Advertisement(970X90).png
Advertisement(300X90).png

১৫ কার্তিক ১৪৩৩, ১৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

১০ মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর, মিললো নিখোঁজ মুক্তার দেহাবশেষ
১০ মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর, মিললো নিখোঁজ মুক্তার দেহাবশেষ

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে টুপটুপ রেস্তোরাঁ অ্যান্ড রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ১০ দিন পর নিখোঁজ স্কুলশিক্ষিকা নাসরিন আক্তার মুক্তার দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে রিসোর্টের ধ্বংসস্তূপ থেকে তাঁর দেহাবশেষ উদ্ধারের পর এই দুর্ঘটনায় মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ জনে। গলায় থাকা লকেট দেখে মুক্তাকে শনাক্ত করেন তাঁর স্বামী দেওয়ান ফয়সাল। একই দিনে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্ত হওয়া অন্য ১০ জনের মরদেহও স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঢাকার আশুলিয়ার স্বপ্নবিলাস নিরিবিলি স্কুলের শিক্ষিকা নাসরিন আক্তার মুক্তা দুই বান্ধবীর সঙ্গে কক্সবাজার বেড়াতে এসে ইনানীর পাটুয়ারটেকের মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন এই রিসোর্টটিতে উঠেছিলেন। দুর্ঘটনার দিন ভোরে তাঁর দুই বান্ধবী সমুদ্রসৈকতে হাঁটতে বের হওয়ায় প্রাণে বেঁচে গেলেও কক্ষে ঘুমিয়ে থাকা মুক্তা আগুনের মধ্যে আটকা পড়েন। এর আগে, সোমবার রাতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে আগুনে নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্তের তথ্য জানালেও সেখানে মুক্তার নাম ছিলো না। স্বজনদের নমুনার সঙ্গে মিল না পাওয়ায় তাঁর সন্ধান নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। এরপর মঙ্গলবার সকালে উখিয়া থানা পুলিশের একটি দল রিসোর্টের ধ্বংসস্তূপ, ঝুঁকিপূর্ণ অংশ এবং আশপাশের নালা ও ঝোপঝাড়ে নতুন করে তল্লাশি শুরু করে। উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান মজুমদার জানান, ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতেই তাঁরা মঙ্গলবার সকাল থেকে পুনরায় উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন এবং দুপুর আড়াইটার দিকে মুক্তার দেহাবশেষ উদ্ধার করতে সক্ষম হন। এদিকে, মুক্তার দেহাবশেষ উদ্ধারের দিনই ডিএনএ টেস্টে নিশ্চিত হওয়া অন্য ১০ জনের মরদেহ স্বজনদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়। মঙ্গলবার দুপুরের পর কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গের হিমঘর থেকে মরদেহগুলো হস্তান্তর করেন জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান এবং পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান। নিহত এই ১০ জন ঢাকার দু’টি পরিবারের সদস্য। এর মধ্যে একটি পরিবারের ৪ জন এবং অন্য পরিবারের ৬ জন সদস্য রয়েছেন। ৪ সদস্যের পরিবারটি ঢাকার শ্যামলীর বাসিন্দা। নিহতরা হলেন—গ্র্যান্ড পাওয়ার লিমিটেডের কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাহিদুর রহমান (৪১), তাঁর স্ত্রী আফসানা মতিন (৩৬) এবং তাঁদের দুই কন্যাসন্তান রোজাইনা ইনায়া (৯) ও মুনাইনা ইহানা (৬)। অন্য পরিবারটির সদস্যরা ঢাকার বনশ্রী ও খিলগাঁও এলাকায় বসবাস করতেন। নিহতরা হলেন—মৌলিতা মেহজাবিন আলভি (১৯), তাঁর কাজিন লায়লা জাহান নাবিলা (২৫) ও ইসরাত জাহান মালিহা (২৭), ফারিয়া কবির (৩৩), ফারিয়ার ৬ বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ ফাইজান নূর এবং ফারিয়ার ভাই মোহাম্মদ নাফিস তেহামি (২৪)। নিহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী ছিলেন। নাফিস তেহামি (জেরিফ) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের চীনা ভাষা ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। মৌলিতা মেহজাবিন আলভি ইস্ট-ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির পপুলেশন অ্যান্ড পাবলিক হেলথ সায়েন্সেস বিভাগের এবং লায়লা জাহান নাবিলা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। সিআইডি ল্যাবে নিবিড় ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিখোঁজ ও মৃতদের স্বজনদের দেওয়া নমুনার সাথে ম্যাচ করে এই পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। /এমএএইচ/

কক্সবাজারে সাগরে গোসলে নেমে ৩ পর্যটকের মৃত্যু, নিখোঁজ ২
কক্সবাজারে সাগরে গোসলে নেমে ৩ পর্যটকের মৃত্যু, নিখোঁজ ২

কক্সবাজারের হিমছড়ি এলাকায় সাগরে গোসলে নেমে ৩ পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। একজনকে জীবিত উদ্ধার করা গেলেও আরও দু'জন পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন। বুধবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় হিমছড়ি মারিনা রিসোর্ট সংলগ্ন সৈকতে এই ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি। রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিল্লুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, পর্যটকদের একটি দল ওই সৈকতে সাগরে গোসলে নামে। এই সময় ঢেউয়ের স্রোতে তাঁরা ভেসে যায়। স্থানীয়রা একজনকে জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। ইউএনও আরও বলেন, ঘটনাস্থল থেকে ৩ পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও আরও দু’জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে পুলিশ। /এমএএইচ/

কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুনের ঘটনায় ম্যানেজার আটক
কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুনের ঘটনায় ম্যানেজার আটক

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান। এর আগে শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মেরিনড্রাইভ লাগোয়া রিসোর্টটিতে ভয়াবহ এই আগুনের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিলেন রিসোর্টটির ম্যানেজার মোহাম্মদ সুমন। কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন বলেন, আগুনে প্রাণ হারানো ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ৬ জন চিকিৎসাধীন। ফায়ার সার্ভিসের ২টি ইউনিটের তৎপরতায় উদ্ধার কার্যক্রম চালানো হয়। মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে নেওয়া হয়েছে। নিহতদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৯ জনের পরিচয় মিলেছে। পরিচয় শনাক্ত হওয়া নিহত এক পরিবারের সদস্যরা হলেন- ঢাকার বনশ্রীর বাসিন্দা ইসরাত জাহান মালিহা (৩০) ও মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), খিলগাঁওয়ের লায়লা জাহান নাবিলা (২৭) ও নাফিসতা মীম (২৭), চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির (৩৩) এবং পাঁচ বছর বয়সী ফায়িজান আহম্মেদ। এছাড়া আরও নিহত হয়েছেন ঢাকার আশুলিয়ার ‘স্বপ্নবিলাস নিরিবিলি স্কুল’-এর শিক্ষিকা নাসরিন আক্তার মুক্তা (২৯)। ফায়ার সার্ভিসের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, নিহত আরও ২ পর্যটকের নাম জিহাদ হাওলাদার ও আকিবুল ইসলাম। তাঁদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। আগুন লাগার কারণ অনুসন্ধানে ইতোমধ্যে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। কমিটিকে৩ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। /এমএএইচ/

লাইসেন্স ছাড়া চলছিলো টুপটুপ রিসোর্ট
লাইসেন্স ছাড়া চলছিলো টুপটুপ রিসোর্ট

শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরে আয়োজিত ‘শারদীয় দুর্গাপূজায় অগ্নিনিরাপত্তা বিষয়ক’ প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই কথা বলেন। ফায়ার সার্ভিস মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ বলেন, গত জুনে পরিদর্শনের পর রিসোর্টটি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে সতর্ক করে নোটিশ করেছিলো ফায়ার সার্ভিস। এরপরও রিসোর্টটির অবৈধভাবে কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলো। ফায়ার সার্ভিস মহাপরিচালক বলেন, তিনতলা কাঠের তৈরি রিসোর্টটির নিচতলায় ছিল রেস্তোরাঁ। সেখানে খাবার তৈরি করা হতো। দোতলা ও তিনতলায় পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা ছিলো। রিসোর্টটি ফায়ার সার্ভিসের তদারকির আওতায় প্রয়োজনীয় সনদ ছিলো না। তারা নিয়মতান্ত্রিকভাবে রিসোর্টটি চালাচ্ছিলো না। তিনি জানান, সকালে সাড়ে ৭টার দিকে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। ঘটনাস্থল থেকে ফায়ার স্টেশনের দূরত্ব ছিল ২২ কিলোমিটার। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সেখানে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন। পরে আগুন পুরোপুরি নির্বাপণ করা হয়। এরইমধ্যে ঘটনাস্থল থেকে ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। /সোহেল/