Advertisement(970X90).png
Advertisement(300X90).png

১৫ কার্তিক ১৪৩৩, ১৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

দুঃসময়ে নিকটাত্মীয়রাও দূরে ছিলেন, কবি পাশে দাঁড়িয়েছেন:  রিজভী
দুঃসময়ে নিকটাত্মীয়রাও দূরে ছিলেন, কবি পাশে দাঁড়িয়েছেন:  রিজভী

দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ইতিবাচক পরিবর্তন প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে দেশে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড কিছুটা বেড়েছে। এই ক্ষেত্রে শিল্পকলা অ্যাকাডেমির ভূমিকা রয়েছে। একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বস কোনো প্রতিষ্ঠানে থাকলে সেটি যে কতোটা কর্মময় ও প্রাণবন্ত হয়ে উঠতে পারে, নিজ দক্ষতা ও যোগ্যতা দিয়ে রেজাউদ্দিন স্টালিন তার প্রমাণ রেখে গেছেন। রিজভী বলেন, কবি স্টালিন একজন আধুনিক ও ব্যতিক্রমী স্রষ্টা। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিষ্ঠাতাদের একজন হলেও, তিনি নিজে কখনো দলটির সদস্য হননি। একইভাবে রেজাউদ্দিন স্টালিনও একটি রাজনৈতিক বিশ্বাস ধারণ করলেও, তিনি কোনো দলীয় কাঠামোর মধ্যে নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি, যা একজন বড় কবির নিদর্শন। সমসাময়িক বৈশ্বিক সংকটগুলো সাহিত্যে তুলে আনার ওপর জোর দিয়ে রিজভী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে পৃথিবী আজ গভীর সংকটের মুখে। প্রতিটি দেশ এই সংকট থেকে উত্তরণের চেষ্টা করছে। সমকালীন সংকট ও মানুষের জীবনকে কবিতায় তুলে ধরার মধ্য দিয়ে কবিরা তাদের সময়কে ধারণ করেন। এসব জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় যদি কবিতায় উঠে না আসে, তবে তা পূর্ণাঙ্গ হতে পারে না। কবি স্টালিনের ‘একদিন বৃক্ষের জন্য সবাইকে কাঁদতে হবে’ পঙ্ক্তিটি উদ্ধৃত করে রিজভী বলেন, এটি সাম্প্রতিক বৈশ্বিক পরিবেশ সংকটের এক অসাধারণ ও সত্য প্রতিচ্ছবি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আসাদুজ্জামানের সভাপতিত্বে ও ‘সারেঙ’-এর সম্পাদক আবদুর রহমান মল্লিকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ, জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি মোহন রায়হান, মুক্তচিন্তা বাংলাদেশের আহ্বায়ক আবুল কাসেম হায়দার এবং কবি ও সাংবাদিক শাহীন চৌধুরী। অনুষ্ঠানে আরও অংশ নেন কবি জাহাঙ্গীর ফিরোজ, কবি কামরুজ্জামান, কবি সৈকত হাবিব, কবি আসাদ কাজল, এটিএন বাংলার প্রধান নির্বাহী (বার্তা), ছড়াকার হাসান শরীফ। /শান্ত/

নাগরিক কবি শামসুর রাহমানের জন্মদিন আজ
নাগরিক কবি শামসুর রাহমানের জন্মদিন আজ

১৯৫৭ সালে একজন সংবাদকর্মী হিসেবে ‘দৈনিক মর্নিং নিউজ’ পত্রিকায় কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। একই বছর রেডিও পাকিস্তানে অনুষ্ঠান প্রযোজক হিসেবে যোগ দেন। ১৯৫৯ সাল পর্যন্ত সেখানে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬০ সালে আবার ‘মর্নিং নিউজ’-এ ফিরে আসেন এবং ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত ‘মর্নিং নিউজ’-এর সহযোগী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৪ সালের শেষের দিকে ‘দৈনিক পাকিস্তান’-এ সহকারী সম্পাদক পদে যোগ দেন শামসুর রাহমান। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে ওই পত্রিকাটি ‘দৈনিক বাংলা’ নামে প্রকাশিত হয়। ১৯৭৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি দৈনিক বাংলা ও সাপ্তাহিক বিচিত্রার সম্পাদক নিযুক্ত হন। ১৯৮৭ সালে সামরিক সরকারের শাসনামলে তিনি ‘দৈনিক বাংলা’ থেকে পদত্যাগ করেন। এরপর সাহিত্য পত্রিকা ‘অধুনা’র সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৪৯ সালে ‘সোনার বাংলা’ পত্রিকায় শামসুর রাহমানের প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয়। তিনি বিভিন্ন পত্রিকায় সম্পাদকীয় ও উপ-সম্পাদকীয় লেখায় নিজের ছদ্মনাম হিসেবে সিন্দাবাদ, চক্ষুষ্মান, লিপিকার, নেপথ্যে, জনান্তিকে, মৈনাক ব্যবহার করেছেন। একজন প্রতিবাদী কবি হিসেবেও পরিচিতি রয়েছে তাঁর। তৎকালীন সরকারি পত্রিকায় কাজ করা সত্ত্বেও তিনি আইয়ুব খানের স্বৈরশাসনের প্রতি বিদ্রূপ করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কারাভোগের সময় তাঁকে উদ্দেশ করে তিনি কবিতা লিখেছেন। রবীন্দ্রসংগীতের ওপর পাকিস্তান সরকারের নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন তিনি। তাঁর লেখা ‘বর্ণমালা’, ‘আমার দুখিনী বর্ণমালা’, ‘আসাদের শার্ট’, ‘স্বাধীনতা তুমি’, ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য, হে স্বাধীনতা’ এসব কবিতার মধ্যে বিদ্রোহী চেতনার বহিঃপ্রকাশ ঘটে। ১৯৮৭ সালে স্বৈরশাসন আমলে পরপর ৪ বছর ধরে ‘শৃঙ্খল মুক্তির কবিতা’, ‘স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে কবিতা,’ ‘সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে কবিতা’ এবং ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কবিতা’ লেখেন তিনি। কবি হিসেবে দুই বাংলায় সমান জনপ্রিয় ছিলেন তিনি। বিংশ শতাব্দীর তিরিশের দশকের ৫ বিশিষ্ট কবির পর আধুনিক বাংলা কবিতার প্রধান পুরুষ হিসেবে বিবেচনা করা হয় তাঁকে। নাগরিক কষ্ট, দুঃখ-সুখ তার কবিতায় বিশেষভাবে উঠে এসেছে। জীবনের সত্য-সুন্দরকে তুলে ধরার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন অনন্য। একই সঙ্গে বাঙালির ভাষা আন্দোলন, মুক্তিসংগ্রাম ও স্বাধীনতার চেতনা তার কবিতায় পেয়েছে স্বতন্ত্র প্রকাশ। মানবিক মূল্যবোধ, অসাম্প্রদায়িকতা ও গণতান্ত্রিক চেতনার প্রতিফলনেও তাঁর কবিতা বাংলা সাহিত্যে গুরুত্বপূর্ণ স্থান করে নিয়েছে। তিনি দীর্ঘ ছয় দশক তার সাবলীল ধারায় লিখনিতে সমৃদ্ধ করেছেন বাংলা সাহিত্যকে। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে’ প্রকাশিত হয়েছিলো ১৯৬০ সালে। ৬৬টি কাব্যগ্রন্থ, ৪টি উপন্যাস, একটি প্রবন্ধগ্রন্থ, একটি ছড়ার বই ও ৬টি অনুবাদগ্রন্থ প্রকাশিত হয়। সাহিত্যে অনন্য অবদানের জন্য আদমজী সাহিত্য পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদক, নাসিরউদ্দিন স্বর্ণপদক, জীবনানন্দ পুরস্কার, আবুল মনসুর আহমেদ স্মৃতি পুরস্কার, সাংবাদিকতার জন্য মিৎসুবিশি পুরস্কার, স্বাধীনতা পদক ও আনন্দ পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়া ভারতের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় এবং রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে কবিকে সম্মানসূচক ডিলিট উপাধি দেওয়া হয়। /এমএএইচ/

আমার সৃষ্টির কিছু বিষয় কবিতার রূপ ধারণ করেছে: নোবেলজয়ী অ্যান কারসন
আমার সৃষ্টির কিছু বিষয় কবিতার রূপ ধারণ করেছে: নোবেলজয়ী অ্যান কারসন

অ্যান কারসনের লেখাপত্র আমরা সামনের দিনগুলোতে আরও সবিস্তারে আবিষ্কার করবো, তার নিজের ভাষায়, কিংবা আমাদের মাতৃভাষায়, অনুবাদকের হাতে, এমনকি জেনারেটিভ এআই এর অনুবাদেও। তবে আজ এই লেখায় তার ব্যক্তি ও সৃজনশীলতার জগৎকে সামগ্রিকভাবে উপলব্ধি করার একটি প্রাথমিক চেষ্টা করা যাক। দ্য গার্ডিয়ান, দ্য প্যারিস রিভিউ, দ্য পেন রিভিউ এবং নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির ক্রিয়েটিভ রাইটিং ডিপার্টমেন্টের লিটেরারি জার্নালকে বিভিন্ন সময়ে দেওয়া তার বিবিধ সাক্ষাৎকারমালা থেকে বাছাই করা কিছু প্রশ্ন ও সেগুলোর উত্তরের সংকলন এই সাক্ষাৎকার।