Advertisement(970X90).png
Advertisement(300X90).png

১৫ কার্তিক ১৪৩৩, ১৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

পথের ধারে গোলাপি ফুলের বন ওকড়া, আছে নানা বৈশিষ্ট্য
পথের ধারে গোলাপি ফুলের বন ওকড়া, আছে নানা বৈশিষ্ট্য

বন ওকড়ার বৈজ্ঞানিক নাম Urena lobata। এটি Malvaceae পরিবারের বহুবর্ষজীবী গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ। ইংরেজিতে এটি Caesarweed ও Congo jute নামে পরিচিত। এশিয়া, আফ্রিকা, আমেরিকা ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের উষ্ণ এলাকায় এর বিস্তৃতি রয়েছে। বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলেও রাস্তার পাশে, পতিত জমি, কৃষিজমির প্রান্ত ও ঝোপঝাড়ে এই উদ্ভিদ দেখা যায়। সাধারণত বন ওকড়া এক থেকে দুই মিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে। এর কাণ্ড শাখা-প্রশাখাযুক্ত এবং সূক্ষ্ম রোমে আবৃত। পাতার আকারে বৈচিত্র্য রয়েছে। নিচের দিকের পাতাগুলো সাধারণত চওড়া ও তিন থেকে পাঁচ খণ্ডবিশিষ্ট হলেও ওপরের পাতাগুলো তুলনামূলক সরল। পাতার কিনারা খাঁজকাটা এবং পৃষ্ঠে সূক্ষ্ম রোম থাকে। বন ওকড়ার ফুল ছোট হলেও আকর্ষণীয়। ফুলের পাপড়ি গোলাপি, বেগুনি-গোলাপি কিংবা হালকা লালচে হতে পারে। সাধারণত পাঁচটি পাপড়ি নিয়ে ফুল তৈরি হয়। অনুকূল পরিবেশে বছরের বিভিন্ন সময়ে এতে ফুল ফুটতে পারে। ফুলের পর গাছে ছোট, গোলাকার ও খণ্ডযুক্ত ফল ধরে। ফলের গায়ে থাকা সূক্ষ্ম কাঁটাসদৃশ আঁকশি মানুষ, প্রাণী কিংবা কাপড়ে আটকে যায়। এভাবে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে বীজ ছড়িয়ে পড়তে পারে। বন ওকড়ার কাণ্ডের বাকল থেকে আঁশ পাওয়া যায়। কিছু অঞ্চলে এসব আঁশ দিয়ে দড়ি, মোটা সুতা ও অন্যান্য সাধারণ উপকরণ তৈরি করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন অঞ্চলের লোকজ চিকিৎসায় উদ্ভিদটির পাতা ও অন্যান্য অংশ ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে। তবে এসব ব্যবহারের কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বৈজ্ঞানিক গবেষণা প্রয়োজন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া উদ্ভিদটি ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। পরিবেশেও বন ওকড়ার ভূমিকা রয়েছে। এর ফুলে বিভিন্ন পতঙ্গ আসে, যা পরাগায়নে সহায়তা করতে পারে। উদ্ভিদটির বিভিন্ন অংশ কিছু তৃণভোজী প্রাণীর খাদ্য হিসেবেও ব্যবহৃত হতে পারে। তবে দ্রুত বিস্তারের কারণে কিছু এলাকায় এটি আগাছা হিসেবে বিবেচিত হয়। কৃষিজমিতে অতিরিক্ত জন্মালে ফসলের সঙ্গে আলো, পানি ও পুষ্টি নিয়ে প্রতিযোগিতা তৈরি করতে পারে। বন ওকড়া মনে করিয়ে দেয়, প্রকৃতির গুরুত্ব কেবল পরিচিত ফুল-ফলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। যে বুনো গুল্মকে আমরা সহজেই আগাছা বলে উপেক্ষা করি, তার মধ্যেও থাকতে পারে আঁশ উৎপাদনের সম্ভাবনা, লোকজ জ্ঞানের ইতিহাস এবং পরিবেশগত ভূমিকা। /শান্ত/