Advertisement(970X90).png
Advertisement(300X90).png

১৫ কার্তিক ১৪৩৩, ১৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

অস্থির হয়ে উঠতে পারে ভোজ্যতেলের বাজার
অস্থির হয়ে উঠতে পারে ভোজ্যতেলের বাজার

ইতোমধ্যেই বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনস্ত সংস্থা বাংলাদেশ ট্রেড এন্ড ট্যারিফ কমিশনে ব্যবসায়ীরা তাদের এই প্রস্তাব জমা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বাণিজ্য সচিবের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও সে বৈঠকে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আশঙ্কা করা হচ্ছে, দাম না বাড়ানো পর্যন্ত ভোজ্যতেল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো যে কোনো কারসাজির মাধ্যমে বিশেষ করে সরবরাহ কমিয়ে দিয়ে ভোজ্যতেলের বাজারকে অস্থির করে তুলতে পারে। জানা গেছে, রোজার আগেই এই বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে চায় ভোজ্যতেল আমদাসিনকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর প্রতি লিটারে ৫ টাকা বাড়িয়ে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ২০৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিলো। সে সময় পাম অয়েলের দাম বাড়ানো হয়নি। গত ২ সেপ্টেম্বর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ভোজ্যতেল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি, আমদানি ব্যয় এবং দেশের বাজারে ভোজ্যতেলের বিদ্যমান মূল্য পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা শেষে সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিলো। সেইে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বর্তমানে বাজারে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ২০৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এর আগে চলতি বছরের ২৬ এপ্রিল দেশের বাজারে সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানো হয়েছিলো। তখন প্রতি লিটারে ৪ টাকা বাড়িয়ে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১৯৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়। তার আগে এই তেলের দাম ছিলো ১৯৫ টাকা। কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সাধারন সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, দেশের সয়াবিন তেলের বাজারের ৮৫-৯০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণে রেখেছে ৪ থেকে ৫টি কোম্পানি। ওইসব বড় কোম্পানি দেশের চাহিদামতো তেল আমদানির পর রিফাইন করে বাজারে ছাড়ে। বাড়তি মুনাফা করতে তারা বছরের একেক সময় তাদের ডিলারদের মাধ্যমে বাজারে সরবরাহ কমিয়ে দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি কঠোরভাবে মনিটরিং ককরা দরকার বলে তিনি মনে করেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, নতুন করে দাম বাড়ানোর আবেদন জানিয়ে গত ১৩ অক্টোবর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের কাছে চিঠি দিয়েছে ভোজ্যতেল উৎপাদন ও পরিশোধনকারী কোম্পানিগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন। চিঠিতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি এবং স্থানীয় পর্যায়ে জ্বালানি ও পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ১৪ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন। যা ২৫ অক্টোবর থেকে কার্যকর হবে বলেও জানিয়েছে সংগঠনটি। কিন্তু বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে ব্যবসায়ীদের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তে সম্মতি দেওয়া হয়নি। ফলে বাজারে বর্তমানে বোতলজাত সয়াবিনতেল প্রতিলিটার ২০৪ টাকাই বহাল আছে। এই বিষয়ে জানতে চাইলে সিটি গ্রুপের পরিচালক বিশ্বজিৎ সাহা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে কাচামালের দাম বেড়েছে, দেশে বেড়েছে জ্বালানির দাম। বেড়েছে পরিবহন খরচ। এসব কারণেই সরকারকে ভোজ্যতেলের দাম সমন্বয়ের জন্য প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বাণিজ্য সচিব শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী জানিয়েছেন, ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানো হয়নি। আগের দামই বহাল আছে। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির সুযোগ নাই। সরকার সার্বক্ষনিক ভোজ্যতেলসহ নিত্যপণ্যের বাজার পরিস্থিতি মনিটরিং করছে। রাজধানীর কাওরান বাজারে খোজ নিয়ে জানা গেছে, বাজারে ভোজ্যতেলের সরবরাহ ও দাম ঠিক আছে। জানতে চাইলে কাওরানবাজার কিচেন মার্কেটের শুক্কুর ট্রেডার্সের মালিক শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, সরকারের কাছে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জেনেছি। তবে বাজারে বর্তমানে ভোজ্যতেলের কোনো সংকট নাই। ২ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত বোতলজাত সয়াবিন তেল ২০৪ টাকা লিটার দরেই বিক্রি হচ্ছে। /এসআই/