Advertisement(970X90).png
Advertisement(300X90).png

১৫ কার্তিক ১৪৩৩, ১৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

দুর্গাপূজার প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয় কেন?
দুর্গাপূজার প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয় কেন?

দেবীর বিদায় ও কৈলাসে ফেরার বিশ্বাস বাংলার দুর্গাপূজায় দেবী দুর্গাকে শক্তির প্রতীক হিসেবে পূজার পাশাপাশি ঘরের মেয়ের রূপেও কল্পনা করা হয়। শরৎকালে তার আগমন যেনো বাপের বাড়িতে মেয়ের ফিরে আসা। কয়েক দিনের পূজা ও আনন্দ-উৎসব শেষে দশমীতে তাকে বিদায় জানান ভক্তরা। দেবীর কৈলাসে ফিরে যাওয়ার বিশ্বাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে এই আবেগ। বিসর্জনের ধর্মীয় তাৎপর্য বিজয়া দশমীতে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রতিমা শোভাযাত্রার মাধ্যমে নদী, পুকুর বা নির্দিষ্ট জলাশয়ে নিয়ে বিসর্জন দেওয়া হয়। এই প্রথা বিসর্জন বা নিরঞ্জন নামে পরিচিত। মাটি দিয়ে প্রতিমা তৈরি করে তাতে দেবীর রূপ কল্পনা করা হয়। উৎসব শেষে সেই প্রতিমা পানিতে ফিরিয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক এবং সব দৃশ্যমান রূপের পরিবর্তনশীলতাকে প্রতীকীভাবে তুলে ধরা হয়। প্রতিমার রূপের অবসান ঘটলেও ভক্তদের মনে দেবীর প্রতি বিশ্বাস ও শ্রদ্ধা থেকে যায়। দর্পণ বিসর্জন কী? প্রতিমা বিসর্জনের আগে অনেক পূজায় দর্পণ বিসর্জনের রীতি পালন করা হয়। এই সময় আয়নায় দেবীর প্রতিবিম্বের মাধ্যমে প্রতীকী বিসর্জন সম্পন্ন করা হয়। এরপর প্রতিমা জলাশয়ে বিসর্জন দিয়ে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে। দশমীতে দেবীবরণ ও সিঁদুর খেলার মতো রীতিও পালিত হয়। বিবাহিত নারীরা দেবীকে সিঁদুর পরিয়ে মিষ্টি নিবেদন করেন এবং পরে একে অপরকে সিঁদুর মাখিয়ে শুভকামনা জানান। তবে এসব আচার অঞ্চল ও পারিবারিক রীতিভেদে ভিন্ন হতে পারে। বিসর্জনে পরিবেশের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্যগতভাবে মাটির প্রতিমা পানিতে বিসর্জন দেওয়া হলেও প্রতিমা তৈরিতে ব্যবহৃত প্লাস্টার অব প্যারিস, রাসায়নিক রং, প্লাস্টিক ও অন্যান্য অবিয়োজ্য উপকরণ জলাশয়ের দূষণ বাড়াতে পারে। তাই প্রাকৃতিক উপকরণে প্রতিমা তৈরি এবং বিসর্জনের পর জলাশয় থেকে বাঁশ, কাপড়, প্লাস্টিক ও অন্যান্য সাজসজ্জার সামগ্রী সরিয়ে ফেলা জরুরি। দুর্গাপূজার বিসর্জন তাই ধর্মীয় আচার ও বাঙালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের পাশাপাশি প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সম্পর্কের কথাও স্মরণ করিয়ে দেয়। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেও ভক্তদের মনে থেকে যায় স্মৃতি, শুভেচ্ছা ও আগামী বছর আবার দেবীর আগমনের অপেক্ষা। /শান্ত/

দুর্গাপূজায় গোপালগঞ্জসহ ৩ জেলায় বিজিবি মোতায়েন
দুর্গাপূজায় গোপালগঞ্জসহ ৩ জেলায় বিজিবি মোতায়েন

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাজধানীর পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিজিবির পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান এই তথ্য জানান। বিজিবি পরিচালক বলেন, সরকারের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর পাশাপাশি গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও ফরিদপুরেও বিজিবির উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে। স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। তিনি জানান, দুর্গাপূজা উপলক্ষে সারাদেশে ২৭২৭টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে সীমান্তের ৮ কিলোমিটারের মধ্যে রয়েছে প্রায় ১৪২৫টি পূজামণ্ডপ। ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরের ৩ কিলোমিটারের মধ্যে রয়েছে ১১১৯টি এবং দুর্গম ও দূরবর্তী এলাকায় রয়েছে ১৮৩টি পূজামণ্ডপ। মাহবুব মুর্শেদ রহমান বলেন, পূজামণ্ডপগুলো এরইমধ্যে সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়েছে। যাতায়াতের পথ, স্থানীয় পরিবেশ ও যোগাযোগব্যবস্থা বিবেচনায় নিয়ে নিরাপত্তা পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। দুর্গম ও দূরবর্তী এলাকার পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা সহায়তা সহজ করতে প্রায় ২১টি বেজ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। /সোহেল/

এবার ঢাকায় কমেছে পূজামণ্ডপ
এবার ঢাকায় কমেছে পূজামণ্ডপ

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরে সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ। পরিষদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবার ঢাকা মহানগরে ২৫৮টি মণ্ডপে পূজা হবে। প্রতিমা স্থাপনের পাশাপাশি ঘটে আয়োজিত পূজাও এই হিসাবের অন্তর্ভুক্ত। সংবাদ সম্মেলনে পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা বলেন, এবার দুর্গাপূজার ছুটি কমপক্ষে ৩ দিন করার দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হয়েছে। এছাড়া পূজার দিনসংখ্যা, সরকারি বরাদ্দ এবং নিরাপত্তা প্রস্তুতিতেও বিশেষত্ব রয়েছে। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত তারা নিরাপত্তা নিয়ে কোনো শঙ্কা দেখছেন না। সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যথেষ্ট প্রস্তুতি নিয়েছে বলেও মনে করেন তিনি। এদিকে বাংলাদেশের বিভিন্ন সময়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনার বিচার দাবি করেছে পরিষদ। সন্তোষ শর্মা বলেন, রামু, নাসিরনগর, ২০২১ সালের কুমিল্লার ঘটনা ও সুনামগঞ্জসহ অতীতে ঘটে যাওয়া বড় হামলাগুলোর সুষ্ঠু বিচার হয়নি। এসব ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি। আগামী ১৭ ও ১৮ অক্টোবর মহাসপ্তমী, ১৯ অক্টোবর অষ্টমী, ২০ অক্টোবর মহানবমী এবং ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমী উদ্‌যাপিত হবে। দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে। /শান্ত/

দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় আনসার-ভিডিপির ২ লাখ ১২ হাজার সদস্য
দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় আনসার-ভিডিপির ২ লাখ ১২ হাজার সদস্য

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর খিলগাঁওয়ে আনসার বাহিনীর সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান মহাপ‌রিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ। তিনি বলেন, এবার সারাদেশে ৩৩ হাজার ১৬৫টি পূজামণ্ডপের তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছে। এরমধ্যে ৬৯১৪টি পূজামণ্ডপকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব মণ্ডপের নিরাপত্তায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পূজামণ্ডপে মোতায়েন করা সদস্যদের পাশাপাশি ১০৪টি স্ট্রাইকিং পেট্রোল দায়িত্ব পালন করবে। পূজামণ্ডপগুলোর মধ্যে সমন্বয় এবং কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে দ্রুত সাড়া দেওয়ার কাজে তারা ভূমিকা রাখবে। সাজ্জাদ মাহমুদ বলেন, দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় গত বছরের মতো এবারও ‘শারদীয় সুরক্ষা অ্যাপ’ ব্যবহার করা হবে। অ্যাপটিতে ৬৬ হাজার সদস্য নিবন্ধিত থাকবেন। কোনও ঘটনা ঘটলে এর মাধ্যমে দ্রুত তথ্য পাওয়া যাবে । গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও এই ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার সফল ব্যবহার করা হয়েছে। /সোহেল/

দুর্গাপূজায় দেশজুড়ে ১০ হাজার বিজিবি সদস্য মোতায়েন থাকবে
দুর্গাপূজায় দেশজুড়ে ১০ হাজার বিজিবি সদস্য মোতায়েন থাকবে

সোমবার (১২ অক্টোবর) বিজিবি সদর দপ্তরের পরিচালক (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে সমন্বিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। সম্ভাব্য ঝুঁকি চিহ্নিত করার পাশাপাশি গুজব ও সাম্প্রদায়িক উসকানির বিষয়ে সতর্ক থাকবে বিজিবি। লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহবুব মুর্শেদ রহমান জানান, সীমান্তের ৮ কিলোমিটারের মধ্যে এবং ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরের কাছাকাছি এলাকাসহ মোট ২ হাজার ৭২৭টি পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা সহায়তা দেবে বিজিবি। দূরবর্তী ও দুর্গম এলাকায় দ্রুত টহল ও সহায়তা পৌঁছাতে প্রয়োজন অনুযায়ী অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঢাকায় বিজিবি মোতায়েন ও দায়িত্বের পরিধি সরকারের নির্দেশনা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চাহিদা অনুযায়ী নির্ধারণ করা হবে। প্রয়োজনে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে টহল এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা সহায়তা দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যেন নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে ধর্মীয় উৎসব উদযাপন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে বিজিবি সর্বাত্মকভাবে প্রস্তুত। /শান্ত/