Advertisement(970X90).png
Advertisement(300X90).png

১৫ কার্তিক ১৪৩৩, ১৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

থাইল্যান্ডে ১০ হাজার অবৈধ বিদেশির খোঁজে তল্লাশি
থাইল্যান্ডে ১০ হাজার অবৈধ বিদেশির খোঁজে তল্লাশি

থাই সংবাদমাধ্যম “আসিয়ান নাউ”-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্যাংককে গত ১৯ অক্টোবর একটি বড়সড় অভিযানের পর ইমিগ্রেশন ব্যুরোর প্রধান পুলিশ লেফটেন্যান্ট জেনারেল নোপাসিন পুলসাওয়াত এই বিশেষ অনুসন্ধান ও গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন। অভিযানে ইতিমধ্যেই বেশ কিছু আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্রের সদস্য ও দীর্ঘদিনের অবৈধ অভিবাসী আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জালে ধরা পড়েছেন। গত ১৯ অক্টোবর থাই ইমিগ্রেশন পুলিশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার পুলিশ যৌথ অভিযান চালায়। এই সময় আন্তর্জাতিক প্রতারণা চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ৮ জন দক্ষিণ কোরীয় এবং দু’জন চীনা নাগরিককে আটক করা হয়। তদন্ত চলাকালীন তাঁদের ভিসাও বাতিল করা হয়েছে। ব্যাংকক থেকে ৫৪ বছর বয়সী এক ইসরায়েলি নাগরিককে আটক করা হয়েছে। তিনি থাইল্যান্ডে থাকার অনুমোদিত মেয়াদের চেয়েও অতিরিক্ত ২ হাজার ৯৫ দিন (প্রায় ৬ বছর) অবৈধভাবে অবস্থান করছিলেন। চলতি বছরের অভিযানে এখন পর্যন্ত কোনো বাংলাদেশি নাগরিকের নতুন করে আটকের খবর পাওয়া যায়নি। তবে অবৈধ প্রবেশ ও অবস্থানের অভিযোগে গত ৮ এপ্রিল থাইল্যান্ডের সংখলা প্রদেশের চানা এলাকার একটি রিসোর্ট থেকে ২১ জন বাংলাদেশিকে আটক করা হয়েছিলো। গত ২৫ মে থাইল্যান্ডের সীমান্ত এলাকা থেকে আরও ৬ জন বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করা হয়। বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে থাইল্যান্ডের বিভিন্ন কারাগারে ১২৭ জন বাংলাদেশি বন্দি রয়েছেন। তবে দেশটিতে আনুমানিক প্রায় ৫ হাজার বাংলাদেশি নাগরিক সম্পূর্ণ বৈধভাবে বসবাস ও কাজ করছেন। অভিবাসন আইন লঙ্ঘনকারী এবং অপরাধে জড়িত বিদেশীদের দ্রুত দেশ থেকে বের করে দেওয়ার জন্য থাইল্যান্ড তাদের আইনি প্রক্রিয়া আরও কঠোর করেছে। গত ২৮ আগস্ট দেশটির প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুলের স্বাক্ষরে একটি নতুন নির্বাসন পদ্ধতি কার্যকর হয়েছে। এই নতুন ব্যবস্থায় অবৈধ প্রবেশ, ওভারস্টে (মেয়াদোত্তীর্ণ অবস্থান), অনুমোদনহীন কাজ, জাল নথি তৈরি বা যেকোনো গুরুতর অপরাধে জড়িত বিদেশিদের ফৌজদারি আদালতের কার্যক্রম বা কারাদণ্ড শেষ হওয়ার পরপরই দ্রুত নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে। ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের ঘরের ঠিকানা, কর্মস্থল এবং তাদের নিয়মিত যাতায়াতের জায়গাগুলোতে গিয়ে সরাসরি তল্লাশি ও নথিপত্র যাচাই করছেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট বিদেশি নাগরিকদের জরিমানা, আটক, সরাসরি বহিষ্কার এবং ভবিষ্যতে থাইল্যান্ডে প্রবেশের ওপর স্থায়ী বা সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হতে পারে। সন্দেহভাজনদের অবস্থান ও পরিচয় নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক ওয়ান্টেড তালিকা (যেমন ইন্টারপোল) এবং অপরাধসংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহার করছে থাই পুলিশ। থাই ইমিগ্রেশন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, অপরাধ দমনে তাদের তৎপরতা ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৫ সালের ১ অক্টোবর থেকে চলতি বছরের ১ অক্টোবর পর্যন্ত প্রায় ৮১ হাজারের বেশি বিদেশিকে থাইল্যান্ডে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়েছে, যা মাসে গড়ে প্রায় ৭ হাজার। এই বছর ওভারস্টে ও অবৈধভাবে কাজ করার দায়ে মোট ১৪ হাজার ১৬১ জনকে আটক করা হয়েছে। নিয়ম লঙ্ঘনের কারণে ৬৬৮টি স্টুডেন্ট ভিসা বাতিল করা হয়েছে এবং প্রায় ১৯০টি ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বিশেষ অভিযান চালানো হয়েছে। ইমিগ্রেশন অভিযানের পাশাপাশি সমান্তরালভাবে চলছে মাদকবিরোধী বড় অভিযান। গত ৯ অক্টোবর রয়্যাল থাই পুলিশ ১.৮ টনের বেশি ক্রিস্টাল মেথ (আইস), ১ কোটি ৮০ লাখ মেথামফেটামিন ট্যাবলেট এবং ৫৫ কোটি বাথেরও বেশি মূল্যের অবৈধ সম্পদ জব্দ করেছে। থাই সরকারের এই কঠোর অবস্থান স্পষ্ট করে যে, পর্যটন ও ব্যবসার জন্য দেশটি উন্মুক্ত থাকলেও অভিবাসন আইন লঙ্ঘন এবং আন্তর্জাতিক অপরাধের ক্ষেত্রে তারা এখন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বা শূন্য সহনশীলতা নীতি গ্রহণ করেছে। /এমএএইচ/