Advertisement(970X90).png
Advertisement(300X90).png

১৫ কার্তিক ১৪৩৩, ১৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

এসএসসি ফেল করা শিক্ষার্থীদের ৫ দাবি
এসএসসি ফেল করা শিক্ষার্থীদের ৫ দাবি

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘এসএসসি ২০২৬ শিক্ষার্থী অধিকার আন্দোলন বাংলাদেশ’-এর ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা বলেন, এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া মানেই কোনো শিক্ষার্থীর মেধা, সম্ভাবনা কিংবা ভবিষ্যৎ শেষ হয়ে যাওয়া নয়। পরীক্ষায় ফেল করার পর অনেক শিক্ষার্থী হতাশা ও অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। তাদের অভিভাবকেরাও সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন। তাই ঘাটতি পূরণ ও যোগ্যতা প্রমাণের সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন। তারা বলেন, এটি কোনো নিয়মবহির্ভূত সুবিধার দাবি নয়। বরং শিক্ষার্থীদের বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে মানবিক ও শিক্ষাবান্ধব সমাধান চান তারা। একটি পরীক্ষার ফলের কারণে যেন শিক্ষাজীবনের ধারাবাহিকতা অযথা ব্যাহত না হয়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। সংবাদ সম্মেলনে ৫ দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, চলতি বছরই বিশেষ সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা আয়োজন, পরীক্ষার সিলেবাস, মানবণ্টন, প্রশ্নপদ্ধতি ও যোগ্যতার বিষয়ে দ্রুত নির্দেশনা প্রকাশ এবং পর্যাপ্ত প্রস্তুতির সময় দিয়ে পরীক্ষা ও ফল প্রকাশের ব্যবস্থা করা। এছাড়া পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের একই শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা। কোনো কারণে এ বছর পরীক্ষা আয়োজন সম্ভব না হলে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি এবং পরের বছর কলেজে অধ্যয়নরত অবস্থায় সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। /শান্ত/

শিক্ষার্থী কমছে মাধ্যমিকে, বেড়েছে মাদ্রাসায়
শিক্ষার্থী কমছে মাধ্যমিকে, বেড়েছে মাদ্রাসায়

শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) বাংলাদেশ শিক্ষা পরিসংখ্যান-২০২৫ প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে দাখিল, আলিম, ফাজিল ও কামিল পর্যায়ের মাদ্রাসা ছিলো ৯ হাজার ২৬৯টি। ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ২৯৬টিতে। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ২০২৪ সালের প্রায় ২৭ লাখ ৯৬ হাজার থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে ২৮ লাখ ৪০ হাজারের বেশি হয়েছে। অর্থাৎ এক বছরে প্রতিষ্ঠান বেড়েছে ২৭টি এবং শিক্ষার্থী বেড়েছে ৪৩ হাজারের বেশি। এই হিসাবে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি ও কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী অন্তর্ভুক্ত নয়। অন্যদিকে, ২০২৪ সালে দেশে জুনিয়র স্কুলসহ সরকারি-বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ছিলো ১৯ হাজার ১১৭টি। ২০২৫ সালে তা বেড়ে হয়েছে ১৯ হাজার ২১১টি। প্রতিষ্ঠান বাড়লেও শিক্ষার্থী কমেছে চার লাখ আট হাজারের বেশি। ২০২৪ সালে এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ছিল ৭৮ লাখ ৪৭ হাজার ৫৪৬ জন। পরের বছর তা কমে ৭৪ লাখ ৩৯ হাজারের কিছু বেশি হয়েছে। বিপরীতে, দেশে ১৪৩টি ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলে শিক্ষার্থী ২০২৪ সালের ২৯ হাজার ৭৭ থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে ২৯ হাজার ৬৭২ হয়েছে। অর্থাৎ বেড়েছে ৫৯৫ জন। মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী বাড়ছে কেন? শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, মাদ্রাসায় বিনামূল্যে থাকা-খাওয়াসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং ধর্মীয় শিক্ষার প্রতি আগ্রহ শিক্ষার্থী বাড়ার কারণ হতে পারে। করোনার পর দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক সংকটের সঙ্গেও এই প্রবণতার যোগসূত্র দেখছেন কোনো কোনো শিক্ষাবিদ। তবে মাধ্যমিক থেকে মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী স্থানান্তর হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত নয়। ব্যানবেইসের প্রতিবেদনে শিক্ষার্থী বাড়া-কমার কারণ বিশ্লেষণ করা হয়নি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মনিনুর রশীদ বলেন, মাধ্যমিকে শিক্ষার্থী কমার পেছনে করোনার পর শিখন ঘাটতি, পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়া, শিশুদের শ্রমে যুক্ত হওয়া এবং শিক্ষাক্রমের প্রভাব থাকতে পারে। প্রকৃত কারণ জানতে নিবিড় গবেষণা প্রয়োজন। শিক্ষা-সংশ্লিষ্টদের মতে, শিক্ষার্থীর সংখ্যা দিয়ে একা শিক্ষার অগ্রগতি বিচার করা যায় না। শিক্ষার মান, ঝরে পড়ার হার, শিক্ষকদের যোগ্যতা ও কর্মসংস্থানে শিক্ষার্থীদের অগ্রগতিও মূল্যায়ন করতে হবে। /শান্ত/