মক্কা চুক্তি থেকে ১০ বছরের আগে বেরোতে পারবে না কোন দেশ
গত ৭ অগস্ট সৌদি আরবের মক্কায় সৌদি আরব, তুরস্ক এবং পাকিস্তানের মধ্যে মক্কা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির মাধ্যমে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে তিন দেশ একে অন্যের পাশে থাকার ঘোষণা করে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, কোনও একটি দেশের উপর আক্রমণ হলে অপর দেশগুলিও তার পাশে দাঁড়াবে। যুদ্ধ-সরঞ্জাম দিয়ে সাহায্য করবে। অর্থাৎ, কোনও একটি দেশের উপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের উপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। কেউ কেউ এই প্রতিরক্ষা চুক্তিকে ‘ইসলামীয় নেটো’ বলেও বর্ণনা করছেন। তবে শর্ত অনুযায়ী, চুক্তির ন্যূনতম ১০ বছরের মেয়াদকাল শুরু হবে স্বাক্ষরিত দেশগুলোর সচিবালয়ে এটি অনুমোদন পাওয়ার পরেই। এ ক্ষেত্রে চুক্তি স্বাক্ষরের দিনটিকে গ্রাহ্য করা হবে না। গত কয়েক দিন ধরেই সৌদির জনবসতি এবং অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে ইরান সমর্থিত শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথি। হুথিকে রুখতে রিয়াধ তো বটেই, ইয়েমেন সরকারও সামরিক অভিযান শুরু করেছে। তার পরেও সৌদির গুরুত্বপূর্ণ শহর, তেল উত্তোলনকেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালানো অব্যাহত রেখেছে হুথি। মক্কা চুক্তিতে অন্যতম স্বাক্ষরকারী দেশ হলেও সৌদিতে প্রথমে সেনা পাঠানোর বিষয়ে ইতিবাচক কোনও বার্তা দেয়নি ইসলামবাদ। সেপ্টেম্বরে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ বলেছিলেন, “যদি বিনা প্ররোচনায় আগ্রাসন দেখানো হয়, অথবা ইয়েমেন কিংবা সৌদি আরবে যা হচ্ছে, তাতে এটা বলাই যায় মক্কা চুক্তি কার্যকর করা হবে।” অনেকেই মনে করেছিলেন পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী সৌদি আরবের পাশে দাঁড়িয়ে হুথির বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরার বার্তা দিয়েছেন। পরে অবশ্য ইসলামাবাদ স্পষ্ট করে, চুক্তিটি মূলত প্রতিরক্ষামূলক এবং এর অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাকিস্তান সেনাকে সামরিক অভিযানে পাঠানো নয়। তার পর অবশ্য চুক্তির শর্তে মেনেই হুথিকে রুখতে সৌদিতে সেনা পাঠাতে রাজি হন শাহবাজ শরীফ সরকার। কেআর/