Advertisement(970X90).png
Advertisement(300X90).png

১৫ কার্তিক ১৪৩৩, ১৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

রমজান উপলক্ষে ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, মসুর ডাল ও খেজুরের আমদানি বেড়েছে
রমজান উপলক্ষে ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, মসুর ডাল ও খেজুরের আমদানি বেড়েছে

রমজানকে সামনে রেখে ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, মসুর ডাল ও খেজুরের আমদানি এবং ঋণপত্র (এলসি) খোলার পরিমাণ বেড়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, আমদানি বাড়লেও পণ্যের সরবরাহ, আমদানি ব্যয়, শুল্ক ও ব্যবসায়ীদের বাজার ব্যবস্থাপনার ওপর নির্ভর করছে সাধারণ ভোক্তার জন্য বাজার কতটা স্বস্তিদায়ক থাকবে। সম্প্রতি রাজধানীর বাজারে ছোলা, ভোজ্যতেল, ডাল, চিনি ও খেজুরের দাম বাড়ার খবরও পাওয়া গেছে। যদিও বাণিজ্যমন্ত্রী আব্দুল মুক্তাদির চৌধুরী আশ্বস্থ করেছেন, রমজানে প্রয়োজনীয় নিত্যপণ্যের সরবরাহ ঠিক থাকবে। রমজানকে কেন্দ্র করে বাজারে পণ্যের সংকট সৃষ্টির কোনো সুযোগ নেই। বুধবার (২৮ অক্টোবর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে নিত্যপণ্যের আমদানিকারক ও সংশ্লিষ্ট পণ্যের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এমন আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন (বিটিটিসি) সূত্রে জানা গেছে, গত ১ জুলাই থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত চিনি আমদানি হয়েছে ৬ লাখ ৮৭ হাজার টন, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১ লাখ ৫৩ হাজার টন বেশি। চিনির এলসি খোলার পরিমাণ ৮ লাখ ১০ হাজার টন। ভোজ্যতেল আমদানি হয়েছে ৮ লাখ ২৩ হাজার টন। গত বছর একই সময়ে হয়েছিলো ৭ লাখ ৫ হাজার টন। এই সময়ে ভোজ্যতেলের এলসি খোলা হয়েছে ৮ লাখ ৫ হাজার টন, যা আগের বছরের তুলনায় ১ লাখ ৩১ হাজার টন বেশি। ইফতারে বহুল ব্যবহৃত ছোলা আমদানি বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। ছোলার এলসি খোলা হয়েছে ১ লাখ ৩৮ হাজার টন। গত বছরের একই সময়ে ১২ হাজার টন ছোলা আমদানি হলেও এবার হয়েছে ৮২ হাজার টন। অর্থাৎ আমদানি বেড়েছে প্রায় ৬ দশমিক ৮ গুণ। খেজুর আমদানি হয়েছে ১১ হাজার টনে, গত বছর ছিলো ৪ হাজার টন। মসুর ডাল আমদানি হয়েছে ১ লাখ ২২ হাজার টন, যা আগের বছরের তুলনায় ৬৪ হাজার টন বেশি। এই সময়ে মসুর ডালের এলসি খোলা হয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার টন। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ছোলা, খোলা সয়াবিন তেল, মসুর ডাল, চিনি ও খেজুরের দাম স্থিতিশীল থাকলেও খুচরা বাজারের বাস্তব পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ জরুরি। রমজানে খেজুরের সরবরাহ ও দাম সহনীয় রাখতে আমদানি শুল্ক কাঠামো সহজ, স্বচ্ছ ও যৌক্তিক করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন স্বয়ং বাণিজ্যমন্ত্রী। মিশর, সৌদি আরব, ইরাক ও আলজেরিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে বিভিন্ন মানের খেজুর আমদানি হয়। তাই সব ধরনের খেজুরে একই ধরনের মূল্য হয় না, মানও সমান নয়। পণ্যের গুণগত মান ও আমদানি মূল্যের ভিত্তিতে শুল্ক নির্ধারণের বিষয়টি সরকারের আলোচনায় এসেছে। টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি বড় দানার মসুর ডালের দাম গত এক মাসে ২ দশমিক ৫৬ শতাংশ কমেছে। বর্তমানে প্রতি কেজি বড় দানার মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকা দরে। বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটার ২০৪ টাকা এবং ৫ লিটারের বোতল ১ হাজার টাকায় স্থিতিশীল রয়েছে। চিনির দাম প্রতি কেজি ১১০ থেকে ১১৫ টাকা। আমদানিকারকরা জানিয়েছেন, প্রকৃত মূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন শুল্কায়ন, বিকল্প পরিবহণ পথের বাড়তি ব্যয় এবং এলসি খোলার জটিলতা পণ্যের দাম বাড়াতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এসব সমস্যা সমাধানে পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। সভায় বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেল ও ছোলার দাম কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও মসুর ডালের দাম কমেছে। তাই আমদানি ব্যয় ও বিশ্ববাজারের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। বাণিজ্যমন্ত্রী আব্দুল মুক্তাদির চৌধুরী জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম ও জাহাজ ভাড়া ওঠানামায় পণ্যের আমদানি ব্যয় ও দেশের বাজারে পণ্যের দাম নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মন্ত্রী বলেছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ছোলার দাম বেড়েছে, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপ আলোচনা চলছে। পণ্য আমদানিতে এলসি খোলার ক্ষেত্রে যে কোনো ধরণের জটিলতা নিরসনে ব্যাংকগুলোর সঙ্গে আলাপ আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী আব্দুল মুক্তাদির চৌধুরী। এই প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রাজধানীর পাইকারি বাজার মৌলভীবাজারের ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি গোলাম মাওলা জানিয়েছেন, যেসব পণ্য আমাদের আমদানি করতে হয় সেসব পণ্যের দাম নির্ভর করে আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্য পরিস্থিতির ওপর। সেখানে দেশের ব্যবসায়ীদের কিছু করার নেই। এছাড়াও আমদানিকৃত পণ্য পরিবহণে জাহাজ ভাড়া একটি বড় বিষয়, যা জ্বালানি তেলের মূল্য পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। এর বাইরে দেশের অভ্যন্তরে পণ্য পরিবহণে ট্রাকভাড়া তো আছেই। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, বিটিটিসি’র চেয়ারম্যান নাসির উদ দৌলা, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জহিরুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা সভায় উপস্থিত ছিলেন। /এসআই/এমএএইচ/