Advertisement(970X90).png
Advertisement(300X90).png

১৫ কার্তিক ১৪৩৩, ১৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত ধাপে রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্প
বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত ধাপে রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্প

পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে বহুল প্রতীক্ষিত ‘পাওয়ার স্টার্টআপ’ বা বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরুর চূড়ান্ত অনুমোদন মিলেছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়েরা) আনুষ্ঠানিকভাবে এই অনুমোদন প্রদান করে। এর মাধ্যমে দেশের ইতিহাসে প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে একটি অন্যতম প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জিত হলো। আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-এর কঠোর গাইডলাইন অনুসরণ করে রাশিয়ার কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের ‘বি ওয়ান’ এবং ‘বি টু’ ধাপের ফিজিক্স টেস্টসহ যাবতীয় প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও কারিগরি কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সবশেষ স্বয়ংক্রিয় চাপ প্রশমন ভালভ পরীক্ষার জটিলতাও সফলভাবে কেটে গেছে। বায়েরার এই চূড়ান্ত অনুমোদনের পর রূপপুরের প্রথম ইউনিটটি এখন ‘স্টেজ সি’ বা বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত প্রস্তুতিমূলক ধাপে প্রবেশ করেছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর এই স্তরে পারমাণবিক চুল্লিতে প্রথমবারের মতো স্বয়ংসম্পূর্ণ চেইন রিঅ্যাকশন বা পরমাণুর নিয়ন্ত্রিত বিভাজন প্রক্রিয়া তৈরি করা হবে, যা পারমাণবিক বিজ্ঞানের ভাষায় ‘ক্রিটিক্যালিটি’ নামে পরিচিত। এই বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চুল্লির অভ্যন্তরে ধীরে ধীরে স্থায়ী, নিয়ন্ত্রিত ও সম্পূর্ণ নিরাপদ উপায়ে তাপীয় শক্তি তথা বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে। রূপপুরের প্রতিটি ইউনিটের মোট উৎপাদন ক্ষমতা ১,২০০ মেগাওয়াট। প্রাথমিক পর্যায়ে পাওয়ার স্টার্টআপের পর চুল্লির বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ধাপে ধাপে বাড়ানো হবে। পারমাণবিক প্রকৌশলীদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, চুল্লির উৎপাদন ক্ষমতা যখন মোট সক্ষমতার ২৫ থেকে ৩০ শতাংশে (অর্থাৎ প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট) পৌঁছাবে, তখনই পরীক্ষামূলকভাবে এটি জাতীয় সঞ্চালন লাইনে বা গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করবে। প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, সব পরীক্ষা সফল হলে চলতি বছরের শেষ নাগাদ এই ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে। পরবর্তীতে ১০ থেকে ১২ মাসের মধ্যে ইউনিটটি তার পূর্ণ ক্ষমতায় (১,২০০ মেগাওয়াট) বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাবে। প্রথম ইউনিটের এই যুগান্তকারী সফলতার পাশাপাশি রূপপুর প্রকল্পের দ্বিতীয় ইউনিটের কাজও দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি সংস্থা ‘রোসাটম’ বৃহস্পতিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের অত্যাধুনিক ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টরের প্রারম্ভিক লোডিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় পারমাণবিক জ্বালানি বা ইউরেনিয়াম সরবরাহ প্রক্রিয়া শুরু করেছে রাশিয়া। দ্বিতীয় ইউনিটের এই জ্বালানি প্রাপ্তি দেশের সামগ্রিক পারমাণবিক সক্ষমতাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেলো। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় একক অবকাঠামো প্রকল্প। দু’টি ইউনিট মিলিয়ে এই কেন্দ্রের মোট উৎপাদন ক্ষমতা হবে ২,৪০০ মেগাওয়াট। আন্তর্জাতিক পারমাণবিক মানদণ্ড অনুযায়ী প্রতিটি স্তরের চুল্লি ও যন্ত্রাংশের কার্যকারিতা বায়েরা এবং আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের দ্বারা নিবিড়ভাবে যাচাই করা হচ্ছে। ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধির কারণে স্থানীয় বাজারে প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১.৩৯ ট্রিলিয়ন টাকায়। তবে দীর্ঘমেয়াদে এই প্রকল্প থেকে সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ মিলবে, যা দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মেটাতে এবং গ্রীষ্মকালের লোডশেডিং নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে। প্রথম ইউনিটের পাওয়ার স্টার্টআপের এই চূড়ান্ত অনুমোদনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে পরমাণু শক্তি উৎপাদনকারী অভিজাত দেশের তালিকায় স্থান করে নেওয়ার চূড়ান্ত ধাপে আরোহণ করলো। এটি বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার এক ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত। /এমএএইচ/