Advertisement(970X90).png
Advertisement(300X90).png

১৫ কার্তিক ১৪৩৩, ১৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

কর্মজীবী নারীর সময় ব্যবস্থাপনা
কর্মজীবী নারীর সময় ব্যবস্থাপনা

এসব সমস্যা মোকাবিলার প্রথম ধাপ হলো সব দায়িত্ব একা পালন করার প্রত্যাশা থেকে বেরিয়ে আসা। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে কিছু কাজ ভাগ করে দেওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা নেওয়া জরুরি। এছাড়াও দৈনন্দিন কাজের তালিকা তৈরি করে নিতে পারেন। এতে কোন কাজটি আগে করা প্রয়োজন, তা নির্ধারণ করা সহজ হয়। সব কাজ একই দিনে শেষ করার চেষ্টা না করে জরুরি কাজকে অগ্রাধিকার দিন। ইন্টারনেটে অহেতুক সময় নষ্ট না করে একটু রেস্ট নিয়ে দ্রুত কাজগুলো শেষ করে নিতে পারেন। কিছুটা সময় বাঁচলে পরের দিনের জন্যে কিছু কাজ করে এগিয়ে রাখুন। দুই জায়গার দায়িত্ব পালনের পর সঙ্গীর জন্যেও কিছু সময় তুলে রাখুন। সাথে নিজেকেও সময় দিন। কর্মক্ষেত্রেও দায়িত্বের স্পষ্টতা, যুক্তিসংগত কর্মঘণ্টা এবং সহযোগিতামূলক পরিবেশ গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিষ্ঠানগুলো নমনীয় কর্মব্যবস্থা ও বৈষম্যহীন সুযোগ নিশ্চিত করতে পারলে কর্মীদের জন্য কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য বজায় রাখা সহজ হতে পারে। একই সঙ্গে নারীদের বিশ্রাম, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং ব্যক্তিগত আগ্রহের জন্য সময় রাখা প্রয়োজন। তবে এই সমস্যা শুধু নারীর ব্যক্তিগত সময় ব্যবস্থাপনার বিষয় নয়। পরিবার, কর্মক্ষেত্র এবং সামাজিক ব্যবস্থার সহযোগিতাও প্রয়োজন। কর্মজীবী নারীর ভারসাম্যপূর্ণ জীবন গড়ে তুলতে ব্যক্তিগত পরিকল্পনার পাশাপাশি পরিবারের দায়িত্ব ভাগাভাগি এবং কর্মক্ষেত্রে সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। /শিউলী/

অফিসে নারীদের ৫ অলিখিত চ্যালেঞ্জ
অফিসে নারীদের ৫ অলিখিত চ্যালেঞ্জ

প্রথমত, মতামত দিতে গিয়ে দ্বিধায় পড়েন-পাছে কেউ 'বেশি কথা বলে' মনে করে। দ্বিতীয়ত, সন্ধ্যার পর মিটিং থাকলে নিরাপত্তা ও পরিবারের চিন্তা থাকে। সময় দিতে না পারলে বসের ঝারি, ক্যারিয়ারে পিছিয়ে পড়া। দেরি হলে রাতে বাসায় ফেরার নিরাপত্তার শংকা, পরিবারের সদস্যদের দেখভালের সমস্যা। তৃতীয়ত, একই কাজের জন্য পুরুষ সহকর্মীর চেয়ে নিজেকে বেশি প্রমাণ করার চাপ। বেশিরভাগ পুরুষ সহকর্মীরা নারীদের এগিয়ে যাওয়াকে সহজভাবে নিতে পারে না। ফলে তাদের নিজেদের অবস্থান বজায় রাখতে অপ্রকাশিত চ্যালেঞ্জ নিতেই হয়। চতুর্থত, মাতৃত্বকালীন ছুটি নিয়ে অপরাধবোধ। সন্তান, নিজের সুস্থতার জন্য এই সময়টুকু নারীর লাগেই। এই বিষয় অনেকেই বাঁকা চোখে তাকায়। ফলে এইটা তার অধিকার হলেও সহজ হতে পারেন না। পঞ্চমত, অফিস পলিটিক্সে নিজেকে মানিয়ে নেওয়া। অফিসে একটু ভালো কাজ দেখালেই তাকে দমানোর জন্যে অনেকেই উঠেপড়ে লাগে। ফলে সেখান থেকে বেরিয়ে এসে নিজের অবস্থান ঠিক রাখার জন্যে বাড়তি চাপ তাকে নিতেই হয়। এই চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে খোলামেলা আলোচনা এখন বাড়ছে। অনেক প্রতিষ্ঠান নারীবান্ধব নীতি গ্রহণ করছে। সবাই যদি তাদের চলার পথে সহযোগিতামূলক মনোভাব রাখে, তবে নারীরা কর্মস্থলে আরো বেশি নিজেদের যোগ্য করে তুলতে পারবে। /শিউলী/

সম-অধিকারের লড়াইয়ে গ্রামীণ নারী
সম-অধিকারের লড়াইয়ে গ্রামীণ নারী

এই বছরের আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবসের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ‘প্রকৃতি রক্ষায় গ্রামীণ নারী কৃষক’। শুধু খাদ্য সংস্থান নয়, আমাদের অস্তিত্বের মূল প্রাকৃতিক সম্পদগুলো তারা পরম মমতায় আগলে রাখেন। তাদের এই বিপুল অবদানের তুলনায় অধিকার এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা নেই বললেই চলে। গ্রামীণ নারীদের সঠিক মূল্যায়নের জন্য কিছু বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন। তাদের জমি, পানি, প্রাকৃতিক সম্পদে সরাসরি আইনি অধিকার থাকা প্রয়োজন। অর্থায়ন, বাজার, প্রযুক্তি ও কৃষি সেবায় সমান প্রবেশাধিকার। গৃহস্থালি কাজে তাদের ওপর চাপানো অবৈতনিক সেবামূলক কাজের স্বীকৃতি দিতে হবে, কাজের চাপ কমিয়ে পরিবারের মধ্যে তা বণ্টন করতে হবে। সংসারের প্রতিটি বিষয়ে তাদের মতামতের মূল্য দিতে হবে। কৃষি নীতি নির্ধারণ ও জলবায়ু বাজেটে তাদের কার্যকর নেতৃত্ব নিশ্চিত করা জরুরি। জাতিসংঘ নারী সংস্থা বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, গ্রামীণ নারীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাধাগুলো দূর করে সরাসরি বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। খাদ্য ও প্রকৃতি রক্ষায় তাদের যতখানি অবদান, সমাজ ও রাষ্ট্রে তাদের ক্ষমতার ভারসাম্যও ততখানি নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। নারী কৃষক বর্ষ এবং জাতিসংঘের জলবায়ু, জীববৈচিত্র্য ও মরুকরণ বিষয়ক কনভেনশনগুলোর বৈঠক গ্রামীণ নারীদের প্রতিশ্রুতির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তবে মূল্যায়নের বড় সুযোগ এনে দিয়েছে। /শিউলী/