকে এসে অত্যন্ত জোরে আঘাত করে। এতে ট্রেনের দু’টি বগি লাইন থেকে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার শিকার হওয়া দুটি ট্রেনে ৫৪৪ জন যাত্রী ভ্রমণ করছিলেন। দুর্ঘটনাটি হয় মোরা এবং ওরগাজ শহরের মধ্যবর্তী স্থানে। দু’টি ট্রেনই মাদ্রিদ থেকে সেভিয়াতে যাচ্ছিলো। নিহতের সর্বশেষ এই সংখ্যা অনুযায়ী, ২০১৩ সালের পর এটিই স্পেনের সবচেয়ে ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনা। সে বছর একটি ট্রেন রেললাইনের বাকে গিয়ে লাইনচ্যুত হয়ে পাশের লাইনে গিয়ে পড়ে। তখন উল্টো দিকে থেকে আসা আরেকটি ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়া ট্রেনকে ধাক্কা দেয়। ওই দুর্ঘটনায় ৮০ জনের মৃত্যু হয়েছিলো। এখন দেশটি আরেকটি বড় দুর্ঘটনা দেখলো। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করে বলেছেন, ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনার ঘটনায় আমি মর্মাহত। তিনি আরও জানান, পরিবহণমন্ত্রীর সঙ্গে তিনি সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন। রেল পরিচালনাকারী সংস্থা আদিফ জানিয়েছে, রেনফে পরিচালিত একটি ট্রেনের সঙ্গে ইরিও কোম্পানির আরেকটি ট্রেনের সংঘর্ষ হয়েছে। ইরিওর ট্রেনটি মাদ্রিদ থেকে সেভিয়া রুটে চলাচল করে। দুর্ঘটনায় জড়িত একটি ট্রেনের ১৭ বছর বয়সী এক যাত্রী স্পেনের একটি সম্প্রচারমাধ্যমকে বলেন, এটি ছিল এক বিপর্যয়। দুর্ঘটনাস্থলে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিলো বলেও জানান তিনি। জেসুস জেরোনিমো নামে ৫৪ বছর বয়সী এক যাত্রী বলেছেন, ভয়াবহ দুর্ঘটনার সময় ট্রেনের যাত্রীরা ভেতর থেকে ছিটকে বাইরে পড়ে যান। তিনি বলেছেন, প্রথমে আমরা ভেবেছিলাম ট্রেন লাইনচ্যুত হয়েছে। পরে ধীরে ধীরে আমরা বাইরে বের হই এবং দেখতে পাই আমাদের ট্রেন একপাশে কাত হয়ে গেছে। সেখানে অনেক আহত মানুষ ছিলেন। অনেকে ভয়ে কাঁপছিলেন। এই দুর্ঘটনায় আরও অন্তত ৮০ জন আহত হয়েছেন। সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে প্রায় ৫০ জনের অবস্থা বেশ গুরুতর। যাদের অবস্থা বেশি খারাপ তাঁদের হেলিকপ্টারে করে উন্নত চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আর কম আহতদের আশপাশের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সূত্র: বিবিসি /এমএএইচ/