Advertisement(970X90).png
Advertisement(300X90).png

১৫ কার্তিক ১৪৩৩, ১৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

সাদপন্থীরা আর কখনো টঙ্গী ইজতেমা ময়দান ব্যবহার করতে পারবে না: বাবুনগরী
সাদপন্থীরা আর কখনো টঙ্গী ইজতেমা ময়দান ব্যবহার করতে পারবে না: বাবুনগরী

শনিবার (২৪ অক্টোবর) দেশের শীর্ষ মুরুব্বি আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরীর আহ্বানে টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমা ময়দানের টিনশেড শব্জবাড়ী পয়েন্টে অনুষ্ঠিত এক জাতীয় পরামর্শ সভায় এসব দাবি উত্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে দেশের ৬৪ জেলার নেতৃস্থানীয় ওলামায়ে কেরাম ও শীর্ষ মুরুব্বিরা অংশ নেন। সভা-পরবর্তী প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, বাংলাদেশ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মহল থেকে আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে যোগাযোগ করে সাদপন্থীদের এবারের ইজতেমার জন্য তিন দিন টঙ্গী ইজতেমা ময়দান ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে তাঁর মতামত জানতে চাওয়া হয়। জবাবে তিনি দেশের শীর্ষস্থানীয় ওলামায়ে কেরামের সঙ্গে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত জানানোর কথা বলেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে এ পরামর্শ সভার আয়োজন করা হয়। সভায় উপস্থিত আলেম-ওলামা ও মুরুব্বিদের মতামতের ভিত্তিতে সরকারের কাছে দুটি দাবি জানানোর সিদ্ধান্ত হয়। প্রথমত, ২০২৫ সালের পর সাদপন্থীদের টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমা ময়দান ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ার বিষয়ে সরকারের পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত বহাল রাখতে হবে। দ্বিতীয়ত, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে টঙ্গীতে সংঘটিত ঘটনায় দায়ের করা দুটি হত্যা মামলার তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন করে অভিযোগপত্র দাখিলের ব্যবস্থা নিতে হবে। সভায় জানানো হয়, মামলাগুলো বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তাধীন রয়েছে। এছাড়া সাদপন্থীদের ইজতেমা আয়োজনের বিষয়টি সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন জেলার মাদ্রাসা, মারকাজ ও অন্যান্য দ্বীনি প্রতিষ্ঠানে দোয়ার আয়োজনের জন্য ওলামায়ে কেরাম ও দায়িত্বশীলদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও বলা হয়, এ বিষয়ে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হলে কিংবা কোনো ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে ঢাকার কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত পাওয়ার পর নিজ নিজ জেলায় কঠোর কর্মসূচি পালন করা হবে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরী, মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস, মাওলানা নুরুল ইসলাম ওলিপুরী, মাওলানা শাহ সাজিদুর রহমান, মাওলানা আব্দুল হামিদ পীরসাহেব মধুপুর, মাওলানা মাহফুজুল হক, মুফতি খিজিরুল্লাহ হাটহাজারী, মাওলানা ইকরাম হোসাইন ওয়াদুদী, মাওলানা সালাহ উদ্দিন, মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক, মাওলানা হিফজুর রহমান, মুফতি আরশাদ রহমানী, মুফতি দেলাওয়ার হোসাইন, মাওলানা রশিদুর রহমান ফারুক, মাওলানা আব্দুল আউয়াল, মুফতি মুবারকুল্লাহ, মাওলানা শফিকুর আহমেদ রশীদ, মাওলানা মুশতাক আহমেদ, মুফতি জাফর আহমদ, মাওলানা মহিউদ্দিন রব্বানী, মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব, মাওলানা বাহাউদ্দিন জাকারিয়া, মাওলানা নাজমুল হাসান কাসেমী, মাওলানা আলাওয়ালুল করীম, মাওলানা ফজলুল্লাহ মাদানীনগরী, মাওলানা নিয়ামতুল্লাহ আল ফারুকী, মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মাওলানা যুবায়ের বিন তৈয়ব, মাওলানা আনাস, মাওলানা মনির হুসাইন কাসেমী, মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন রাজী, মুফতি মুহাম্মদ আলী আকাতাবনগরী, মাওলানা আফজালুর রহমান, মাওলানা নিয়ামুদ্দিন, মুফতি আতাউল্লাহ জিন্নাহ, মাওলানা লোকমান মাযহারী, মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী, মাওলানা মাহফুজুর রহমান মাহমুদ, মুফতি ফিকহিয়ারুল্লাহ আহমদী ও মাওলানা আনিসুর রহমানসহ দেশের বিভিন্ন জেলার বিশিষ্ট আলেম ও মুরুব্বিরা। কেআর/

বিশ্ব ইজতেমার তারিখ ঘোষণাসহ সাদপন্থীদের ৬ দফা দাবি
বিশ্ব ইজতেমার তারিখ ঘোষণাসহ সাদপন্থীদের ৬ দফা দাবি

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) তাবলিগ জামাত বাংলাদেশের (মাওলানা সাদ অনুসারী) মিডিয়া সমন্বয়ক মো. সায়েমের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব দাবি জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে সম্প্রতি ‘ওলামা-মাশায়েখ বাংলাদেশ’ নাম ব্যবহার করে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তাবলিগ জামাতের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। সাদপন্থীদের দাবি, সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা তাবলিগ জামাতের প্রতিনিধিত্ব করেন না এবং তাদের বক্তব্য বিভ্রান্তিকর ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানকেন্দ্রিক সহিংসতা এবং বিভিন্ন সময়ে প্রাণহানির ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য ও সাক্ষ্যপ্রমাণ যাচাই করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে। ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে সাদপন্থীদের ইজতেমা আয়োজনের তারিখ ঘোষণা, ময়দান ব্যবহারের অধিকার নিশ্চিত করা, তাবলিগের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে রাজনৈতিক ও বহিরাগত হস্তক্ষেপ বন্ধ এবং বিভিন্ন জেলা ও থানার মার্কাজ মসজিদ নিয়ে বিরোধের আইনানুগ নিষ্পত্তি। এছাড়া দেশের মসজিদগুলোতে তাবলিগের নিয়মিত ধর্মীয় কার্যক্রম নির্বিঘ্নে পরিচালনার সুযোগ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে সরকারকে সব পক্ষের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে ধর্মীয় পরিবেশ, শান্তি, শৃঙ্খলা ও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রত্যাশা করা হয়েছে। /শান্ত/