Advertisement(970X90).png
Advertisement(300X90).png

১৫ কার্তিক ১৪৩৩, ১৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

শিক্ষার্থী কমছে মাধ্যমিকে, বেড়েছে মাদ্রাসায়
শিক্ষার্থী কমছে মাধ্যমিকে, বেড়েছে মাদ্রাসায়

শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) বাংলাদেশ শিক্ষা পরিসংখ্যান-২০২৫ প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে দাখিল, আলিম, ফাজিল ও কামিল পর্যায়ের মাদ্রাসা ছিলো ৯ হাজার ২৬৯টি। ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ২৯৬টিতে। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ২০২৪ সালের প্রায় ২৭ লাখ ৯৬ হাজার থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে ২৮ লাখ ৪০ হাজারের বেশি হয়েছে। অর্থাৎ এক বছরে প্রতিষ্ঠান বেড়েছে ২৭টি এবং শিক্ষার্থী বেড়েছে ৪৩ হাজারের বেশি। এই হিসাবে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি ও কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী অন্তর্ভুক্ত নয়। অন্যদিকে, ২০২৪ সালে দেশে জুনিয়র স্কুলসহ সরকারি-বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ছিলো ১৯ হাজার ১১৭টি। ২০২৫ সালে তা বেড়ে হয়েছে ১৯ হাজার ২১১টি। প্রতিষ্ঠান বাড়লেও শিক্ষার্থী কমেছে চার লাখ আট হাজারের বেশি। ২০২৪ সালে এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ছিল ৭৮ লাখ ৪৭ হাজার ৫৪৬ জন। পরের বছর তা কমে ৭৪ লাখ ৩৯ হাজারের কিছু বেশি হয়েছে। বিপরীতে, দেশে ১৪৩টি ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলে শিক্ষার্থী ২০২৪ সালের ২৯ হাজার ৭৭ থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে ২৯ হাজার ৬৭২ হয়েছে। অর্থাৎ বেড়েছে ৫৯৫ জন। মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী বাড়ছে কেন? শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, মাদ্রাসায় বিনামূল্যে থাকা-খাওয়াসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং ধর্মীয় শিক্ষার প্রতি আগ্রহ শিক্ষার্থী বাড়ার কারণ হতে পারে। করোনার পর দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক সংকটের সঙ্গেও এই প্রবণতার যোগসূত্র দেখছেন কোনো কোনো শিক্ষাবিদ। তবে মাধ্যমিক থেকে মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী স্থানান্তর হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত নয়। ব্যানবেইসের প্রতিবেদনে শিক্ষার্থী বাড়া-কমার কারণ বিশ্লেষণ করা হয়নি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মনিনুর রশীদ বলেন, মাধ্যমিকে শিক্ষার্থী কমার পেছনে করোনার পর শিখন ঘাটতি, পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়া, শিশুদের শ্রমে যুক্ত হওয়া এবং শিক্ষাক্রমের প্রভাব থাকতে পারে। প্রকৃত কারণ জানতে নিবিড় গবেষণা প্রয়োজন। শিক্ষা-সংশ্লিষ্টদের মতে, শিক্ষার্থীর সংখ্যা দিয়ে একা শিক্ষার অগ্রগতি বিচার করা যায় না। শিক্ষার মান, ঝরে পড়ার হার, শিক্ষকদের যোগ্যতা ও কর্মসংস্থানে শিক্ষার্থীদের অগ্রগতিও মূল্যায়ন করতে হবে। /শান্ত/