Advertisement(970X90).png
Advertisement(300X90).png

১৫ কার্তিক ১৪৩৩, ১৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

নতুন পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি: অর্থ মন্ত্রণালয়ের ৮ নির্দেশনা
নতুন পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি: অর্থ মন্ত্রণালয়ের ৮ নির্দেশনা

চলতি বছরের ১ জুলাই থেকেই কার্যকর হয়েছে নবম জাতীয় পে-স্কেল। এই প্রেক্ষাপটে সরকারি কিংবা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও অন্যান্য অর্থলগ্নি প্রতিষ্ঠানে অসামরিক পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া এবং নতুন করে নিয়োগ পেতে যাওয়া কর্মীদের বেতন-ভাতা কীভাবে ঠিক হবে, তা স্পষ্ট করেছে সরকার। এই বিষয়ে সম্প্রতি ৮টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে যুগ্মসচিব শরীফ নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এই সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বিগত ১ জুলাই থেকে জাতীয় বেতনস্কেল, ২০২৬ কার্যকর হওয়ায় সরকারি বা স্ব-শাসিত প্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও অর্থলগ্নী প্রতিষ্ঠানসহ প্রজাতন্ত্রের বিভিন্ন অসামরিক পদে জনস্বার্থে যাঁরা চুক্তিভিত্তিক নিয়োজিত হয়েছেন বা হবেন, তাঁদের বেতন ভাতা ও অন্যান্য সুবিধাদি নির্ধারণ বিষয়ে সরকার নিম্নবর্ণিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে- ১. ২০২৬ সালের ১ জুলাইয়ের পূর্বে জাতীয় বেতনস্কেল, ২০১৫ এর আওতাভুক্ত বিভিন্ন গ্রেডে চুক্তিভিত্তিক নিয়োজিত কর্মচারীগণের মধ্যে যাঁদের চুক্তির মেয়াদ গত ১ জুলাইয়ের পরবর্তী সময় পর্যন্ত অব্যাহত আছে, সরকারের সঙ্গে চুক্তি সংশোধন সাপেক্ষে তাঁদের ক্ষেত্রে জাতীয় বেতনস্কেল, ২০২৬ অনুযায়ী বেতন নির্ধারণের নিয়ম অনুসরণপূর্বক ১ জুলাই হতে তাঁদের বেতন অনুরূপ গ্রেড ও ধাপে নির্ধারিত হবে। তাঁরা ১ জুলাই থেকে চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬-এর অনুচ্ছেদ ১(৩)(ক), ১ (৩)(খ), ১ (৩)(গ) [বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি অংশ ব্যতীত] এবং ১(৩)(ঞ) অনুযায়ী বর্ধিত হারে বেতন এবং সরকারের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ভাতাদি প্রাপ্য হবেন। ২. ১ জুলাইয়ের পরে যাঁরা চুক্তিভিত্তিক পদে নিয়োজিত হয়েছেন বা হবেন তাঁদের ক্ষেত্রে অবসর গ্রহণের অব্যবহিত পূর্বে জাতীয় বেতনস্কেলের যে গ্রেড ও ধাপে মূল বেতন প্রাপ্ত হতেন জাতীয় বেতনস্কেল, ২০২৬-এর অনুরূপ গ্রেড ও ধাপের বেতন চুক্তিভিত্তিক নিয়োজিত পদের বেতন হিসেবে নির্ধারিত হবে (বিদ্যমান চুক্তি, যদি থাকে, সংশোধন সাপেক্ষে) এবং চুক্তি অনুযায়ী যোগদানের তারিখ থেকে চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬-এর অনুচ্ছেদ ১(৩) (ক), ১ (৩)(খ), ১(৩)(গ) [বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি অংশ ব্যতীত] এবং ১(৩)(ঞ) অনুযায়ী বর্ধিত হারে বেতন এবং সরকারের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী তাঁদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ভাতাদি প্রাপ্য হবেন। বিশেষ ক্ষেত্রে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত অথবা উভয় পক্ষের সম্মতিতে সরকারের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত বেতনই হবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োজিত পদের বেতন। ৩. চুক্তিভিত্তিক নির্ধারিত বেতন হতে নির্ধারিত গ্রস পেনশন (কম্যুটেশন/সমর্পণ করার পূর্বের অংক) এবং বিশেষ অতিরিক্ত পেনশন, যদি থাকে, বাদ যাবে না। 8. চুক্তিভিত্তিক নিয়োগকালীন চাকরির জন্য কোনো ইনক্রিমেন্ট, আনুতোষিক, বর্ধিত পেনশন প্রদেয় হবে না। ৫. অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী ব্যতীত অন্যান্যদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের ক্ষেত্রে বেতন-ভাতা ইত্যাদি সংক্রান্ত শর্তাবলি- যথারীতি প্রতিক্ষেত্রে গুণাগুণ বিবেচনা করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও অর্থ বিভাগের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে স্থির করা হবে এবং তদনুযায়ী চুক্তিপত্র সম্পাদিত হবে। ৬. এই প্রজ্ঞাপনের পরিপন্থি পূর্ববর্তী সকল আদেশ বা স্মারক নির্দেশাবলীর সংশ্লিষ্ট অংশ বাতিল বলে গণ্য হবে, তবে এ প্রজ্ঞাপনের সাথে সংগতিপূর্ণ পূর্বের জারীকৃত সকল স্মারক বলবৎ থাকবে। ৭. বেতন-ভাতা সম্পর্কে এ প্রজ্ঞাপনে যা উল্লেখ করা হয়েছে তা সত্ত্বেও চুক্তি মোতাবেক প্রদেয় বেতন, ভাতা ইত্যাদির ক্ষেত্রে সরকার কর্তৃক পরবর্তীকালে সময়ে সময়ে জারিকৃত আদেশ প্রযোজ্য হবে। ৮. অর্থ বিভাগের ২৬/০১/২০১৬ তারিখ জারিকৃত প্রজ্ঞাপন বাতিলক্রমে এ প্রজ্ঞাপন জারি করা হলো এবং এটি গত ১ জুলাই কার্যকর হয়েছে মর্মে গণ্য হবে। /এসআই/

চুক্তিভিত্তিক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণে নতুন প্রজ্ঞাপন
চুক্তিভিত্তিক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণে নতুন প্রজ্ঞাপন

নতুন জাতীয় বেতন স্কেল (নবম পে-স্কেল) অনুযায়ী চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নির্ধারণের নিয়ম ঠিক করে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। বুধবার (২৮ অক্টোবর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ এই প্রজ্ঞাপনটি প্রকাশ করে, যা গত ১ জুলাই ২০২৬ তারিখ থেকে কার্যকর করা হয়েছে। অর্থ বিভাগের যুগ্ম সচিব শরীফ নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এই প্রজ্ঞাপনে ১ জুলাই ২০২৬ সালের আগে ও পরে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য পৃথক পৃথক নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। একই সঙ্গে ২০১৬ সালের ২৬ জানুয়ারি জারি করা এই সংক্রান্ত পূর্ববর্তী প্রজ্ঞাপনটি বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন ঘোষিত নবম জাতীয় বেতন স্কেলের আওতায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্তদের বেতন-ভাতা নির্ধারণের নতুন নীতিমালা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এই প্রজ্ঞাপনে বর্ণিত নতুন নিয়মাবলী ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ভূতাপেক্ষভাবে কার্যকর বলে গণ্য হবে। অর্থ বিভাগ কর্তৃক ২০১৬ সালের ২৬ জানুয়ারি জারি করা এ-সংক্রান্ত পুরাতন প্রজ্ঞাপনটি সম্পূর্ণরূপে বাতিল করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনের আওতাভুক্ত সকল চুক্তিভিত্তিক কর্মকর্তার বিদ্যমান চুক্তিপত্র নতুন নিয়ম অনুযায়ী সংশোধন করতে হবে। ১ জুলাই ২০২৬ তারিখের পূর্ব থেকে যারা চুক্তিভিত্তিক কর্মরত আছেন এবং এই তারিখের পরেও যাঁদের চুক্তির মেয়াদ বহাল রয়েছে, তাঁদের জন্য বিদ্যমান চুক্তি সংশোধন করে নতুন জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী বেতন পুনর্নির্ধারণ করা হবে। ১ জুলাই ২০২৬ থেকে সংশ্লিষ্ট পদের গ্রেড ও ধাপ (Step) অনুযায়ী তাঁদের মূল বেতন নতুনভাবে নির্ধারণ করা হবে। তাঁরা চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬-এর নির্ধারিত বিধান অনুযায়ী তাঁরা নতুন স্কেলের বর্ধিত হারের বেতন সুবিধা পাবেন। নতুন স্কেলে বেতন পুনঃনির্ধারিত হলেও তাঁরা কোনো ধরনের বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি বা ইনক্রিমেন্টের সুবিধা পাবেন না। সংশোধিত চুক্তি অনুযায়ী প্রাপ্য অন্যান্য সকল প্রকার সুযোগ-সুবিধা ও ভাতা যথানিয়মে প্রদান করা হবে। ১ জুলাই ২০২৬ তারিখ বা তারপরে যাঁরা নতুন করে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন বা ভবিষ্যতে পাবেন, তাঁরা অবসরে যাওয়ার অব্যবহিত পূর্বে জাতীয় বেতন স্কেলের যে গ্রেড ও ধাপে সর্বশেষ মূল বেতন পেতেন, সেটিকে ভিত্তি ধরা হবে। অবসরের পূর্বের সেই গ্রেড ও ধাপকে নতুন বেতন স্কেলের সমমানের গ্রেড ও ধাপে রূপান্তর করে চুক্তিভিত্তিক পদের বেতন নির্ধারণ করা হবে। চুক্তি অনুযায়ী কর্মস্থলে যোগদানের তারিখ থেকে নির্ধারিত বিধান অনুসারে বর্ধিত হারে বেতন এবং প্রযোজ্য ভাতাদি প্রদান করা হবে। বিশেষ কোনো পদে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত বেতন অথবা সরকার ও নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তির পারস্পরিক সম্মতিতে চুক্তিতে যে বেতন নির্ধারিত হবে, সেটিই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে। চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের বিপরীতে নির্ধারিত মূল বেতন থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মোট পেনশন কোনোভাবেই কেটে নেওয়া বা বাদ দেওয়া যাবে না। পেনশনের মোট অঙ্ক হিসাবের ক্ষেত্রে কম্যুটেশন বা সমর্পণের আগের মূল পেনশনের অঙ্কটিকে বিবেচনা করা হবে। কর্মকর্তার যদি কোনো বিশেষ অতিরিক্ত পেনশন থাকে, তবে সেটিও চুক্তিভিত্তিক পদের বেতন থেকে মাইনাস বা বাদ দেওয়া যাবে না। চুক্তিভিত্তিক নিয়োগকালীন চাকরির মেয়াদের জন্য কোনো ধরনের বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট বা বেতন বৃদ্ধির সুবিধা পাওয়া যাবে না। চুক্তিভিত্তিক মেয়াদের সেবাপীঠের জন্য অতিরিক্ত কোনো আনুতোষিক (Gratuity) সুবিধা দাবি করা যাবে না। এই চুক্তিভিত্তিক কর্মকালীন সময়ের ওপর ভিত্তি করে ভবিষ্যতে কোনো বর্ধিত পেনশন বা অতিরিক্ত পেনশনের সুবিধা দেওয়া হবে না। /এমএএইচ/

নতুন পে-স্কেল এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য লাগবে ১৩ হাজার কোটি টাকা
নতুন পে-স্কেল এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য লাগবে ১৩ হাজার কোটি টাকা

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের ৩০ হাজার ৯৩২টি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত ৬ লাখ ২ হাজার ৩৫৯ জন শিক্ষক-কর্মচারীকে নতুন বেতন কাঠামোর আওতায় আনতে এই অর্থের প্রয়োজন হবে। এরমধ্যে বেতন ও ভাতা বাবদ ব্যয় ধরা হয়েছে ১২ হাজার ৫১৮ কোটি টাকা। বাকি অর্থ প্রয়োজন হবে পেনশন খাতে। সরকারি চাকরিজীবীদের মতো এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদেরও গত ১ জুলাই থেকে নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী বেতন-ভাতা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে তারা কবে থেকে এই সুবিধা পাবেন, তা এখনো নিশ্চিত নয়। অর্থ ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় চলতি ডিসেম্বরের মধ্যে সুবিধাটি চালুর চেষ্টা করছে বলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন। বর্তমানে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের পেছনে সরকার বছরে ১৯ হাজার ২২৭ কোটি টাকা ব্যয় করে। এর মধ্যে মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজের জন্য ১২ হাজার ৯৩০ কোটি, মাদ্রাসার জন্য ৫ হাজার ৫৩০ কোটি এবং কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য ৭৬৭ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। জাতীয় বেতন কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা প্রজাতন্ত্রের সরাসরি কর্মচারী না হওয়ায় তারা কমিশনের আওতাভুক্ত নন। তবে বেসরকারি শিক্ষা খাতের ব্যাপকতা বিবেচনায় তাদের বেতন কাঠামো নিয়েও ভাবার সুপারিশ করা হয়েছে। আন্তঃমন্ত্রণালয় আলোচনার মাধ্যমে তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। /শান্ত/