Advertisement(970X90).png
Advertisement(300X90).png

১৫ কার্তিক ১৪৩৩, ১৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

সম্পর্কের বন্ধন দৃঢ় করতে পারিবারিক আড্ডা
সম্পর্কের বন্ধন দৃঢ় করতে পারিবারিক আড্ডা

সপ্তাহে অন্তত একবার কিছু সময় একটা পরিকল্পিত আড্ডা পরিবারের সদস্যদের মধ্যে তৈরি করতে পারে আন্তরিকতা, সহযোগিতা এবং একে অপরকে বোঝার এক শক্তিশালী ভিত্তি। একটি পারিবারিক আড্ডায় যেসব বিষয়গুলো থাকতে পারে- ১. প্রয়োজনীয় বিষয়ের আলোচনা পরিবারের কে, কী বিষয় নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে তা সবাই সবাইকে জানানো। সন্তানেরা তাদের পড়ালেখা সংক্রান্ত কি কি জিনিস এই মুহুর্তে লাগবে তা জানালো। বাবা-মা বিষয়গুলো শুনে সময় সাপেক্ষে তা পুরণের কথা জানালেন। এতে পরিবারের সদস্যদের মাঝে বোঝাপড়া বৃদ্ধি পায়। ২. জ্ঞানচর্চা ও একাডেমিক আলোচনার পর্ব ছেলেমেয়েরা তাদের স্কুল-কলেজের মজার অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করলো। পড়ালেখার অগ্রগতি বা সমস্যা থাকলে তা জানালো। মা-বাবা পত্রিকার দেশের বা বিশ্বের আলোচনাযোগ্য গুরুত্বপূৰ্ণ খবর তুলে ধরলেন। এতে পরিবারে শেখার ক্ষেত্রে যে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা দূর হয়। ৩. শখ ও সৃজনশীলতার প্রদর্শনী ছেলেমেয়েরা যে যা পারে-নাচ, গান, আবৃত্তি শোনালো। মা মজার একটা গল্প বললেন, গান গেয়ে শোনালেন। বাবা একটি রম্য বা হাসির ছড়া শুনালেন। ছোটরা তার এই সপ্তাহে আঁকা বিভিন্ন ছবি দেখালো। এতে একে অপরের প্রতিভা ও মনোযোগকে মূল্য দেওয়া হয় এবং সবাই নিজ নিজ সৃজনশীলতা বৃদ্ধির উৎসাহ পায়। ৪. ভালো কাজের প্রতিবেদন সন্তান জানালো, আমি আমার বন্ধুকে অংক শিখতে সাহায্য করেছি। মা বললেন, আমি পাশের বৃদ্ধা আন্টিকে ওষুধ কিনে দিয়েছি। বাবা অফিসে এক সহকর্মীর কাজে সাহায্য করেছেন। এতে শিশুদের মধ্যে মানবিকতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ গড়ে ওঠে। ৫. ধন্যবাদ ও প্রশংসার মুহূর্ত স্কুলের বাড়ির কাজে সহযোগিতার জন্যে ছেলে মাকে ধন্যবাদ জানালো, মা বললেন, আজ সবাই নিজের কাজ নিজে করেছ, আমি খুব খুশি, ধন্যবাদ। বাবা ছেলে মেয়ে সবাই ভালোভাবে পড়ালেখা করার জন্য বললেন- আমি খুব খুশি হয়েছি। তোমাদের ধন্যবাদ। মেয়ে বললো, আব্বু আমাদের ছুটির দিনে ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার জন্য তোমাকে অনেক ধন্যবাদ। এতে সম্মান ও সম্পর্কের উষ্ণতা বৃদ্ধি পায়। পারিবারিক আড্ডা কেবল বিনোদনের জন্য নয়, এটি পরিবারের সদস্যদের মাঝে দায়িত্ববোধ, শ্রদ্ধাবোধ, ইতিবাচক মানসিকতা এবং ভালোবাসা গড়ে তোলে। এভাবে একটি ছোট্ট আয়োজনেই তৈরি হতে পারে একটি পরিবারে সৃজনশীলতা, সহমর্মিতা ও মননশীলতার এক অনন্য পরিসর। তাই আমাদের উচিত সপ্তাহে মাত্র একদিন হলেও পরিবারের সবাইকে নিয়ে একটুখানি সময় হালকা চা-নাশতা আর মন খুলে কথা বলার জন্য ফ্যামিলি আড্ডার আয়োজন করা। /শিউলী/

সম্পর্কের রকম ফের
সম্পর্কের রকম ফের

এমন কিছু সম্পর্ক থাকে, যারা একে-অপরকে ভালোবাসেন, কিন্তু একসঙ্গে নেই। এমন নানা সম্পর্ক আমাদের চারপাশেই রয়েছে। ইদানীং প্রেমের সম্পর্কেও একে-অপরের প্রতি ‘কমিটেড’ থাকে না। বিবাহিত সম্পর্কে থাকলেও অনেক সময় দু’জনের মাঝে কোনো মানসিক টান থাকে না। আবার এমন অনেক বন্ধুত্ব রয়েছে, যার জন্য একে অপরকে জীবন বাজি রাখতেও প্রস্তুত। চলুন কয়েকটি সম্পর্কের নাম জেনে নেই রোমান্টিক রিলেশনশিপ: প্রথম প্রেমে পড়লে মানুষ যা করেন, তাকেই বলা হয় রোম্যান্টিক রিলেশনশিপ। এই সম্পর্কই পরবর্তীতে আরও মজবুত হয়। দুটি মানুষের মধ্যেই তৈরি হয় ভরসার জায়গা। প্রেমে পড়া, একে-অপরের প্রতি আকৃষ্ট হওয়া সবই রয়েছে এই সম্পর্কে। সেই সঙ্গে গড়ে ওঠে ইমোশনাল ইন্টিমেসিও। এই সম্পর্কে একে-অপরের সঙ্গে জীবন কাটানোর প্রতিশ্রুতি দেন। প্ল্যাটনিক রিলেশনশিপ: এই রিলেশনশিপে একে-অপরের খুব ভালো বন্ধু হয়ে থাকেন আজীবন। এই বন্ধুত্বের মাঝে প্রেমও থাকতে পারে। দু’জন একে-অপরের মনের কথা বোঝেন, একে অপরকে সাপোর্ট করেন। সেই সঙ্গে কেয়ারও করেন। কিন্তু দু’জনের মাঝে কোনো শারীরিক সম্পর্ক তৈরি হয় না। টক্সিক রিলেশনশিপ: এই রিলেশনশিপে সারাক্ষণ ঝগড়া-ঝাটি লেগেই থাকে, এটাই মূলত টক্সিক রিলেশনশিপ। মানসিক অশান্তি যেন পিছুই ছাড়ে না। যে আপনার সঙ্গে প্রতিটি মুহূর্তে খারাপ আচরণ করছেন, সেই সম্পর্কে না থাকাই ভালো। টক্সিক রিলেশনশিপ থেকে যতটা দূরে থাকা যায় ততোই উত্তম। /শিউলী/