দুঃসময়ে নিকটাত্মীয়রাও দূরে ছিলেন, কবি পাশে দাঁড়িয়েছেন: রিজভী
দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ইতিবাচক পরিবর্তন প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে দেশে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড কিছুটা বেড়েছে। এই ক্ষেত্রে শিল্পকলা অ্যাকাডেমির ভূমিকা রয়েছে। একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বস কোনো প্রতিষ্ঠানে থাকলে সেটি যে কতোটা কর্মময় ও প্রাণবন্ত হয়ে উঠতে পারে, নিজ দক্ষতা ও যোগ্যতা দিয়ে রেজাউদ্দিন স্টালিন তার প্রমাণ রেখে গেছেন। রিজভী বলেন, কবি স্টালিন একজন আধুনিক ও ব্যতিক্রমী স্রষ্টা। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিষ্ঠাতাদের একজন হলেও, তিনি নিজে কখনো দলটির সদস্য হননি। একইভাবে রেজাউদ্দিন স্টালিনও একটি রাজনৈতিক বিশ্বাস ধারণ করলেও, তিনি কোনো দলীয় কাঠামোর মধ্যে নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি, যা একজন বড় কবির নিদর্শন। সমসাময়িক বৈশ্বিক সংকটগুলো সাহিত্যে তুলে আনার ওপর জোর দিয়ে রিজভী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে পৃথিবী আজ গভীর সংকটের মুখে। প্রতিটি দেশ এই সংকট থেকে উত্তরণের চেষ্টা করছে। সমকালীন সংকট ও মানুষের জীবনকে কবিতায় তুলে ধরার মধ্য দিয়ে কবিরা তাদের সময়কে ধারণ করেন। এসব জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় যদি কবিতায় উঠে না আসে, তবে তা পূর্ণাঙ্গ হতে পারে না। কবি স্টালিনের ‘একদিন বৃক্ষের জন্য সবাইকে কাঁদতে হবে’ পঙ্ক্তিটি উদ্ধৃত করে রিজভী বলেন, এটি সাম্প্রতিক বৈশ্বিক পরিবেশ সংকটের এক অসাধারণ ও সত্য প্রতিচ্ছবি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আসাদুজ্জামানের সভাপতিত্বে ও ‘সারেঙ’-এর সম্পাদক আবদুর রহমান মল্লিকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ, জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি মোহন রায়হান, মুক্তচিন্তা বাংলাদেশের আহ্বায়ক আবুল কাসেম হায়দার এবং কবি ও সাংবাদিক শাহীন চৌধুরী। অনুষ্ঠানে আরও অংশ নেন কবি জাহাঙ্গীর ফিরোজ, কবি কামরুজ্জামান, কবি সৈকত হাবিব, কবি আসাদ কাজল, এটিএন বাংলার প্রধান নির্বাহী (বার্তা), ছড়াকার হাসান শরীফ। /শান্ত/