Advertisement(970X90).png
Advertisement(300X90).png

১৫ কার্তিক ১৪৩৩, ১৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

অর্থনীতি ও বাণিজ্য প্রস্তুতিতে বাড়তি ৩ বছর সময় পেলো বাংলাদেশ
অর্থনীতি ও বাণিজ্য প্রস্তুতিতে বাড়তি ৩ বছর সময় পেলো বাংলাদেশ

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১ টায় গৃহীত এই সিদ্ধান্তের পেছনে বাংলাদেশের পক্ষে উরুগুয়ের উত্থাপিত একটি প্রস্তাব কাজ করেছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ হিসেবে বাংলাদেশের উত্তরণের প্রস্তুতিমূলক সময়সীমা আরও ৩ বছর বাড়ানো হলো। একই সঙ্গে সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া, আন্তর্জাতিক সহায়তায় নির্বিঘ্ন উত্তরণ কৌশল বাস্তবায়ন এবং প্রতিবছর উন্নয়ন নীতিবিষয়ক কমিটির (সিডিপি) কাছে অগ্রগতির প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ৮১তম অধিবেশনে নেপালের প্রস্তুতির সময়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাবও অনুমোদন করা হয়। রপ্তানি খাতে স্বস্তির আশা এলডিসি উত্তরণের সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য স্বস্তির খবর হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাজারে শুল্কমুক্ত ও অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধা হারানোর ঝুঁকি রয়েছে। বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে প্রস্তুতির জন্য অতিরিক্ত সময় চেয়ে আসছিলেন। জাতিসংঘের সিদ্ধান্তকে বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের জন্য সুখবর উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাড়তি সময় অবকাঠামো ও লজিস্টিকস খাতের উন্নয়ন এবং প্রয়োজনীয় দেশগুলোর সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের কাজে ব্যবহার করতে হবে। তবে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডির বিশেষ ফেলো ফাহমিদা খাতুন মনে করেন, শুধু উত্তরণের সময়সীমা বাড়ালেই অর্থনীতি প্রতিযোগিতাসক্ষম হবে না। এই জন্য বাণিজ্য, রাজস্ব আহরণ, ব্যাংকিং ও অবকাঠামো খাতে কার্যকর সংস্কার প্রয়োজন। কেন সময় বাড়ানোর আবেদন করেছিলো বাংলাদেশ বৈশ্বিক অর্থনীতির অনিশ্চয়তা, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের পরিবর্তন, জ্বালানি ও সরবরাহব্যবস্থার ঝুঁকি এবং দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় নিয়ে সময় বাড়ানোর উদ্যোগ নেয় সরকার। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির (ইউএন-সিডিপি) কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করে বাংলাদেশ। পরে ইউএন-সিডিপি আবেদনটি ইতিবাচকভাবে বিবেচনার সুপারিশ করে। গত ২১ জুলাই জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (ইকোসক) সাধারণ পরিষদকে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুপারিশ পাঠায়। নতুন সময়সীমার কারণে সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন সহযোগী ও বাণিজ্য অংশীদারদের নিয়ম অনুযায়ী অতিরিক্ত প্রস্তুতিমূলক সময়ে এলডিসি-সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সহায়তা ও বাণিজ্য সুবিধা ধরে রাখার সুযোগ পাবে বাংলাদেশ। ১৯৭৫ সালের ডিসেম্বরে জাতিসংঘের এলডিসি তালিকাভুক্ত হয় বাংলাদেশ। পরবর্তী সময়ে কৃষি, শিল্প, পোশাক রপ্তানি, রেমিট্যান্স, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের অগ্রগতির ফলে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জন করে দেশটি। ২০১৮ ও ২০২১ সালের পরপর দুটি পর্যালোচনায় মাথাপিছু জাতীয় আয়, মানবসম্পদ সূচক এবং অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত ভঙ্গুরতা সূচক—এই তিনটি মানদণ্ড পূরণ করে বাংলাদেশ। ২০২১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি ইউএন-সিডিপি বাংলাদেশের উত্তরণের সুপারিশ করে। একই বছরের ৮ জুন ইকোসক এবং ২৪ নভেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ সেই সুপারিশ অনুমোদন করে। কোভিড-১৯ মহামারির অর্থনৈতিক প্রভাব বিবেচনায় বাংলাদেশকে স্বাভাবিক ৩ বছরের পরিবর্তে ৫ বছরের প্রস্তুতিমূলক সময় দেওয়া হয়েছিলো। সে অনুযায়ী উত্তরণের তারিখ নির্ধারিত ছিলো ২০২৬ সালের ২৪ নভেম্বর। উত্তরণের পর যেসব চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বাংলাদেশ এলডিসি হিসেবে বাংলাদেশ ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও জাপানসহ কয়েকটি বড় রপ্তানি বাজারে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধা পেয়ে থাকে। উত্তরণের পর এসব সুবিধার পরিবর্তন হলে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়তে পারে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতার ওপর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে এই পরিবর্তনের মাত্রা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট বাণিজ্য অংশীদারদের নীতি ও অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থার ওপর। বাণিজ্য ও উন্নয়নবিষয়ক জাতিসংঘ সম্মেলন (আঙ্কটাড) ২০২৫ সালের এক বিশ্লেষণে বলেছিলো, বাণিজ্য সুবিধা হারালে বাংলাদেশের মোট রপ্তানি প্রায় ৩২ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে। তবে এটি সম্ভাব্য প্রভাবের একটি প্রাক্কলন, নিশ্চিত ফলাফল নয়। বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তফা আবিদ খান বলেন, উত্তরণের সময়সীমা পিছিয়ে দেওয়ায় বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ পেয়েছে। বিশেষ করে মেধাস্বত্বসংক্রান্ত ক্ষেত্রে আরও ৩ বছর সময় পাওয়া যাবে। বাংলাদেশ এখনো কোনো মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করতে পারেনি। তাই এই ধরনের চুক্তি সম্পাদন এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কারের জন্য বাড়তি সময় কাজে লাগানো উচিত। তিনি বলেন, বর্তমান ব্যবস্থায় ব্যবসা-বাণিজ্য চলতে থাকলেও বাংলাদেশ অনেক সুবিধা হারাবে। তাই বাড়তি সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়ন করতে না পারলে একই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে। পোশাক ও ওষুধশিল্পে বাড়তি ঝুঁকি বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের বড় অংশ আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। অগ্রাধিকারমূলক শুল্ক সুবিধার পরিবর্তন হলে এই খাতের পণ্যের দাম বাড়তে পারে। এতে ক্রয়াদেশ, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের ওপর চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই ঝুঁকি কমাতে উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, পণ্যের মান উন্নয়ন, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধির প্রয়োজন হবে। এলডিসি হিসেবে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মেধাস্বত্ব বিধিমালার আওতায় কিছু বিশেষ ছাড় পেয়ে থাকে। উত্তরণের পর এসব সুবিধার পরিবর্তন ওষুধশিল্পে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে পেটেন্টযুক্ত ওষুধ উৎপাদন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং গবেষণা ব্যয়ের ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে। উন্নয়ন অর্থায়নও উদ্বেগের একটি বিষয়। উত্তরণের পর এলডিসি-নির্দিষ্ট কিছু সহায়তা ও সহজ শর্তের ঋণ ব্যবস্থায় পরিবর্তন আসতে পারে। তবে উত্তরণের অর্থ এই নয় যে সব অনুদান বা সহজ শর্তের ঋণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। এই পরিস্থিতিতে অবকাঠামো, জ্বালানি ও সামাজিক উন্নয়নে অর্থায়ন অব্যাহত রাখতে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আদায় বাড়ানো, সরকারি ব্যয়ের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং টেকসই ঋণ ব্যবস্থাপনা জরুরি। ২০২৯ সালের আগে যেসব সংস্কার জরুরি অতিরিক্ত ৩ বছরকে কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে বিনিয়োগ আকর্ষণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি এবং আর্থিক খাতের সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে প্রধান রপ্তানি বাজারগুলোর সঙ্গে বিকল্প বাণিজ্য সুবিধা নিয়ে আলোচনা এবং মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। ব্যবসা পরিচালনার খরচ কমাতে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বন্দর ও কাস্টমস সেবার উন্নয়ন এবং রপ্তানি সরবরাহব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা বাড়ানোর ওপরও জোর দিয়েছেন বিশ্লেষকেরা। তাদের মতে, তৈরি পোশাকের পাশাপাশি ওষুধ, চামড়াজাত পণ্য, প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্য, হালকা প্রকৌশল পণ্য ও ইলেকট্রনিকস খাতে রপ্তানি বাড়াতে হবে। বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নয়ন, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা দূর করা, নতুন প্রযুক্তি গ্রহণ এবং দক্ষ কর্মীবাহিনী গড়ে তোলাও জরুরি। ফাহমিদা খাতুন বলেন, উত্তরণের পর শুল্ক ও অন্যান্য বাণিজ্য সুবিধার সম্ভাব্য পরিবর্তন মোকাবিলায় ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ প্রধান রপ্তানি বাজারগুলোর সঙ্গে আগেভাগেই আলোচনা শুরু করা উচিত। পাশাপাশি তৈরি পোশাকের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ওষুধ, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, চামড়া, হালকা প্রকৌশল, পাটজাত পণ্য ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে রপ্তানি বৈচিত্র্য আনতে হবে। তিনি আরও বলেন, করের আওতা বাড়ানো, ব্যাংকিং খাতে সুশাসন নিশ্চিত করা, ব্যবসার খরচ কমানো এবং দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা প্রয়োজন। এই জন্য স্পষ্ট সময়সীমা ও পরিমাপযোগ্য লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে সংস্কার পরিকল্পনা নিতে হবে। জবাবদিহি নিশ্চিত করতে প্রতি ৬ মাস পরপর অগ্রগতি পর্যালোচনা ও প্রকাশের পরামর্শও দেন তিনি। /শান্ত/

২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ফের বাড়লো স্বর্ণের দাম
২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ফের বাড়লো স্বর্ণের দাম

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে নতুন এই দাম কার্যকর হয়েছে বলে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। স্থানীয় বাজারে তেজাবী স্বর্ণের (পাকা স্বর্ণ) দাম বাড়ার কারণে এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে বলে উল্লেখ করে সংগঠনটি। নতুন নির্ধারিত দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৬৩৩ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ২৪ হাজার ৭০৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৫৭৫ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ১৪ হাজার ৬১৮ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ হাজার ৩৪১ টাকা বাড়িয়ে ১ লাখ ৮৪ হাজার ২৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ১০৮ টাকা বাড়িয়ে ১ লাখ ৫০ হাজার ৫৮২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে, বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করে বাজুস। সেই সময় প্রতি ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়ানো হয়। ফলে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ২৩ হাজার ৭৪ টাকা। একই সময়ে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ১৩ হাজার ৪৩ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৮২ হাজার ৯৫০ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৭৪ টাকা। চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম মোট ১২৮ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬২ দফা দাম বাড়ানো হয়েছে, ৬৫ দফা কমানো হয়েছে এবং এক দফা ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। /এমএএইচ/

ভোজ্যতেলের দাম প্রসঙ্গে যা বললেন বাণিজ্যমন্ত্রী
ভোজ্যতেলের দাম প্রসঙ্গে যা বললেন বাণিজ্যমন্ত্রী

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই। বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে সচিবালয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সার্বিক সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যালোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই কথা বলেন। আসন্ন রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক ও বাজার স্থিতিশীল রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী। খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়া-কমার ওপর আমদানির্ভর পণ্যের দেশীয় বাজারদর অনেকটাই নির্ভরশীল। আগামী রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের কোনো ঘাটতি যাতে না হয়, সে লক্ষ্যেই আগাম প্রস্তুতি ও সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সরকার বাজার স্থিতিশীল রাখতে কাজ করছে। ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ মালয়েশিয়ার সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন হবে বলেও জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। /এমএএইচ/

‘কাজের মাধ্যমে যোগ্যতার প্রমাণ দিতে হবে’
‘কাজের মাধ্যমে যোগ্যতার প্রমাণ দিতে হবে’

মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে তাঁকে অভিনন্দন জানাতে ব্যাংকের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ভিড় করেন। এই সময় সোনালী ব্যাংকের জাতীয়তাবাদী ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। কর্মকর্তাদের উদ্দেশে শওকত আলী খান বলেন, কাজের মাধ্যমে নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দিতে হবে। ব্যাংকের উন্নয়ন, সেবার মান বৃদ্ধি এবং গ্রাহকদের আস্থা অর্জনে সবাইকে আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে ব্যাংকের স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে হবে। তিনি বলেন, সোনালী ব্যাংক দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক। এই ব্যাংকের সঙ্গে দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের স্বার্থ জড়িত। তাই ব্যাংকের সুনাম রক্ষা, গ্রাহকসেবা নিশ্চিত করা এবং আর্থিক কার্যক্রমে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রত্যেক কর্মকর্তাকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। শওকত আলী খান আরও বলেন, শুধু পদ-পদবি দিয়ে নয়, কাজের দক্ষতা, সততা ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে হবে। ব্যাংকের লক্ষ্য অর্জনে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। এদিকে, অনুষ্ঠানে ব্যাংক কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে পদোন্নতি ও পদায়নসংক্রান্ত ৪টি দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর বিষয়ে শওকত আলী খান একমত পোষণ করেন বলে কর্মকর্তারা জানান। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—পদোন্নতিতে ২:১ ক্রাইটেরিয়া চালু, যুগ্ম জিম্মাদার (ক্যাশ) ও যুগ্ম জিম্মাদার (সাধারণ) পদে চাবির পয়েন্ট পুনর্বহাল, শাখা ব্যবস্থাপকদের জন্য নির্ধারিত পয়েন্ট শুধু ফিডার পদে সীমাবদ্ধ না রেখে অন্তত তিনটি পদোন্নতিতে কার্যকর করা এবং মন্ত্রণালয়ে প্রেষণে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের জন্য নির্ধারিত পয়েন্ট পদ্ধতি বাতিল। এ ছাড়া শাখা ও প্রধান কার্যালয়ে কর্মরত কর্মকর্তাদের জন্য সমান পয়েন্ট পদ্ধতি চালুর বিষয়েও আলোচনা হয়। এই সময় সোনালী ব্যাংক জাতীয়তাবাদী ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, শাখা সভাপতি শাহ জাহান সিরাজ, সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম, কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ইদ্রিস মিয়া এবং ডিজিএম সানোয়ার হোসেন, ডিজিএম আসলাম হোসেন ও এজিএম নকিব উদ্দীনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। /এমএএইচ/

৭ নভেম্বর দেশের সব তফসিলি ব্যাংক বন্ধ
৭ নভেম্বর দেশের সব তফসিলি ব্যাংক বন্ধ

সার্কুলারে বলা হয়েছে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ৭ অক্টোবর জারি করা প্রজ্ঞাপনের আলোকে সরকার ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। এই কারণে ওই দিন বাংলাদেশে কার্যরত সব তফশিলি ব্যাংক বন্ধ থাকবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, সরকারি ছুটির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এদিকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের গত ৭ অক্টোবরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সরকার ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে। এই প্রজ্ঞাপনের আলোকেই দেশে কার্যরত সব তফসিলি ব্যাংক বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। /এসআই/

৩৬ জেলায় একদিনে জরিমানা ৭ লাখ ৯৬ হাজার টাকা
৩৬ জেলায় একদিনে জরিমানা ৭ লাখ ৯৬ হাজার টাকা

দেশের ৩৬টি জেলায় একযোগে পরিচালিত অভিযানে বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে ১০১টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে মোট ৭ লাখ ৯৬ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অধিদপ্তরের ৫২টি বিশেষ দল দেশের বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা বাজারে এই অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিলো ভোজ্যতেল, পেঁয়াজ, আদা, রসুনসহ রান্নার প্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহে প্রতিবন্ধকতা রোধ করা। এই সময় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ক্রয়-বিক্রয়ের ভাউচার, দৃশ্যমান স্থানে হালনাগাদ মূল্যতালিকা প্রদর্শন এবং পণ্যের সঠিক ওজন নিশ্চিত করার বিষয়গুলো যাচাই করা হয়। অভিযানকালে ব্যবসায়ীদের মূল্যতালিকা প্রদর্শন, ডিজিটাল ওজনে পণ্য বিক্রি এবং ক্রয়-বিক্রয়ের যথাযথ নথিপত্র সংরক্ষণের নির্দেশনা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে অযৌক্তিক মজুতদারি ও পণ্যের সরবরাহ বাধাগ্রস্ত করার মতো অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়। বাজারে সচেতনতা বাড়াতে ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিতরণ করা হয় সচেতনতামূলক লিফলেট। অভিযানে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্বাস্থ্য পরিদর্শক, কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এবং বণিক সমিতির প্রতিনিধিরা সহযোগিতা করেন। এদিকে ভোক্তাদের আতঙ্কিত হয়ে প্রয়োজনের অতিরিক্ত পণ্য কেনা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে অধিদপ্তর। কেনাকাটার সময় পণ্যের মেয়াদ ও সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (এমআরপি) যাচাই এবং অবশ্যই ক্যাশমেমো বা ক্রয়ভাউচার সংগ্রহের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পণ্য কেনাবেচায় প্রতারণা, মূল্য কারসাজি বা অন্য কোনো অনিয়মের শিকার হলে অধিদপ্তরের হটলাইন ১৬১২১ নম্বরে অভিযোগ জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। বাজারে পণ্যের স্বাভাবিক সরবরাহ ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে এ ধরনের তদারকি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর। /এসআই/

অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে এডিপি বাস্তবায়নের হার ৩.৮৯ শতাংশ
অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে এডিপি বাস্তবায়নের হার ৩.৮৯ শতাংশ

রবিবার (২৫ অক্টোবর) বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আগের ২০২৫-২৬ ও ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিলো যথাক্রমে ৫.০৯ এবং ৪.৭৫ শতাংশ। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও সরকার পতনের পর প্রশাসনে সৃষ্ট অস্থিরতা এবং পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় প্রকল্প পর্যালোচনার কারণে টানা দুই অর্থবছর ধরেই এডিপি বাস্তবায়নের গতি অনেকটাই মন্থর হয়ে পড়ে। অথচ স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে প্রথম প্রান্তিকে এডিপি বাস্তবায়নের গড় হার সাধারণত ৭ শতাংশের ওপরে থাকে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এর আগে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে এই বাস্তবায়নের হার ছিলো ৭.৫০ শতাংশ এবং ২০২২-২৩ অর্থবছরে তা ছিলো ৮.৫৫ শতাংশ। /এসআই/এমএএইচ/