Advertisement(970X90).png
Advertisement(300X90).png

১৫ কার্তিক ১৪৩৩, ১৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

রমজান উপলক্ষে ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, মসুর ডাল ও খেজুরের আমদানি বেড়েছে
রমজান উপলক্ষে ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, মসুর ডাল ও খেজুরের আমদানি বেড়েছে

রমজানকে সামনে রেখে ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, মসুর ডাল ও খেজুরের আমদানি এবং ঋণপত্র (এলসি) খোলার পরিমাণ বেড়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, আমদানি বাড়লেও পণ্যের সরবরাহ, আমদানি ব্যয়, শুল্ক ও ব্যবসায়ীদের বাজার ব্যবস্থাপনার ওপর নির্ভর করছে সাধারণ ভোক্তার জন্য বাজার কতটা স্বস্তিদায়ক থাকবে। সম্প্রতি রাজধানীর বাজারে ছোলা, ভোজ্যতেল, ডাল, চিনি ও খেজুরের দাম বাড়ার খবরও পাওয়া গেছে। যদিও বাণিজ্যমন্ত্রী আব্দুল মুক্তাদির চৌধুরী আশ্বস্থ করেছেন, রমজানে প্রয়োজনীয় নিত্যপণ্যের সরবরাহ ঠিক থাকবে। রমজানকে কেন্দ্র করে বাজারে পণ্যের সংকট সৃষ্টির কোনো সুযোগ নেই। বুধবার (২৮ অক্টোবর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে নিত্যপণ্যের আমদানিকারক ও সংশ্লিষ্ট পণ্যের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এমন আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন (বিটিটিসি) সূত্রে জানা গেছে, গত ১ জুলাই থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত চিনি আমদানি হয়েছে ৬ লাখ ৮৭ হাজার টন, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১ লাখ ৫৩ হাজার টন বেশি। চিনির এলসি খোলার পরিমাণ ৮ লাখ ১০ হাজার টন। ভোজ্যতেল আমদানি হয়েছে ৮ লাখ ২৩ হাজার টন। গত বছর একই সময়ে হয়েছিলো ৭ লাখ ৫ হাজার টন। এই সময়ে ভোজ্যতেলের এলসি খোলা হয়েছে ৮ লাখ ৫ হাজার টন, যা আগের বছরের তুলনায় ১ লাখ ৩১ হাজার টন বেশি। ইফতারে বহুল ব্যবহৃত ছোলা আমদানি বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। ছোলার এলসি খোলা হয়েছে ১ লাখ ৩৮ হাজার টন। গত বছরের একই সময়ে ১২ হাজার টন ছোলা আমদানি হলেও এবার হয়েছে ৮২ হাজার টন। অর্থাৎ আমদানি বেড়েছে প্রায় ৬ দশমিক ৮ গুণ। খেজুর আমদানি হয়েছে ১১ হাজার টনে, গত বছর ছিলো ৪ হাজার টন। মসুর ডাল আমদানি হয়েছে ১ লাখ ২২ হাজার টন, যা আগের বছরের তুলনায় ৬৪ হাজার টন বেশি। এই সময়ে মসুর ডালের এলসি খোলা হয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার টন। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ছোলা, খোলা সয়াবিন তেল, মসুর ডাল, চিনি ও খেজুরের দাম স্থিতিশীল থাকলেও খুচরা বাজারের বাস্তব পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ জরুরি। রমজানে খেজুরের সরবরাহ ও দাম সহনীয় রাখতে আমদানি শুল্ক কাঠামো সহজ, স্বচ্ছ ও যৌক্তিক করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন স্বয়ং বাণিজ্যমন্ত্রী। মিশর, সৌদি আরব, ইরাক ও আলজেরিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে বিভিন্ন মানের খেজুর আমদানি হয়। তাই সব ধরনের খেজুরে একই ধরনের মূল্য হয় না, মানও সমান নয়। পণ্যের গুণগত মান ও আমদানি মূল্যের ভিত্তিতে শুল্ক নির্ধারণের বিষয়টি সরকারের আলোচনায় এসেছে। টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি বড় দানার মসুর ডালের দাম গত এক মাসে ২ দশমিক ৫৬ শতাংশ কমেছে। বর্তমানে প্রতি কেজি বড় দানার মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকা দরে। বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটার ২০৪ টাকা এবং ৫ লিটারের বোতল ১ হাজার টাকায় স্থিতিশীল রয়েছে। চিনির দাম প্রতি কেজি ১১০ থেকে ১১৫ টাকা। আমদানিকারকরা জানিয়েছেন, প্রকৃত মূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন শুল্কায়ন, বিকল্প পরিবহণ পথের বাড়তি ব্যয় এবং এলসি খোলার জটিলতা পণ্যের দাম বাড়াতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এসব সমস্যা সমাধানে পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। সভায় বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেল ও ছোলার দাম কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও মসুর ডালের দাম কমেছে। তাই আমদানি ব্যয় ও বিশ্ববাজারের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। বাণিজ্যমন্ত্রী আব্দুল মুক্তাদির চৌধুরী জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম ও জাহাজ ভাড়া ওঠানামায় পণ্যের আমদানি ব্যয় ও দেশের বাজারে পণ্যের দাম নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মন্ত্রী বলেছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ছোলার দাম বেড়েছে, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপ আলোচনা চলছে। পণ্য আমদানিতে এলসি খোলার ক্ষেত্রে যে কোনো ধরণের জটিলতা নিরসনে ব্যাংকগুলোর সঙ্গে আলাপ আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী আব্দুল মুক্তাদির চৌধুরী। এই প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রাজধানীর পাইকারি বাজার মৌলভীবাজারের ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি গোলাম মাওলা জানিয়েছেন, যেসব পণ্য আমাদের আমদানি করতে হয় সেসব পণ্যের দাম নির্ভর করে আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্য পরিস্থিতির ওপর। সেখানে দেশের ব্যবসায়ীদের কিছু করার নেই। এছাড়াও আমদানিকৃত পণ্য পরিবহণে জাহাজ ভাড়া একটি বড় বিষয়, যা জ্বালানি তেলের মূল্য পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। এর বাইরে দেশের অভ্যন্তরে পণ্য পরিবহণে ট্রাকভাড়া তো আছেই। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, বিটিটিসি’র চেয়ারম্যান নাসির উদ দৌলা, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জহিরুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা সভায় উপস্থিত ছিলেন। /এসআই/এমএএইচ/

অস্থির হয়ে উঠতে পারে ভোজ্যতেলের বাজার
অস্থির হয়ে উঠতে পারে ভোজ্যতেলের বাজার

ইতোমধ্যেই বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনস্ত সংস্থা বাংলাদেশ ট্রেড এন্ড ট্যারিফ কমিশনে ব্যবসায়ীরা তাদের এই প্রস্তাব জমা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বাণিজ্য সচিবের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও সে বৈঠকে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আশঙ্কা করা হচ্ছে, দাম না বাড়ানো পর্যন্ত ভোজ্যতেল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো যে কোনো কারসাজির মাধ্যমে বিশেষ করে সরবরাহ কমিয়ে দিয়ে ভোজ্যতেলের বাজারকে অস্থির করে তুলতে পারে। জানা গেছে, রোজার আগেই এই বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে চায় ভোজ্যতেল আমদাসিনকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর প্রতি লিটারে ৫ টাকা বাড়িয়ে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ২০৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিলো। সে সময় পাম অয়েলের দাম বাড়ানো হয়নি। গত ২ সেপ্টেম্বর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ভোজ্যতেল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি, আমদানি ব্যয় এবং দেশের বাজারে ভোজ্যতেলের বিদ্যমান মূল্য পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা শেষে সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিলো। সেইে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বর্তমানে বাজারে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ২০৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এর আগে চলতি বছরের ২৬ এপ্রিল দেশের বাজারে সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানো হয়েছিলো। তখন প্রতি লিটারে ৪ টাকা বাড়িয়ে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১৯৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়। তার আগে এই তেলের দাম ছিলো ১৯৫ টাকা। কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সাধারন সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, দেশের সয়াবিন তেলের বাজারের ৮৫-৯০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণে রেখেছে ৪ থেকে ৫টি কোম্পানি। ওইসব বড় কোম্পানি দেশের চাহিদামতো তেল আমদানির পর রিফাইন করে বাজারে ছাড়ে। বাড়তি মুনাফা করতে তারা বছরের একেক সময় তাদের ডিলারদের মাধ্যমে বাজারে সরবরাহ কমিয়ে দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি কঠোরভাবে মনিটরিং ককরা দরকার বলে তিনি মনে করেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, নতুন করে দাম বাড়ানোর আবেদন জানিয়ে গত ১৩ অক্টোবর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের কাছে চিঠি দিয়েছে ভোজ্যতেল উৎপাদন ও পরিশোধনকারী কোম্পানিগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন। চিঠিতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি এবং স্থানীয় পর্যায়ে জ্বালানি ও পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ১৪ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন। যা ২৫ অক্টোবর থেকে কার্যকর হবে বলেও জানিয়েছে সংগঠনটি। কিন্তু বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে ব্যবসায়ীদের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তে সম্মতি দেওয়া হয়নি। ফলে বাজারে বর্তমানে বোতলজাত সয়াবিনতেল প্রতিলিটার ২০৪ টাকাই বহাল আছে। এই বিষয়ে জানতে চাইলে সিটি গ্রুপের পরিচালক বিশ্বজিৎ সাহা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে কাচামালের দাম বেড়েছে, দেশে বেড়েছে জ্বালানির দাম। বেড়েছে পরিবহন খরচ। এসব কারণেই সরকারকে ভোজ্যতেলের দাম সমন্বয়ের জন্য প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বাণিজ্য সচিব শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী জানিয়েছেন, ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানো হয়নি। আগের দামই বহাল আছে। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির সুযোগ নাই। সরকার সার্বক্ষনিক ভোজ্যতেলসহ নিত্যপণ্যের বাজার পরিস্থিতি মনিটরিং করছে। রাজধানীর কাওরান বাজারে খোজ নিয়ে জানা গেছে, বাজারে ভোজ্যতেলের সরবরাহ ও দাম ঠিক আছে। জানতে চাইলে কাওরানবাজার কিচেন মার্কেটের শুক্কুর ট্রেডার্সের মালিক শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, সরকারের কাছে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জেনেছি। তবে বাজারে বর্তমানে ভোজ্যতেলের কোনো সংকট নাই। ২ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত বোতলজাত সয়াবিন তেল ২০৪ টাকা লিটার দরেই বিক্রি হচ্ছে। /এসআই/

ভোজ্যতেলের দাম প্রসঙ্গে যা বললেন বাণিজ্যমন্ত্রী
ভোজ্যতেলের দাম প্রসঙ্গে যা বললেন বাণিজ্যমন্ত্রী

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই। বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে সচিবালয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সার্বিক সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যালোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই কথা বলেন। আসন্ন রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক ও বাজার স্থিতিশীল রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী। খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়া-কমার ওপর আমদানির্ভর পণ্যের দেশীয় বাজারদর অনেকটাই নির্ভরশীল। আগামী রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের কোনো ঘাটতি যাতে না হয়, সে লক্ষ্যেই আগাম প্রস্তুতি ও সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সরকার বাজার স্থিতিশীল রাখতে কাজ করছে। ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ মালয়েশিয়ার সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন হবে বলেও জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। /এমএএইচ/

৩৬ জেলায় একদিনে জরিমানা ৭ লাখ ৯৬ হাজার টাকা
৩৬ জেলায় একদিনে জরিমানা ৭ লাখ ৯৬ হাজার টাকা

দেশের ৩৬টি জেলায় একযোগে পরিচালিত অভিযানে বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে ১০১টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে মোট ৭ লাখ ৯৬ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অধিদপ্তরের ৫২টি বিশেষ দল দেশের বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা বাজারে এই অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিলো ভোজ্যতেল, পেঁয়াজ, আদা, রসুনসহ রান্নার প্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহে প্রতিবন্ধকতা রোধ করা। এই সময় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ক্রয়-বিক্রয়ের ভাউচার, দৃশ্যমান স্থানে হালনাগাদ মূল্যতালিকা প্রদর্শন এবং পণ্যের সঠিক ওজন নিশ্চিত করার বিষয়গুলো যাচাই করা হয়। অভিযানকালে ব্যবসায়ীদের মূল্যতালিকা প্রদর্শন, ডিজিটাল ওজনে পণ্য বিক্রি এবং ক্রয়-বিক্রয়ের যথাযথ নথিপত্র সংরক্ষণের নির্দেশনা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে অযৌক্তিক মজুতদারি ও পণ্যের সরবরাহ বাধাগ্রস্ত করার মতো অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়। বাজারে সচেতনতা বাড়াতে ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিতরণ করা হয় সচেতনতামূলক লিফলেট। অভিযানে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্বাস্থ্য পরিদর্শক, কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এবং বণিক সমিতির প্রতিনিধিরা সহযোগিতা করেন। এদিকে ভোক্তাদের আতঙ্কিত হয়ে প্রয়োজনের অতিরিক্ত পণ্য কেনা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে অধিদপ্তর। কেনাকাটার সময় পণ্যের মেয়াদ ও সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (এমআরপি) যাচাই এবং অবশ্যই ক্যাশমেমো বা ক্রয়ভাউচার সংগ্রহের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পণ্য কেনাবেচায় প্রতারণা, মূল্য কারসাজি বা অন্য কোনো অনিয়মের শিকার হলে অধিদপ্তরের হটলাইন ১৬১২১ নম্বরে অভিযোগ জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। বাজারে পণ্যের স্বাভাবিক সরবরাহ ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে এ ধরনের তদারকি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর। /এসআই/

এবার ইউরোপের বাজারেও কমলো পোশাক রপ্তানি
এবার ইউরোপের বাজারেও কমলো পোশাক রপ্তানি

ইউরোস্ট্যাটের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম আট মাসে বাংলাদেশ থেকে ১ হাজার ১৯৩ কোটি ইউরোর পোশাক আমদানি করেছে ইইউ। গত বছরের একই সময়ে যা ছিল ১ হাজার ৩৫০ কোটি ইউরো। একই সময়ে বাংলাদেশ থেকে পোশাকের পরিমানগত রপ্তানিরও পরিমাণ কমেছে ৪ দশমিক ৫৮ শতাংশ। তবে রপ্তানি আয়ের ওপর বড় প্রভাব ফেলেছে গড় রপ্তানিমূল্যের পতন। প্রতি কেজি পোশাকের গড় রপ্তানিমূল্য ১৪ দশমিক ৮৭ ইউরো থেকে কমে ১৩ দশমিক ৭৬ ইউরোতে নেমেছে। অর্থাৎ, প্রতি কেজি পোশাক রপ্তানি করে গত বছরের তুলনায় কম অর্থ পাচ্ছে বাংলাদেশ। জানুয়ারি-আগস্টের সামগ্রিক চিত্র নেতিবাচক হলেও আগস্ট মাসের পরিসংখ্যানে কিছুটা ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। গত বছরের আগস্টের তুলনায় চলতি বছরের আগস্টে ইইউর মোট পোশাক আমদানির মূল্য বেড়েছে শূন্য দশমিক ৭২ শতাংশ। এ সময়ে আমদানির পরিমাণ কমেছে শূন্য দশমিক ৫৭ শতাংশ। তবে গড় আমদানিমূল্য বেড়েছে ১ দশমিক ২৯ শতাংশ। এতে বোঝা যায়, সাম্প্রতিক মাসে ইইউর পোশাক আমদানির বাজারে মূল্য ও চাহিদার পরিস্থিতিতে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। তবে এ প্রবণতা দীর্ঘমেয়াদে অব্যাহত থাকবে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। রপ্তানি কমার কারণ পোশাক রপ্তানিকারকরা মনে করছেন, রপ্তানির পরিমাণ কমার পাশাপাশি পোশাকের গড় রপ্তানিমূল্য কমে যাওয়ায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের কারণে বাংলাদেশের প্রতিযোগীরা, বিশেষ করে চীন ইউরোপের বাজার ধরতে কম মূল্যে পোশাকের কার্যাদেশ নিচ্ছে। ফলে বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়ছে বলে জানান তারা। বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শুল্কের প্রভাবে চীন এখন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। বাজার ধরে রাখতে তারা তুলনামূলক কম দামে ক্রয়াদেশ নিচ্ছে। ফলে ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হচ্ছে।’ তিনি বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট এবং উচ্চমূল্যের কারণে দেশের পোশাক কারখানাগুলোর উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে চীন কম দামের পোশাক রপ্তানি করছে। এই দ্বিমুখী চাপে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের মুনাফা কমছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।’ এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ ও উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ জরুরি বলে তিনি মনে করেন। একই কথা বলেন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল। তিনি বলেন, ‘ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা কমে যাওয়ার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো পণ্যের গড় বিক্রয়মূল্য ক্রমাগত কমে যাওয়া। রপ্তানির পরিমাণ বাড়লেও পণ্যের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় রপ্তানি আয় ও মুনাফা প্রত্যাশিত হারে বাড়ছে না।’ তিনি এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে বাংলাদেশকে কম দামের পণ্যের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে উচ্চমূল্য সংযোজিত ও বৈচিত্র্যময় পোশাক উৎপাদনে গুরুত্ব দেয়ার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, ‘একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সঙ্গে দরকষাকষির সক্ষমতা বাড়িয়ে পণ্যের উপযুক্ত মূল্য নিশ্চিত করতে হবে। শুধু বেশি পরিমাণে রপ্তানি নয়, বরং বেশি মূল্য ও মুনাফা নিশ্চিত করাই এখন বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। পিছিয়েছে তুরস্ক, ভারত, পাকিস্তানও ইইউর বাজারে বাংলাদেশের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি প্রধান পোশাক রপ্তানিকারক দেশের আয়ও কমেছে। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে তুরস্কের পোশাক রপ্তানি আয় কমেছে ১১ দশমিক ০২ শতাংশ। দেশটি থেকে ইইউর আমদানি দাঁড়িয়েছে ৫১০ কোটি ইউরো। ভারতের রপ্তানি কমেছে ১০ দশমিক ৮৪ শতাংশ, শ্রীলঙ্কার ১১ দশমিক ১২ শতাংশ এবং ইন্দোনেশিয়ার ১১ দশমিক ০৩ শতাংশ। এ ছাড়া পাকিস্তানের রপ্তানি আয় কমেছে ৯ দশমিক ৬৩ শতাংশ, মরক্কোর ৬ দশমিক ১০ এবং কম্বোডিয়ার ৪ দশমিক ৫১ শতাংশ। তবে দেশগুলোর রপ্তানি পরিস্থিতিতে ভিন্নতা রয়েছে। পাকিস্তানের পোশাক রপ্তানির পরিমাণ ৩ দশমিক ৮২ শতাংশ বাড়লেও গড় রপ্তানিমূল্য কমেছে ১২ দশমিক ৯৬ শতাংশ। কম্বোডিয়ার রপ্তানির পরিমাণ ১১ দশমিক ৬৩ শতাংশ কমেছে, তবে গড় রপ্তানিমূল্য বেড়েছে ৮ দশমিক ০৫ শতাংশ। ভালো অবস্থায় চীন-ভিয়েতনাম বাংলাদেশের প্রধান প্রতিযোগী দেশগুলোর মধ্যে চীন ও ভিয়েতনাম রপ্তানি আয় বাড়াতে সক্ষম হয়েছে ইইউর বাজারে। ইউরোপীয় পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাটের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি-আগস্ট সময়ে চীন থেকে ইইউর পোশাক আমদানি বেড়েছে ২ দশমিক ৩৮ শতাংশ। এ সময়ে চীনের রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯৭১ কোটি ইউরো। দেশটির পোশাক রপ্তানির পরিমাণও বেড়েছে ৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ। তবে গড় রপ্তানিমূল্য কমেছে ১ দশমিক ০৪ শতাংশ। ভিয়েতনাম থেকে ইইউর পোশাক আমদানি বেড়েছে ৪ দশমিক ৪৬ শতাংশ। দেশটি থেকে আমদানি করা পোশাকের মূল্য দাঁড়িয়েছে ৩০০ কোটি ইউরো। তবে এ সময়ে ভিয়েতনামের পোশাক রপ্তানির পরিমাণ কমেছে ৫ দশমিক ১৩ শতাংশ। গড় রপ্তানিমূল্য ১০ দশমিক ১১ শতাংশ বাড়ায় দেশটির মোট রপ্তানি আয় বেড়েছে। ফলে, চীন রপ্তানির পরিমাণ বাড়িয়ে আয় বাড়িয়েছে। আর ভিয়েতনামের ক্ষেত্রে রপ্তানির পরিমাণ কমলেও গড় রপ্তানিমূল্য বাড়ায় আয় বেড়েছে। - কেআর