দুর্গাপূজার প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয় কেন?
দেবীর বিদায় ও কৈলাসে ফেরার বিশ্বাস বাংলার দুর্গাপূজায় দেবী দুর্গাকে শক্তির প্রতীক হিসেবে পূজার পাশাপাশি ঘরের মেয়ের রূপেও কল্পনা করা হয়। শরৎকালে তার আগমন যেনো বাপের বাড়িতে মেয়ের ফিরে আসা। কয়েক দিনের পূজা ও আনন্দ-উৎসব শেষে দশমীতে তাকে বিদায় জানান ভক্তরা। দেবীর কৈলাসে ফিরে যাওয়ার বিশ্বাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে এই আবেগ। বিসর্জনের ধর্মীয় তাৎপর্য বিজয়া দশমীতে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রতিমা শোভাযাত্রার মাধ্যমে নদী, পুকুর বা নির্দিষ্ট জলাশয়ে নিয়ে বিসর্জন দেওয়া হয়। এই প্রথা বিসর্জন বা নিরঞ্জন নামে পরিচিত। মাটি দিয়ে প্রতিমা তৈরি করে তাতে দেবীর রূপ কল্পনা করা হয়। উৎসব শেষে সেই প্রতিমা পানিতে ফিরিয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক এবং সব দৃশ্যমান রূপের পরিবর্তনশীলতাকে প্রতীকীভাবে তুলে ধরা হয়। প্রতিমার রূপের অবসান ঘটলেও ভক্তদের মনে দেবীর প্রতি বিশ্বাস ও শ্রদ্ধা থেকে যায়। দর্পণ বিসর্জন কী? প্রতিমা বিসর্জনের আগে অনেক পূজায় দর্পণ বিসর্জনের রীতি পালন করা হয়। এই সময় আয়নায় দেবীর প্রতিবিম্বের মাধ্যমে প্রতীকী বিসর্জন সম্পন্ন করা হয়। এরপর প্রতিমা জলাশয়ে বিসর্জন দিয়ে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে। দশমীতে দেবীবরণ ও সিঁদুর খেলার মতো রীতিও পালিত হয়। বিবাহিত নারীরা দেবীকে সিঁদুর পরিয়ে মিষ্টি নিবেদন করেন এবং পরে একে অপরকে সিঁদুর মাখিয়ে শুভকামনা জানান। তবে এসব আচার অঞ্চল ও পারিবারিক রীতিভেদে ভিন্ন হতে পারে। বিসর্জনে পরিবেশের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্যগতভাবে মাটির প্রতিমা পানিতে বিসর্জন দেওয়া হলেও প্রতিমা তৈরিতে ব্যবহৃত প্লাস্টার অব প্যারিস, রাসায়নিক রং, প্লাস্টিক ও অন্যান্য অবিয়োজ্য উপকরণ জলাশয়ের দূষণ বাড়াতে পারে। তাই প্রাকৃতিক উপকরণে প্রতিমা তৈরি এবং বিসর্জনের পর জলাশয় থেকে বাঁশ, কাপড়, প্লাস্টিক ও অন্যান্য সাজসজ্জার সামগ্রী সরিয়ে ফেলা জরুরি। দুর্গাপূজার বিসর্জন তাই ধর্মীয় আচার ও বাঙালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের পাশাপাশি প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সম্পর্কের কথাও স্মরণ করিয়ে দেয়। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেও ভক্তদের মনে থেকে যায় স্মৃতি, শুভেচ্ছা ও আগামী বছর আবার দেবীর আগমনের অপেক্ষা। /শান্ত/