Advertisement(970X90).png
Advertisement(300X90).png

১৫ কার্তিক ১৪৩৩, ১৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

নামাজে শাহাদাত আঙুল ইশারা করবেন যেভাবে
নামাজে শাহাদাত আঙুল ইশারা করবেন যেভাবে

সহিহ মুসলিমে বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী, রাসুলুল্লাহ (সা.) নামাজের বৈঠকে ডান হাত ডান হাঁটু বা উরুর ওপর এবং বাঁ হাত বাঁ হাঁটু বা উরুর ওপর রাখতেন। এই সময় তিনি শাহাদাত আঙুল দিয়ে ইশারা করতেন। অন্য বর্ণনায় এসেছে, তিনি বৃদ্ধাঙ্গুলি ও মধ্যমা যুক্ত করে আঙুলের সাহায্যে ইশারা করতেন। (সহিহ মুসলিম: ৫৮০, ১৩৩৬, ১৩৩৮) এই বিষয়ে জামিয়া কাসিমুল উলুম সালেহপুর, আমিনবাজার, ঢাকার প্রধান মুফতি মাওলানা লুৎফুর রহমান ফরায়েজি কালবেলাকে বলেন, নামাজে তাশাহুদ পড়ার সময় ‘আশহাদু আল্লা ইলাহা’ পর্যন্ত পৌঁছালে বৃদ্ধাঙ্গুলি ও মধ্যমা দিয়ে গোলাকার আকৃতি তৈরি করে শাহাদাত আঙুল দিয়ে ইশারা করতে হবে। এই সময় কনিষ্ঠা ও অনামিকা হাতের তালুর সঙ্গে যুক্ত থাকবে। তিনি আরও বলেন, ‘ইল্লাল্লাহ’ বলার পর শাহাদাত আঙুল নিচু করতে হবে। তবে অন্য আঙুলগুলো নামাজের শেষ পর্যন্ত একই অবস্থায় থাকবে। তাশাহুদের আরবি, উচ্চারণ ও অর্থ আরবি: التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ، السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ، السَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ، أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ উচ্চারণ: আত্তাহিয়্যাতু লিল্লাহি ওয়াস-সালাওয়াতু ওয়াত-ত্বাইয়্যিবাতু। আসসালামু আলাইকা আইয়্যুহান নাবিয়্যু ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। আসসালামু আলাইনা ওয়া আলা ইবাদিল্লাহিস সালিহীন। আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসুলুহু। অর্থ: সব মৌখিক ইবাদত, নামাজ ও পবিত্র বিষয় আল্লাহর জন্য। হে নবী, আপনার প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক এবং আল্লাহর রহমত ও বরকত নাজিল হোক। শান্তি বর্ষিত হোক আমাদের ওপর এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের ওপর। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই। আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি, মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর বান্দা ও রাসুল। /শান্ত/

জুমার দিনে বেশি পড়বেন যে দোয়া
জুমার দিনে বেশি পড়বেন যে দোয়া

দোয়াটি হলো: আরবি: اللَّهُمَّ رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা রাব্বানা আতিনা ফিদ্দুনিয়া হাসানাহ, ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাহ, ওয়া কিনা আযাবান নার। অর্থ: হে আমাদের রব, আমাদের দুনিয়াতে কল্যাণ দিন, আখেরাতেও কল্যাণ দিন এবং আগুনের আজাব থেকে রক্ষা করুন। দোয়াটি কেন গুরুত্বপূর্ণ? দোয়াটি পবিত্র কোরআনের সুরা বাকারার ২০১ নম্বর আয়াতে রয়েছে। আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) এ দোয়াটি সবচেয়ে বেশি পড়তেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৩৮৯) এ দোয়ায় একই সঙ্গে দুনিয়ার কল্যাণ, আখেরাতের কল্যাণ এবং জাহান্নামের শাস্তি থেকে মুক্তি চাওয়া হয়েছে। ইসলাম দুনিয়ার দায়িত্ব থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে বলে না; বরং দুনিয়ার জীবনে সৎভাবে জীবনযাপন, পরিবারের দায়িত্ব পালন ও আখেরাতের প্রস্তুতি নেওয়ার শিক্ষা দেয়। জুমার দিন দোয়া কবুলের বিশেষ সময় সহিহ বুখারির একটি হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) জানিয়েছেন, জুমার দিনে এমন একটি সময় রয়েছে, যখন কোনো মুসলিম আল্লাহর কাছে কিছু চাইলে তিনি তাকে তা দান করেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৯৩৫) এই বিশেষ সময়টি কখন, তা নিয়ে আলেমদের মধ্যে দুটি প্রসিদ্ধ মত রয়েছে। ১. খুতবা শুরু থেকে নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত একটি মত অনুযায়ী, ইমাম খুতবার জন্য উপস্থিত হওয়া থেকে জুমার নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত সময়টি দোয়া কবুলের বিশেষ সময়। এ বিষয়ে সহিহ মুসলিমে বর্ণনা রয়েছে। ২. আসরের পর থেকে সূর্যাস্তের আগ পর্যন্ত আরেকটি প্রসিদ্ধ মত হলো, জুমার দিন আসরের নামাজের পর থেকে সূর্যাস্তের আগ পর্যন্ত সময়টি দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্ত। এ বিষয়ে সুনানে আন-নাসাঈসহ বিভিন্ন হাদিসগ্রন্থে বর্ণনা পাওয়া যায়। বিশেষ মুহূর্তটি নির্দিষ্ট করে নিশ্চিতভাবে জানা না যাওয়ায় জুমার পুরো দিনই বেশি বেশি দোয়া করা যেতে পারে। বিশেষ করে খুতবা ও নামাজের সময় এবং আসরের পর থেকে মাগরিবের আগ পর্যন্ত সময়টিতে দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ চেয়ে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা যেতে পারে। /শান্ত/