Advertisement(970X90).png
Advertisement(300X90).png

১৫ কার্তিক ১৪৩৩, ১৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

সমুদ্রের পানি নীল দেখায় কেন?
সমুদ্রের পানি নীল দেখায় কেন?

সূর্যের আলো কীভাবে সমুদ্রকে নীল করে? সূর্যের সাদা আলো বিভিন্ন রঙের আলোর সমষ্টি। এসব রঙের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্যও আলাদা। আলো পানিতে প্রবেশ করলে পানি সব রঙের আলো সমানভাবে শোষণ করে না। লাল, কমলা ও হলুদের মতো তুলনামূলক দীর্ঘ তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো বেশি শোষিত হয়। অন্যদিকে, নীল আলো পানির মধ্যে তুলনামূলক বেশি দূর পর্যন্ত প্রবেশ করতে পারে। পানির অণুর সঙ্গে আলোর মিথস্ক্রিয়ার ফলে আলোর কিছু অংশ বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে পড়ে। সেই নীল আলোর একটি অংশ আমাদের চোখে পৌঁছায় বলেই গভীর ও স্বচ্ছ সমুদ্রকে নীল দেখায়। সহজভাবে বললে, সমুদ্রের পানি সব রঙের আলো সমানভাবে প্রতিফলিত করে না। পানির মধ্যে আলোর শোষণ ও বিচ্ছুরণের কারণে নীল রং তুলনামূলক বেশি দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। আকাশের প্রতিফলনের ভূমিকা কতটুকু? সমুদ্রের পানিতে আকাশের নীল রং প্রতিফলিত হতে পারে। বিশেষ করে শান্ত পানিতে আকাশ, মেঘ ও আশপাশের দৃশ্যের প্রতিফলন স্পষ্ট দেখা যায়। তবে সমুদ্রের নীল রঙের একমাত্র কারণ এটি নয়। পানির নিজস্ব আলোক শোষণ ও বিচ্ছুরণও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পানির নিচেও নীল আভা দেখা যাওয়ার বিষয়টি এর প্রমাণ। সব সমুদ্রের রং এক রকম নয় কেন? সমুদ্রের রং নির্ভর করে পানির গভীরতা, স্বচ্ছতা, তলদেশের প্রকৃতি এবং পানিতে মিশে থাকা বিভিন্ন উপাদানের ওপর। অগভীর ও স্বচ্ছ পানিতে সূর্যের আলো বালুময় তলদেশ বা প্রবালপ্রাচীরে পৌঁছে প্রতিফলিত হতে পারে। ফলে ক্যারিবীয় অঞ্চলের মতো অনেক জায়গায় পানি ফিরোজা বা নীলচে-সবুজ দেখায়। অন্যদিকে, নদী থেকে বয়ে আসা পলি, বালি ও অন্যান্য কণা পানিতে মিশলে সমুদ্রের পানি ঘোলাটে বাদামি কিংবা ধূসর দেখাতে পারে। ঝড়ের পর ঢেউ সমুদ্রতলের পলি তুলে আনলেও পানির রং বদলে যায়। সমুদ্রে ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন বা অতি ক্ষুদ্র সালোকসংশ্লেষকারী জীবের পরিমাণ বেশি থাকলেও পানির রং পরিবর্তিত হতে পারে। এসব জীবের মধ্যে থাকা ক্লোরোফিলসহ বিভিন্ন রঞ্জক পদার্থ আলোর নির্দিষ্ট তরঙ্গদৈর্ঘ্য শোষণ করে। ফলে কিছু অঞ্চলে সমুদ্রের পানি সবুজাভ দেখায়। তবে পানির রং দেখেই সেখানে ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটনের পরিমাণ নিশ্চিতভাবে নির্ধারণ করা যায় না। সমুদ্রের গভীরে আলো কমে যায় কেন? সমুদ্রের গভীরতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সূর্যের আলো ক্রমশ দুর্বল হয়ে আসে। লাল ও কমলা রঙের আলো তুলনামূলক অগভীর স্তরেই বেশি শোষিত হয়। নীল আলো তুলনামূলক বেশি গভীরে পৌঁছাতে পারে। তবে গভীরতা বাড়লে নীল আলোও শোষিত ও বিচ্ছুরিত হতে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশানিক অ্যান্ড অ্যাটমস্ফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এনওএএ)-এর তথ্য অনুযায়ী, সমুদ্রে প্রায় ২০০ মিটার গভীরতার পর আলো উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। প্রায় ১ হাজার মিটারের নিচে সূর্যের আলো কার্যত পৌঁছায় না। ফলে গভীর সমুদ্রের অধিকাংশ অঞ্চল অন্ধকারে থাকে। সমুদ্রের রং দেখে কী জানা যায়? সমুদ্রের রং শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বিষয় নয়, বৈজ্ঞানিক গবেষণারও গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। উপগ্রহের মাধ্যমে সমুদ্রের রং পর্যবেক্ষণ করে বিজ্ঞানীরা পানিতে ক্লোরোফিলের পরিমাণ, ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটনের উপস্থিতি ও ভাসমান কণার মতো বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে ধারণা পেতে পারেন। তবে এসব তথ্য বিশ্লেষণের সময় পানির গভীরতা, স্বচ্ছতা এবং অন্যান্য উপাদানের প্রভাবও বিবেচনায় নিতে হয়। অর্থাৎ, সমুদ্রের নীল রঙের পেছনে রয়েছে আলোর সঙ্গে পানির জটিল মিথস্ক্রিয়া। আকাশের প্রতিফলন সমুদ্রের সৌন্দর্য বাড়ালেও পানির নিজস্ব আলোক শোষণ ও বিচ্ছুরণই এর রঙের অন্যতম প্রধান বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা। /শান্ত/

বিদেশী কোম্পানির আগ্রহ বাড়ছে সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে, দরপত্র কিনেছে চীন ও তুরস্কের কোম্পানি
বিদেশী কোম্পানির আগ্রহ বাড়ছে সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে, দরপত্র কিনেছে চীন ও তুরস্কের কোম্পানি

দেশের সমুদ্রসীমায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য গত ২৪ মে দ্বিতীয়বারের মতো আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করে বাংলাদেশ। এতে বঙ্গোপসাগরের অগভীর সমুদ্রের ১১টি ও গভীর সমুদ্রের ১৫টিসহ মোট ২৬টি তেল-গ্যাস ব্লক আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর কাছে অনুসন্ধানের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে। দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় আগামী ৩০ নভেম্বর। পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের ২০২৬ সালের সমুদ্রসীমায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের দরপত্রে অংশ নিতে এখন পর্যন্ত চীনের সিনোপেক, সিএনওওসি ইন্টারন্যাশনাল এবং তুরস্কের টার্কিশ পেট্রোলিয়াম ওভারসিজ কোম্পানি (টিপিএও) দরপত্রের আনুষ্ঠানিক তথ্যপ্যাকেজ বা 'প্রমোশনাল প্যাকেজ' কিনেছে। গত ২৩ সেপ্টেম্বর সিনোপেক দরপত্রের তথ্যপ্যাকেজ ও প্রয়োজনীয় নথির পাশাপাশি বিশেষায়িত 'ডেটা প্যাকেজ' কিনেছে। সমুদ্রের তলদেশের ভূতাত্ত্বিক গঠন এবং সম্ভাব্য তেল-গ্যাসের মজুত সম্পর্কে বিস্তারিত পর্যালোচনার জন্য এসব তথ্য সংগ্রহ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্য দিয়ে দরপত্র প্রক্রিয়ার আরও অগ্রসর ধাপে পৌঁছানো সর্বশেষ বড় আন্তর্জাতিক কোম্পানি হিসেবে যুক্ত হয়েছে সিনোপেক। এর আগে গত ১৭ আগস্ট সিএনওওসি ইন্টারন্যাশনাল আনুষ্ঠানিক তথ্যপ্যাকেজ কেনে। আর ২৩ জুলাই দরপত্রের নথি কেনে তুরস্কের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠানের বিদেশে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানকারী শাখা টিপিএও। পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, বিপি, এক্সনমবিল, মারফি অয়েল, পেট্রোব্রাস ও কুফপেকের মতো বিশ্বের বড় জ্বালানি কোম্পানিগুলোকে দরপত্র প্রক্রিয়ায় যুক্ত করতে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ ও আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর দরপত্রের নথি কেনা গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। কারণ, সমুদ্রের তেল-গ্যাস ব্লকের জন্য দরপত্র জমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কোম্পানিগুলো সাধারণত সংশ্লিষ্ট এলাকার ভূতাত্ত্বিক গঠন ও কারিগরি তথ্য বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করে। পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন ও মাইনস) মো. শোয়েব বলেন, এখন পর্যন্ত ১০টি কোম্পানি তথ্যপ্যাকেজ কিনেছে। তবে দরপত্রের নথি কিনেছে তিনটি কোম্পানি। তিনি বলেন, "আমরা আশা করছি, আগামী দিনগুলোতে আরও কয়েকটি বড় জ্বালানি কোম্পানি দরপত্রের নথি কিনবে। এ বিষয়ে এক্সনমবিল, বিপিসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে।" আরও কোম্পানির আগ্রহ সমুদ্রসীমায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের দরপত্রে প্রাথমিকভাবে তথ্য সংগ্রহের পর্যায়েও দেশি-বিদেশি বিভিন্ন কোম্পানির আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। পেট্রোবাংলার আনুষ্ঠানিক বিক্রির তথ্য অনুযায়ী, তথ্যপ্যাকেজ কেনা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দেশীয় অবকাঠামো নির্মাণ ও প্রকৌশল প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জ্বালানি ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। তথ্যপ্যাকেজ কেনা কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে বেরিঞ্জিয়া পাওয়ার বাংলাদেশ লিমিটেড, ক্রিসএনার্জি, পিইএএল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন লিমিটেড এবং ওনোডা ইনকরপোরেটেড। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক জ্বালানি গবেষণা ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান রাইস্ট্যাড এনার্জি এবং দেশীয় অবকাঠামো নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেডও তথ্যপ্যাকেজ কিনেছে। তালিকায় রয়েছে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক ইমপ্রেশন ভেঞ্চারস এজিও। অন্যদিকে, চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সিনোপেক ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড তথ্যপ্যাকেজের পাশাপাশি দরপত্রের আনুষ্ঠানিক প্যাকেজ এবং বিশেষায়িত ডিএসপি-২ ও ১০ ডেটা প্যাকেজ কিনে দরপত্র প্রক্রিয়ায় আরও এক ধাপ এগিয়েছে। তথ্যপ্যাকেজে সমুদ্রসীমায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের সম্ভাবনা যাচাইয়ের জন্য প্রাথমিক তথ্য দেওয়া হয়। অন্যদিকে, দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী কোম্পানিগুলোর জন্য প্রমোশনাল প্যাকেজ ও বিশেষায়িত ডেটা প্যাকেজে আরও বিস্তারিত তথ্য থাকে। এসব তথ্য পর্যালোচনা করে কোম্পানিগুলো দরপত্র জমা দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এক্সনমবিল, বিপি ও এনির সঙ্গে আলোচনা সমুদ্রসীমায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের দরপত্রে বিশ্বের বড় জ্বালানি কোম্পানিগুলোকে আকৃষ্ট করতে যোগাযোগ ও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এর অংশ হিসেবে গত ৩০ সেপ্টেম্বর এক্সনমবিল, বিপি ও এনির কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধিদল। সমুদ্রসীমায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের দরপত্র আহ্বানের পরপরই পেট্রোবাংলার সঙ্গে যোগাযোগ করে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি খাতের বড় প্রতিষ্ঠান এক্সনমবিল। পরে পেট্রোবাংলার সঙ্গে একটি অনলাইন বৈঠকও করে প্রতিষ্ঠানটি। বৈঠকে এক্সনমবিলের এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের কর্মকর্তারা অংশ নেন। পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, এক্সনমবিল জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সমুদ্রসীমায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের দরপত্র আহ্বান করা হলে তারা একটি ডেটা প্যাকেজ কিনেছিল। এবারের দরপত্র প্রক্রিয়াতেও অংশ নিতে প্রয়োজনীয় নথি কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এক্সনমবিলসহ যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য জ্বালানি কোম্পানির সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখবে সরকার। এ ছাড়া বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের নেতৃত্বে জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তাদের একটি প্রতিনিধিদলের যুক্তরাষ্ট্র সফরের কথা রয়েছে। সফরে দেশটির বড় জ্বালানি কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আলোচনা করবেন তারা। এদিকে, ব্রিটিশ জ্বালানি কোম্পানি বিপিও বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের দরপত্রে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। গত জুলাইয়ে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা পেট্রোবাংলার সঙ্গে একটি অনলাইন বৈঠক করেন। - কেআর

আন্টার্কটিকায় গলছেই বরফ, সমুদ্রের জলস্তর বাড়তে পাওে ৬-১০ ইঞ্চি
আন্টার্কটিকায় গলছেই বরফ, সমুদ্রের জলস্তর বাড়তে পাওে ৬-১০ ইঞ্চি

আন্টার্কটিকার বরফক্ষয় বিশ্ব জুড়ে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে, যার প্রভাব পড়ে সমুদ্রতীরবর্তী দেশগুলির উপকূলে। বিজ্ঞানীদের দাবি, আন্টার্কটিকার স্থলভাগের বরফের ভর কমে যাওয়ায় সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে। নতুন বরফ তৈরি হওয়ার সঙ্গে গলনের ভারসাম্য নেই। পরিস্থিতি এমন চলতে থাকলে পরিস্থিতিভেদে ২১০০ সালের মধ্যে আন্টার্কটিকার বরফক্ষয়ের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা কতটা বাড়তে পারে, তারও পূর্বাভাস দিয়েছে গবেষণাটি। হংকঙের সিটি ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ইউচেং লিন আন্টার্কটিকা সংক্রান্ত এই গবেষণার নেতৃত্ব দিয়েছেন। গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে নেচার জিয়োসায়েন্স জার্নালে।