Advertisement(970X90).png
Advertisement(300X90).png

১৫ কার্তিক ১৪৩৩, ১৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

শিল্পের চাহিদা ও বাস্তব সমস্যা সমাধানে গবেষণা কাজে লাগানোর তাগিদ ইউজিসি চেয়ারম্যানের
শিল্পের চাহিদা ও বাস্তব সমস্যা সমাধানে গবেষণা কাজে লাগানোর তাগিদ ইউজিসি চেয়ারম্যানের

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (মাভাবিপ্রবি) দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ‘রিসার্চ এক্সেলেন্স অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান যৌথভাবে গবেষণা পরিচালনার মাধ্যমে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সমস্যার সমাধানে ভূমিকা রাখতে পারে। গবেষণার ফল যেন বাস্তব ক্ষেত্রে কাজে লাগে, সে জন্য শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে হবে। স্থানীয় সমাজের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পৃক্ততা জোরদারের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। মাভাবিপ্রবির অগ্রগতির প্রশংসা করে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, ২০০৩ সালে দুটি বিভাগ নিয়ে যাত্রা শুরু করা বিশ্ববিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ছয়টি অনুষদ ও ১৭টি বিভাগ রয়েছে। অনুষ্ঠানে ইউজিসি সদস্য ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন জানান, শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন, উদ্ভাবনী সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে স্কিল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব কেন্দ্রে শিক্ষার্থীরা শিল্প খাতের চাহিদা অনুযায়ী বাস্তবমুখী দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাবেন। অনুষ্ঠানে শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সংযোগ বাড়াতে ২৪টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা হয়। গবেষণায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে শিক্ষক ও গবেষকদের রিসার্চ এক্সেলেন্স অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি বিজ্ঞান মেলা, শিক্ষা মেলা ও চাকরির মেলার আয়োজন করা হয়। /শান্ত/

সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্রে দীর্ঘমেয়াদি হুমকি সৃষ্টি করছে শিল্পের বায়দুষণ
সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্রে দীর্ঘমেয়াদি হুমকি সৃষ্টি করছে শিল্পের বায়দুষণ

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, বায়ুদূষণ সুন্দরবনের পরিবেশগত ভারসাম্য ক্রমেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এর ফলে উদ্ভিদের শারীরবৃত্তীয় কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং বনটির সামগ্রিকভাবে প্রতিকূলতা মোকাবিলার সক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ছে। বাংলাদেশে বাঘের প্রাকৃতিক আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত এ বনটির অস্তিত্বের জন্য পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মনিরুল এইচ খান বলেন, ‘বায়ুদূষণ সরাসরি উদ্ভিদের বিকাশে বাধা সৃষ্টি করে। শিল্পকারখানার ধুলাবালি পাতার ওপর জমলে সূর্যের আলো বাধাগ্রস্ত হয় এবং পাতার পত্ররন্ধ্র বন্ধ হয়ে যায়। এতে সালোকসংশ্লেষণ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয় এবং উদ্ভিদের বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হয়।’ সালোকসংশ্লেষণ হলো এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে সবুজ উদ্ভিদ সূর্যের আলো, পানি ও কার্বন ডাই-অক্সাইড ব্যবহার করে শক্তি উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান তৈরি করে এবং বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেন ছেড়ে দেয়। অধ্যাপক মনিরুল বলেন, উদ্ভিদরাজি খাদ্যজালের ভিত্তি তৈরি করে। ফলে উদ্ভিদের বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হলে সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী ও সামগ্রিক বাস্তুতন্ত্রের ওপর ধারাবাহিক নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। সম্প্রতি সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেস (সিইজিআইএস) এবং আরণ্যক ফাউন্ডেশনের যৌথ এক গবেষণায় সুন্দরবনের বায়ুদূষণের উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। গবেষণায় বনের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সূক্ষ্ম বস্তুকণা (পিএম২.৫) ও ধুলিকণার (পিএম১০) বিপজ্জনক মাত্রা শনাক্ত করা হয়েছে। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, শরণখোলা রেঞ্জে পিএম২.৫-এর ঘনত্ব প্রতি ঘনমিটারে ১০২ মাইক্রোগ্রামে পৌঁছেছে। অন্যদিকে, পিএম১০-এর মাত্রা সর্বোচ্চ প্রতি ঘনমিটারে ১১৪ মাইক্রোগ্রাম রেকর্ড করা হয়েছে। দূষণমাত্রার দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চাঁদপাই রেঞ্জ। সেখানে পিএম২.৫-এর ঘনত্ব প্রতি ঘনমিটারে ৮৯ দশমিক ৩ মাইক্রোগ্রাম এবং পিএম১০-এর ঘনত্ব ৯৮ দশমিক ১ মাইক্রোগ্রাম পাওয়া গেছে। অধ্যাপক মনিরুল বলেন, বনের আশপাশে ভারী শিল্পকারখানা ও সিমেন্ট কারখানার বিস্তার বায়ুর গুণগত মানের অবনতির জন্য সরাসরি দায়ী। তিনি বলেন, ‘শিল্পদূষণ ধীরগতির বিষের মতো কাজ করে। এর প্রভাব ক্রমে জমা হতে থাকে এবং দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতি বাড়ায়। ফলে ভয়াবহ ক্ষতির লক্ষণ তাৎক্ষণিকভাবে বা স্পষ্টভাবে দেখা নাও যেতে পারে।’ সিইজিআইএসের সাবেক নির্বাহী পরিচালক মালিক ফিদা এ খান বলেন, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে দ্রুত শিল্পায়নের ফলে সংলগ্ন বনাঞ্চলের বায়ুর গুণগত মান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, সিমেন্ট কারখানায় কাঁচামাল ক্লিংকার প্রক্রিয়াজাত করার সময় বিপুল পরিমাণ সূক্ষ্ম ধুলিকণা (পিএম১০) ও শ্বাসের সঙ্গে ফুসফুসে প্রবেশ করতে সক্ষম বিপজ্জনক কণা (পিএম২.৫) নির্গত হয়। প্রচলিত বাতাসের প্রবাহ এসব দূষণকারী উপাদানকে বনাঞ্চলের দিকে নিয়ে যেতে পারে। দূষণের সব উৎস শনাক্ত করার জরুরি প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ফিদা এ খান বলেন, ‘সুন্দরবনের চারপাশে পরিচালিত উচ্চমাত্রার দূষণকারী সিমেন্ট কারখানাগুলো অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া বা বন্ধ করা না গেলে এই ঝুঁকিপূর্ণ ম্যানগ্রোভ বন রক্ষা করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।’ অধ্যাপক মনিরুলের উদ্বেগের সঙ্গে একমত পোষণ করে তিনি বলেন, বিষাক্ত বস্তুকণা নীরবে উদ্ভিদরাজির ক্ষতি করছে। বাস্তুতন্ত্রের বিপর্যয়ের প্রকৃত ব্যাপকতা হয়তো আরও এক দশক পর স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হবে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সিইজিআইএস-আরণ্যক ফাউন্ডেশনের যৌথ গবেষণায় দীর্ঘমেয়াদি বায়ুমান পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র অবিলম্বে স্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে বিশেষভাবে পিএম২.৫ ও সালফার ডাই-অক্সাইডের (এসও২) মাত্রা পর্যবেক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া শিল্পকারখানা থেকে নির্গত দূষণকারী উপাদান কীভাবে সংরক্ষিত বনাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে, তা নির্ভুলভাবে বিশ্লেষণ ও পূর্বাভাস দেওয়ার জন্য তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, বাতাসের গতি এবং বৃষ্টিপাতের ধরনসহ আবহাওয়াসংক্রান্ত তাৎক্ষণিক তথ্য পর্যবেক্ষণব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার কথাও গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশ অংশে সুন্দরবনের আয়তন প্রায় ৬ হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটার। ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃত এই বন সমৃদ্ধ ও বিশেষ বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন বাস্তুতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ আশ্রয়স্থল। এখানে বিভিন্ন প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী, সরীসৃপ, পাখি ও জলজ প্রাণীর বসবাস। কেআর/

স্পিনিং শিল্পের রপ্তানি সক্ষমতা নিশ্চিতে তথ্যভিত্তিক নীতির আহ্বান বিটিএমএ’র
স্পিনিং শিল্পের রপ্তানি সক্ষমতা নিশ্চিতে তথ্যভিত্তিক নীতির আহ্বান বিটিএমএ’র

বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) ১০–৩০ কাউন্টের কটন সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারসংক্রান্ত বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। সংস্থাটি রবিবার (১৮ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই বিষয়ে যেকোনো নীতিগত মূল্যায়নে প্রাইমারি টেক্সটাইল বিশেষত স্পিনিং শিল্পের ৩২ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ, উৎপাদন সক্ষমতা ও কর্মসংস্থানের পাশাপাশি রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাকশিল্পের কাঁচামাল প্রাপ্তি এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা সমান গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের অর্থ সুতা আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ নয় এবং নতুন কোনো শুল্ক আরোপও নয়। আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সংশ্লিষ্ট আদেশে নতুন কোন শুল্ক/কর আরোপ না করে শুধুমাত্র প্রযোজ্য শুল্ক/করের সমপরিমাণ ব্যাংক গ্যারান্টির ভিত্তিতে আমদানির সুযোগ রাখা হয়েছে। সাধারণত ব্যাংকসমূহ নন ফান্ডেড এক্সপোজার থেকে ব্যাংক গ্যারান্টি ইস্যু করে বিধায় আমদানিকারকের ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল সংকোচনের কোনো সম্ভাবনা নেই। এই ব্যবস্থার উদ্দেশ্য বৈধ আমদানি ও রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত করা নয়; বরং সুবিধার অপব্যবহার প্রতিরোধ, সরকারি রাজস্ব সুরক্ষা এবং দেশীয় ও আমদানিকৃত সুতার মধ্যে ন্যায্য প্রতিযোগিতার পরিবেশ নিশ্চিত করা। দেশের স্পিনিং শিল্পে উল্লেখযোগ্য দেশীয় বিনিয়োগের পাশাপাশি বিস্তৃত উৎপাদন অবকাঠামো ও বিপুল কর্মসংস্থান জড়িত। শিল্পটির উৎপাদন ও আর্থিক সক্ষমতা পুনরুদ্ধার করা গেলে বন্ধ ও আংশিক বন্ধ স্পিনিং ও উইভিং মিল পুনরায় চালু করা সম্ভব হবে; বিদ্যমান কর্মসংস্থান সুরক্ষার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও সম্প্রসারিত হবে। শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম স্বাভাবিক হলে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ পুনরুদ্ধার এবং খেলাপি ঋণের চাপ কমাতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। সুতরাং এই বিষয়ের সঙ্গে শুধু একটি শিল্পখাতের স্বার্থ নয়, বিনিয়োগ সুরক্ষা, আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা ও জাতীয় অর্থনৈতিক স্বার্থও সম্পৃক্ত। ব্যাংক গ্যারান্টিভিত্তিক আমদানি ব্যবস্থায় আমদানিকৃত সুতা অনুমোদিত উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়েছে কি না, তা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট আমদানিকারকের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার সুযোগ রয়েছে। নির্ধারিত সময়ে রপ্তানির প্রমাণসহ প্রয়োজনীয় দলিল দাখিল না করা হলে প্রযোজ্য বিধি অনুযায়ী গ্যারান্টি নগদায়নের ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। এতে অননুমোদিতভাবে স্থানীয় বাজারে পণ্য বিক্রির ঝুঁকি হ্রাস এবং সরকারি রাজস্ব সুরক্ষার সুযোগ সৃষ্টি হবে। একইভাবে, রপ্তানি সম্পন্ন হওয়া এবং প্রযোজ্য বিধি অনুযায়ী রপ্তানি আয় দেশে প্রত্যাবাসনের তথ্য যাচাই সাপেক্ষে গ্যারান্টি অবমুক্ত করা হলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আরও জোরদার হবে। যথাযথ ডিজিটাল নজরদারি ও ঝুঁকিভিত্তিক নিরীক্ষার মাধ্যমে বৈধ রপ্তানি কার্যক্রম সচল রেখেই অপব্যবহার প্রতিরোধ করা সম্ভব। দেশীয় সুতার মূল্যবৃদ্ধি কিংবা ভারত ও মিসরসহ প্রতিযোগী দেশে তৈরি পোশাকের ক্রয়াদেশ স্থানান্তরসংক্রান্ত দাবিগুলো নির্ভরযোগ্য ও তুলনাযোগ্য তথ্য দিয়ে যাচাই করা জরুরি। দেশীয় ও আমদানিকৃত সমজাতীয় সুতার প্রকৃত ক্রয় ব্যয় নির্ধারণে পণ্যের মান ও বৈশিষ্ট্যের পাশাপাশি পরিবহন ব্যয়, প্রযোজ্য শুল্ক-কর, ব্যাংক চার্জ, অর্থায়ন ব্যয় ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ বিবেচনায় আনতে হবে। আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের ক্রয়াদেশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত শুধু সুতার মূল্যের ওপর নির্ভরশীল নয়; উৎপাদনশীলতা, মান, প্রযুক্তি, তৈরি পোশাক কারখানার সক্ষমতা, সরবরাহের নির্ভরযোগ্যতা এবং নির্ধারিত সময়ে পণ্য সরবরাহের মতো বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ। তাই যাচাইযোগ্য তথ্য ছাড়া একটি নীতিগত সিদ্ধান্তকে ক্রয়াদেশ স্থানান্তরের একমাত্র কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা সমীচীন হবে না। দেশীয় প্রাইমারি টেক্সটাইল বিশেষত স্পিনিং শিল্পের বিনিয়োগ ও সক্ষমতা সুরক্ষা এবং রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাকশিল্পের জন্য সময়মতো প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে কাঁচামাল সরবরাহ—এই দুটি লক্ষ্য পরস্পরবিরোধী নয়। ভারসাম্যপূর্ণ নীতি, স্বচ্ছ বাস্তবায়ন এবং কার্যকর নজরদারি উভয় খাতের টেকসই বিকাশে সহায়ক হতে পারে। দেশের শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান, রাজস্ব সুরক্ষা এবং এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বিবেচনায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের সংশ্লিষ্টদের বিবেচনার জন্য বিটিএমএ আবেদন জানিয়েছে। বর্তমান আমদানি ব্যবস্থা বহাল: ১০–৩০ ইংলিশ কাউন্ট, অর্থাৎ আনুমানিক ১৬.৯৩–৫০.৮০ মেট্রিক কাউন্ট, কটন সুতার ক্ষেত্রে প্রচলিত বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত বহাল রেখে প্রকৃত রপ্তানিকারকদের জন্য ব্যাংক গ্যারান্টিভিত্তিক আমদানি ব্যবস্থা অব্যাহত রাখা। স্থানীয় মূল্য সংযোজনের বাস্তবসম্মত নীতিকাঠামো: নন-বন্ডেড শিল্পের ব্যাংক গ্যারান্টিভিত্তিক কাঁচামাল আমদানিতে ৩০ শতাংশ স্থানীয় মূল্য সংযোজনের শর্ত পুনর্বহালের বিষয়টি বাস্তবায়ন করা। এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের প্রস্তুতি হিসেবে ডব্লিউটিও-র বিধান, রুলস অব অরিজিন এবং সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে টু-স্টেজ ট্রান্সফরমেশন সংক্রান্ত শর্ত বিবেচনায় নিয়ে এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী সময়ের জন্য পর্যায়ক্রমে ন্যূনতম ৪০-৬০ শতাংশ স্থানীয় মূল্য সংযোজন অর্জনের উপযোগী নীতিকাঠামো প্রণয়ন করা। পরিশেষে বলা হয়েছে, এই আবেদনগুলো যথাযথভাবে পর্যালোচনা ও বাস্তবায়ন করা হলে দেশীয় স্পিনিং শিল্পের বিনিয়োগ ও উৎপাদন সক্ষমতা সংরক্ষণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ব্যাংকঋণ পুনরুদ্ধার এবং রপ্তানি প্রবৃদ্ধির অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে সহায়তা মিলতে পারে। বিটিএমএ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে একটি স্বচ্ছ, ভারসাম্যপূর্ণ ও দীর্ঘমেয়াদি নীতিকাঠামো প্রণয়নের আহ্বান জানায়। একই সঙ্গে জাতীয় অর্থনৈতিক স্বার্থ বিবেচনায় প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করে নীতিগত সিদ্ধান্ত ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে যথাযথ নির্দেশনা প্রদানে সরকারের সহযোগিতা কামনা করে। /কেআর/ এমএএইচ/