Advertisement(970X90).png
Advertisement(300X90).png

১৫ কার্তিক ১৪৩৩, ১৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া এফটিএ আলোচনা: প্রথম পর্বের ইতিবাচক সমাপ্তি
বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া এফটিএ আলোচনা: প্রথম পর্বের ইতিবাচক সমাপ্তি

৩ দিনব্যাপী এই আলোচনায় চুক্তির বিভিন্ন অধ্যায়ের খসড়া ও কাঠামোগত বিষয় নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়েছে। আলোচনার ধারাবাহিকতায় আগামী ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় দফার বৈঠক অনুষ্ঠানের প্রাথমিক লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে উভয় পক্ষ। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) শুরু হওয়া এই আলোচনা বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়। এতে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার প্রতিনিধিদল পণ্য ও সেবা বাণিজ্য, বিনিয়োগ, ডিজিটাল বাণিজ্য, মেধাস্বত্ব এবং বাণিজ্য সহজীকরণসহ পারস্পরিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে গঠনমূলক মতবিনিময় করেন। বৃহস্পতিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। আলোচনায় ১৩টি ওয়ার্কিং গ্রুপ এফটিএ’র সংশ্লিষ্ট অধ্যায়ের খসড়া পাঠ ও কাঠামোগত বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করে। আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে ছিলো ট্রেড ইন সার্ভিস, ট্রেড ইন গুডস, রুলস অফ অরিজিন, কাস্টমস প্রক্রিয়া সহজীকরণ, ডিজিটাল বাণিজ্য, স্যানিটারি ও ফাইটোস্যানিটারি ব্যবস্থা, বাণিজ্যে কারিগরি বাধা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়। এসব ক্ষেত্রে উভয় দেশের অবস্থান, সম্ভাবনা ও সহযোগিতার ক্ষেত্র চিহ্নিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। সমাপনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের প্রধান আলোচক ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব খাদিজা নাজনীন বলেন, প্রস্তাবিত এফটিএ বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার বিদ্যমান সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ককে নতুন অর্থনৈতিক উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করবে। মালয়েশিয়ার ইলেকট্রনিকস, সেমিকন্ডাক্টর ও ডিজিটাল প্রযুক্তি খাতের অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, চুক্তিটি কার্যকর হলে দেশটি থেকে প্রযুক্তি স্থানান্তর, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং শিল্প খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হতে পারে। অনুষ্ঠানে উভয় পক্ষ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পারস্পরিক স্বার্থ ও সুবিধার ভারসাম্য বজায় রেখে একটি কার্যকর ও ‘উইন-উইন’ চুক্তি চূড়ান্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে। পরবর্তী আলোচনায় চুক্তির বিভিন্ন অধ্যায়ে মতপার্থক্য নিরসন এবং পারস্পরিক গ্রহণযোগ্য অবস্থানে পৌঁছানোর বিষয়টি গুরুত্ব পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। বাংলাদেশের জন্য এফটিএটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখা, রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে নতুন বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আসিয়ানভুক্ত গুরুত্বপূর্ণ অর্থনীতি মালয়েশিয়ার সঙ্গে একটি কার্যকর মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের পণ্য ও সেবা খাতের বাজার প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণ, শিল্পে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক সরবরাহ শৃঙ্খলে অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এসব সম্ভাবনার বাস্তব সুফল নির্ভর করবে চুক্তির চূড়ান্ত শর্তাবলি, শুল্কছাড়ের পরিধি, দেশীয় শিল্পের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং বাস্তবায়ন কাঠামোর ওপর। এই কারণে চলমান আলোচনায় উভয় দেশের বাণিজ্যিক স্বার্থের ভারসাম্য রক্ষা করে একটি টেকসই ও পারস্পরিক লাভজনক চুক্তি প্রণয়ন গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। প্রথম দফার আলোচনা সম্পন্ন হওয়ার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি প্রণয়নের প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগিয়েছে। আগামী জানুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় দ্বিতীয় দফার আলোচনা চুক্তির চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরির ক্ষেত্রে নতুন অগ্রগতির পথ উন্মোচন করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। /এসআই/এমএএইচ/

নভেম্বরের শুরুতে মালয়েশিয়ায় যেতে পারবেন কর্মীরা, খরচ জানালেন প্রতিমন্ত্রী
নভেম্বরের শুরুতে মালয়েশিয়ায় যেতে পারবেন কর্মীরা, খরচ জানালেন প্রতিমন্ত্রী

বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে হোটেল হলিডে ইনে উইটনেস ফাউন্ডেশন আয়োজিত অভিবাসনবিষয়ক জাতীয় সংলাপ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা জানান। প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা বলেছি, বেসরকারিভাবে বা ব্যক্তিগতভাবে যদি কেউ কোনো তথ্য দিয়ে থাকে, সেটা সঠিক নয়। মালয়েশিয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলে আমরা অফিশিয়ালি জানাবো। আমরা বলেছি, উই আর ওয়ার্কিং। বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার সাপেক্ষে মালয়েশিয়ায় এই শ্রমবাজারের দ্বার উন্মোচন হয়েছে। কিছু কাজ বাকি আছে। সেসব করতে আরেকটু সময় লাগবে। ৩৩৮টি বড় আকারের লাইসেন্স থাকা রিক্রুটিং এজেন্সি মালয়েশিয়া অনুমোদন করেছে। আমরা এর প্রশংসা করি। তিনি বলেন, ইতিমধ্যে কিছু ডিমান্ড লেটার দূতাবাসে জমা দেওয়া হয়েছে। ডিমান্ড লেটার প্রত্যয়ন আমাদের দূতাবাস এখন পর্যন্ত সত্যায়ন করেনি। দূতাবাসের সত্যায়ন ছাড়া কোনো ডিমান্ড লেটার গ্রহণ করা হবে না। ডিমান্ড লেটারের পাশাপাশি যাঁরা যাবেন, তাঁদের মেডিকেল পরীক্ষা করতে হবে। মেডিকেল পরীক্ষার খরচ বুধবার নির্ধারণ করা হবে। কোন কোন হাসপাতাল মেডিকেল পরীক্ষা করবে, তার একটা তালিকা মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে আমাদের মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে দেওয়া হবে। তারাও তাদের ওয়েবসাইটে দিয়ে দেবে। ৩১ অক্টোবরের মধ্যে চূড়ান্ত তালিকা ঘোষণা করবে মালয়েশিয়া। তারা এটা আমাদের জানিয়েছে। মেডিকেল পরীক্ষার খরচের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, খরচটা আজকে আমরা বসে নির্ধারণ করব। মেডিকেল পরীক্ষার খরচ এবং মালয়েশিয়া যাওয়ার ক্ষেত্রে মোটামুটি একটা খরচ হতে পারে। বিমান ভাড়া তো লাগবেই। মেডিকেল পরীক্ষায় খরচ হবে। বোয়েসেল সরকারি কোম্পানি হলেও একটা প্রতিষ্ঠান। তার একটা সার্ভিস চার্জ আছে। সব মিলিয়ে খরচ কত হতে পারে—এ প্রশ্নের জবাবে নুরুল হক বলেন, বোয়েসেল থেকে আমরা যেটা আলাপ-আলোচনা করে দেখেছি, ১ লাখ ৫৫ হাজার থেকে ৬০ হাজার টাকার মতো খরচ হতে পারে। আর প্রাইভেটেরটাও আমরা একটু হিসাব করে তাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে নির্ধারণ করে দেবো। প্রথমে বোয়েসেলের মাধ্যমেই যাবে; যেটা সরকারি প্রচেষ্টা। তারপরে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। /এমএএইচ/

মালয়েশিয়ার সঙ্গে ‘মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি’ নিয়ে আলোচনা শুরু হচ্ছে মঙ্গলবার
মালয়েশিয়ার সঙ্গে ‘মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি’ নিয়ে আলোচনা শুরু হচ্ছে মঙ্গলবার

মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) ইস্যুতে মালয়েশিয়ার সঙ্গে প্রথম দফার আলোচনা ঢাকায় শুরু হচ্ছে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর)। ঢাকার হোটেল সোনারগাঁওয়ে প্রথম দফার আলোচনা উদ্বোধন করবেন বাণিজ্য সচিব। এরইমধ্যে দু’দেশের পক্ষ থেকে প্রস্তুত করা খসড়া প্রস্তাব বিনিময় হয়েছে। প্রথম দফার বৈঠকে এসব প্রস্তাবের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া রাতে প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। চুক্তি নিয়ে আলোচনার দায়িত্বে থাকা এফটিএ অনুবিভাগের দুই গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তার বদলি ও পদায়নের কারণে নতুন করে আলোচক দল সাজাতে হয়েছে মন্ত্রণালয়কে। মালয়েশিয়ার সঙ্গে আলোচনার প্রধান দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মন্ত্রণালয়ের বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব খাদিজা নাজনীনকে। উপপ্রধান আলোচক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন একই অনুবিভাগের যুগ্ম সচিব মুস্তাফিজুর রহমান। জানা গেছে, এফটিএর আওতায় দু’দেশের বাণিজ্যিক চাহিদা, বাজারে প্রবেশাধিকার এবং পারস্পরিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো আলোচনায় গুরুত্ব পাবে। এক দেশ অন্য দেশকে কী ধরনের বাণিজ্য সুবিধা দিতে পারে, তা নিয়েও আলোচনা হবে। পাশাপাশি মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের কর্মসংস্থান, তৈরি পোশাক রপ্তানি এবং হালাল পণ্যের বাজারে বাংলাদেশের প্রবেশের বিষয়গুলোও আলোচনায় আসতে পারে। এছাড়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির এই আলোচনায় দু’দেশের বাণিজ্য ভারসাম্যের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। আলোচনায় অংশ নিতে মালয়েশিয়ার ৩০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল এরইমধ্যে বাংলাদেশে এসেছে। দেশটির বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের (এমআইটিআই) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ড. রশিদি সাইদের ওই প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা রয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক বাণিজ্য চুক্তি-সংক্রান্ত এফটিএ অনুবিভাগই সাধারণত এ ধরনের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সম্প্রতি এই বিভাগের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত সচিব আয়েশা আক্তারকে পদোন্নতি দিয়ে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব করা হয়েছে। গত ১৮ অক্টোবর তাঁর এই পদায়ন হয়। এর আগে, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির আলোচনায় বাংলাদেশের প্রধান আলোচক (চিফ নেগোশিয়েটর—সিএন) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন আয়েশা আক্তার। এই বিভাগের যুগ্ম সচিব ফিরোজ উদ্দিন আহমেদও সম্প্রতি বদলি হয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে গিয়েছেন। একাধিক বাণিজ্য আলোচনায় তিনি উপপ্রধান আলোচক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ফলে এফটিএ অনুবিভাগের অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের ছাড়াই মালয়েশিয়ার সঙ্গে আলোচনায় বসতে হচ্ছে মন্ত্রণালয়কে। এর মধ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরীও যোগ দিয়েছেন মাত্র দু’দিন আগে। নেতৃত্বের পরিবর্তন ও নতুন আলোচক দল গঠন নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে নেতৃত্বে পরিবর্তন এলেও নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এফটিএ আলোচনা বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে এফটিএ নিয়ে আলোচনা দু’দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। গত জুনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরের সময় দু’দেশের সরকারপ্রধান এই চুক্তির আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সম্মত হন। ২০২৭ সালের মধ্যেই চুক্তি সম্পন্ন করার অঙ্গীকারও রয়েছে উভয় দেশের। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশ মালয়েশিয়ায় প্রায় ৩০৫ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। বিপরীতে একই সময়ে মালয়েশিয়া থেকে আমদানি করেছে প্রায় ২২ কোটি ডলারের পণ্য। এ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দুদেশের মধ্যে বাণিজ্যের হিসাবেই বড় ব্যবধান রয়েছে। /এসআই/এমএএইচ/

মালয়েশিয়ায় অভিযানে বাংলাদেশিসহ আটক ১০৯ অভিবাসী
মালয়েশিয়ায় অভিযানে বাংলাদেশিসহ আটক ১০৯ অভিবাসী

শনিবার দিনগত রাত থেকে রবিবার ভোর পর্যন্ত এসব অভিযানে একটি বিনোদনকেন্দ্র, ৪টি ম্যাসাজ পার্লার এবং ইপোহের পাইকারি বাজারে তল্লাশি চালানো হয়। মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের (জেআইএম) উপ-মহাপরিচালক (অপারেশন) দাতুক লোকমান এফেন্দি রামলি জানান, পেরাক রাজ্যের অভিবাসন বিভাগের কর্মকর্তা ও সদস্য, পুত্রজায়ায় বিভাগের বিশেষ অভিযান ও গোয়েন্দা শাখা এবং পুলিশের মোট ৬৬ জন সদস্য অভিযানে অংশ নেন। তিনি জানান, রাত ৯টায় বিনোদনকেন্দ্র ও ৪টি ম্যাসাজ পার্লারে ‘অপ গেগার’ নামে অভিযান শুরু হয়। সেখানে ৭০ জন বিদেশিকে পরীক্ষা করে ৩৪ জন নারীকে আটক করা হয়। অন্যদিকে, রাত ১টা ৩০ মিনিটে ইপোহের পাইকারি বাজারে অভিযান শুরু হয়। সেখানে ৭৭ জন বিদেশিকে যাচাই করে ৭৫ জন পুরুষকে আটক করা হয়। পাইকারি বাজার থেকে আটককৃতদের মধ্যে মিয়ানমার, বাংলাদেশ, লাওস ও ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক রয়েছেন। অন্যদিকে, বিনোদনকেন্দ্র ও ম্যাসাজ পার্লারে অভিযান চালিয়ে থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের নাগরিকদের আটক করা হয়েছে। লোকমান এফেন্দি বলেন, আটককৃতদের বিরুদ্ধে বৈধ ভ্রমণ নথি না থাকা, ভিসা বা অনুমোদিত অবস্থানের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থান করা এবং ইস্যু করা পারমিট বা পাসের অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগ মালয়েশিয়ার অভিবাসন আইন ১৯৫৯/৬৩ এবং অভিবাসন বিধিমালা ১৯৬৩-এর আওতাভুক্ত। তিনি আরও বলেন, অভিযান চলাকালে কয়েকজন বিদেশি পালানোর চেষ্টা করেন। অভিবাসন বিভাগের কর্মকর্তা ও সদস্যদের তৎপরতায় অভিযানে উপস্থিত ব্যক্তিদের আটক করা সম্ভব হয়েছে। এই ঘটনায় ৫ জন নিয়োগকর্তাকে সমন জারি করা হয়েছে। তদন্তে সহযোগিতা করতে তাঁদের অভিবাসন বিভাগের আইন প্রয়োগ শাখায় হাজির হতে বলা হয়েছে। আটক বিদেশিদের পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পেরাক রাজ্যের অভিবাসন বিভাগের কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। লোকমান এফেন্দি জানান, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত মালয়েশিয়াজুড়ে ১১ হাজারের বেশি অভিযান পরিচালনা করেছে অভিবাসন বিভাগ। এসব অভিযানে প্রায় দেড় লাখ বিদেশির কাগজপত্র ও পরিচয় যাচাই করা হয়েছে। এই সময়ে ৬৬ হাজারের বেশি বিদেশিকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৪১ হাজারের বেশি সরাসরি অভিবাসন বিভাগের আইন প্রয়োগকারী অভিযানের মাধ্যমে আটক হন। বাকি ২৪ হাজারের বেশি বিদেশিকে অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে আটক বা হস্তান্তর করা হয়েছে। তাঁদের দেশের প্রবেশপথে আটক করা হয়েছে কিংবা অন্যান্য অভিযানের আওতায় নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পর ৪৫ হাজারের বেশি বিদেশিকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। অন্যদের বিরুদ্ধে অভিবাসন বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। /এমএএইচ/