Advertisement(970X90).png
Advertisement(300X90).png

১৫ কার্তিক ১৪৩৩, ১৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, মাদ্রাসায় আগুন দিলো বিক্ষুব্ধ জনতা
ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, মাদ্রাসায় আগুন দিলো বিক্ষুব্ধ জনতা

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ভোররাতে উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের দড়িভাউডাঙ্গা এলাকার নূরে মদিনা মহিলা মাদ্রাসায় এই ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাদ্রাসাটিতে আবাসিক ব্যবস্থা থাকায় শিক্ষক ইউসুফ স্ত্রীসহ সেখানেই থাকতেন। বৃহস্পতিবার তার স্ত্রী বাড়িতে চলে গেলে রাতে তিনি একাই ছিলেন। রাত আড়াইটার দিকে নাজেরা বিভাগের এক আবাসিক ছাত্রী টয়লেটে যাওয়ার জন্য কক্ষ থেকে বের হলে শিক্ষক তাকে নিজের কক্ষে টেনে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। একপর্যায়ে ওই ছাত্রী কৌশলে পালিয়ে স্থানীয়দের বিষয়টি জানায়। খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকেরা মাদ্রাসায় জড়ো হন। তারা অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে উত্তেজিত জনতা মাদ্রাসায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। তবে শিক্ষার্থীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। আটক ইউসুফ প্রামাণিক পাশের সাদুল্লাহপুর ইউনিয়নের খালিশপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ৫ বছরের বেশি সময় ধরে ভাড়া করা বহুতল ভবনে মাদ্রাসাটি পরিচালনা করছিলেন। স্থানীয়দের দাবি, এর আগেও তার বিরুদ্ধে নারীসংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছিলো। পাবনার পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে থানায় নিয়ে যায়। ভুক্তভোগী ছাত্রীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। /শান্ত/

শিক্ষার্থী কমছে মাধ্যমিকে, বেড়েছে মাদ্রাসায়
শিক্ষার্থী কমছে মাধ্যমিকে, বেড়েছে মাদ্রাসায়

শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) বাংলাদেশ শিক্ষা পরিসংখ্যান-২০২৫ প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে দাখিল, আলিম, ফাজিল ও কামিল পর্যায়ের মাদ্রাসা ছিলো ৯ হাজার ২৬৯টি। ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ২৯৬টিতে। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ২০২৪ সালের প্রায় ২৭ লাখ ৯৬ হাজার থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে ২৮ লাখ ৪০ হাজারের বেশি হয়েছে। অর্থাৎ এক বছরে প্রতিষ্ঠান বেড়েছে ২৭টি এবং শিক্ষার্থী বেড়েছে ৪৩ হাজারের বেশি। এই হিসাবে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি ও কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী অন্তর্ভুক্ত নয়। অন্যদিকে, ২০২৪ সালে দেশে জুনিয়র স্কুলসহ সরকারি-বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ছিলো ১৯ হাজার ১১৭টি। ২০২৫ সালে তা বেড়ে হয়েছে ১৯ হাজার ২১১টি। প্রতিষ্ঠান বাড়লেও শিক্ষার্থী কমেছে চার লাখ আট হাজারের বেশি। ২০২৪ সালে এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ছিল ৭৮ লাখ ৪৭ হাজার ৫৪৬ জন। পরের বছর তা কমে ৭৪ লাখ ৩৯ হাজারের কিছু বেশি হয়েছে। বিপরীতে, দেশে ১৪৩টি ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলে শিক্ষার্থী ২০২৪ সালের ২৯ হাজার ৭৭ থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে ২৯ হাজার ৬৭২ হয়েছে। অর্থাৎ বেড়েছে ৫৯৫ জন। মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী বাড়ছে কেন? শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, মাদ্রাসায় বিনামূল্যে থাকা-খাওয়াসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং ধর্মীয় শিক্ষার প্রতি আগ্রহ শিক্ষার্থী বাড়ার কারণ হতে পারে। করোনার পর দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক সংকটের সঙ্গেও এই প্রবণতার যোগসূত্র দেখছেন কোনো কোনো শিক্ষাবিদ। তবে মাধ্যমিক থেকে মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী স্থানান্তর হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত নয়। ব্যানবেইসের প্রতিবেদনে শিক্ষার্থী বাড়া-কমার কারণ বিশ্লেষণ করা হয়নি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মনিনুর রশীদ বলেন, মাধ্যমিকে শিক্ষার্থী কমার পেছনে করোনার পর শিখন ঘাটতি, পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়া, শিশুদের শ্রমে যুক্ত হওয়া এবং শিক্ষাক্রমের প্রভাব থাকতে পারে। প্রকৃত কারণ জানতে নিবিড় গবেষণা প্রয়োজন। শিক্ষা-সংশ্লিষ্টদের মতে, শিক্ষার্থীর সংখ্যা দিয়ে একা শিক্ষার অগ্রগতি বিচার করা যায় না। শিক্ষার মান, ঝরে পড়ার হার, শিক্ষকদের যোগ্যতা ও কর্মসংস্থানে শিক্ষার্থীদের অগ্রগতিও মূল্যায়ন করতে হবে। /শান্ত/