রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের জিএম পদে আসছে বড় পরিবর্তন: ডিজিএম পদের সাক্ষাৎকার শুরু ৪ নভেম্বর
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যেই স্ব-স্ব ব্যাংক থেকে জিএম পদে যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য ডিজিএমদের একটি তালিকা সরকারের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় পাঠানো হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের নেতৃত্বে গঠিত বাছাই কমিটি আগামী ৪ নভেম্বর থেকে শুরু করে ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত কয়েক ধাপে সাক্ষাৎকার গ্রহণের দিন তারিখ চূড়ান্ত করেছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে তালিকাভুক্ত প্রায় সাড়ে চার শত প্রার্থীকে নির্দিষ্ট দিনে সাক্ষাৎকারের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে জানা গেছে। অর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের উপসচিব আফরোজা আক্তার রিবা স্বাক্ষরিত চিঠিতে মহাব্যবস্থাপক পদের যোগ্য প্রার্থীদের বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সাক্ষাৎকারের জন্য উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, আইসিবি ছাড়া দেশের রাষ্ট্রমালিকানাধীন সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী, বেসিক, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, কর্মসংস্থান ব্যাংক, আনসার, ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক ও বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশনের প্রধান কার্যালয় ঢাকা ও রাজশাহীতে কর্মরত পদোন্নতি নীতিমালা মোতাবেক যোগ্য প্রার্থীদের মহাব্যবস্থাপক পদে পদোন্নতি দেওয়া হবে। তবে এই দফায় কতজনকে পদোন্নতি দেওয়া হবে, তা চূড়ান্ত করেনি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। বাংলাদেশ ব্যাংকের বাছাই কমিটি যোগ্যদের বাছাই করে চূড়ান্তভভাবে মনোনীতদের তালিকা তৈরি করবে। পরবর্তী সময়ে মহাব্যবস্থাপক পদে উত্তীর্ণদের ধাপে ধাপে নিয়োগ, পদায়ন ও আন্তঃবদলি করা হবে। ব্যাংকারদের আপত্তির পরও নতুন নীতিমালায় ডিএমডি-জিএম পদে নিয়োগের ক্ষমতা অর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের হাতেই রাথা হয়েছে। জানা গেছে, রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক, বিশেষায়িত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর এমডি, ডিএমডি এবং জিএম-এর পদোন্নতি, মনোনয়ন ও পোস্টিং সংক্রান্ত নীতিমালা তৃতীয়বারের মতো হালনাগাদ করা হয়েছে। ২০২৬ সালের অক্টোবর মাসের ১৯ তারিখ সংশোধিত নীতিমালার প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনের ১৩(ক) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকের ডিএমডি ও জিএম পদে পদোন্নতির জন্য উপযুক্ত প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে সভাপতি, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব, অর্থ বিভাগের সচিব বা অতিরিক্ত সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের বিআরপিডি’র নির্বাহী পরিচালককে সদস্য ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের কেন্দ্রীয় ও বাণিজ্যিক ব্যাংক অনুবিভাগের দায়িত্বে নিয়োজিত অতিরিক্ত সচিবকে সদস্য সচিব করে ৫ সদস্যের বাছাই কমিটি করা হয়েছে। কমিটিকে নীতিমালা অনুযায়ী ডিএমডি ও মহাব্যবস্থাপক পদে উপযুক্ত প্রার্থী নির্বাচন ও নিয়োগের সুপারিশ করবে। ডিজিএম থেকে জিএম পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে ব্যাংকের সার্ভিস রেকর্ড, কাজের মূল্যায়ন, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও সিনিয়রিটি প্রাধিকার দেওয়া হবে। পাশাপাশি আবেদনকারীর বিরুদ্ধে কোনো বিভাগীয় মামলা বা শাস্তি বা বিচারাধীন কোনো অভিযোগ থাকা যাবে না। সরকার রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর শীর্ষ পর্যায়ের পদোন্নতি ও নিয়োগ নীতিমালা সংস্কার করেছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ জারি করা এই সংক্রান্ত নীতিমালায় জিএম পদে পদোন্নতির জন্য নির্দিষ্ট চাকরিকাল এবং ব্যাংকিং ডিপ্লোমা পাশের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের জিএম ও তদূর্ধ্ব পর্যায়ের পদোন্নতি এবং পদায়ন প্রক্রিয়ায় আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ও সরকারের নীতিনির্ধারণী অনুমোদনের নিয়ম অনুসরণ করা হয়। বিশেষায়িত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জিএম পদে পদোন্নতি বা সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে চলতি অক্টোবরের ১৯ তারিখ জারিকৃত নীতিমালা সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনের ১৪ অনুচ্ছেদ মতে, সরকারের নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী ডিজিএম পদোন্নতির মাধ্যমে জিএম হতে হলে সাধারণত ডিজিএম পদে ৯ম গ্রেড থেকে ডিজিএম হিসেবে ন্যূনতম ৩ বছরের কর্ম অভিজ্ঞদের পদোন্নতির জন্য বিবেচনা করা হবে। সরাসরি জিএম পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রিন্সিপাল অফিসার (পিও) হিসেবে অন্তত ১৫ বছর, সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার (এসপিও) হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্তদের ১২ বছর, অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার (এজিম) হিসেবে ৯ বছর এবং ডিজিএম হিসেবে অন্তত ৬ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হয়। জিএম পদে পদোন্নতি সংক্রান্ত নীতিমালার ১৫ অনুচ্ছেদের (ক)তে বলা হয়েছে, জিএম পদে পদোন্নতির মাধ্যমে নিয়োগ ও পদায়ন এবং আন্তঃবদলির ক্ষেত্রে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ কর্তৃক রাষ্ট্র মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংক, বিশেষায়িত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোয় মহাব্যবস্থাপক পদে পদোন্নতির মাধ্যমে নিয়োগ পদায়ন ও আন্তঃবদলির মাধ্যমে পদায়ন করা হবে। নীতিমালার ১৫ অনুচ্ছেদের (খ)-তে বলা হয়েছে, অনুচ্ছেদ ১৩(ক)-এ বর্ণিত বাছাই কমিটি জিএম পদে পদোন্নতির জন্য সাক্ষাৎকার গ্রহণ করবে। পদোন্নতিযোগ্য প্রার্থীদের মোট ১০০ নম্বরের (শিক্ষাগত যোগ্যতা ১৫, বাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে চাকরিকাল ১৫, ব্যাংকিং প্রমোশনাল পরীক্ষা ০৫, চাকরিকালীন রেকর্ড ১০, বার্ষিক গোপনীয় অনুবেদন (এসিআর) ৪০ ও সাক্ষাৎকার গ্রহণ ১৫ নম্বর) মনদণ্ডের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করবে। নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, জিএম হতে হলে স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অন্তত মাস্টার্স ডিগ্রি থাকতে হবে। শিক্ষাজীবনের কোনো স্তরেই তৃতীয় বিভাগ বা শ্রেণি থাকা যাবে না। প্রার্থীর বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অনিষ্পন্ন বিভাগীয় মামলা, শাস্তি বা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) বিরূপ প্রতিবেদন থাকা যাবে না। এছাড়া সন্তোষজনক ইন্টেলিজেন্স রিপোর্ট থাকতে হয়। পদোন্নতির ক্ষেত্রে কেবল সিনিয়রিটি নয়, বরং কাজের পারফরম্যান্স, নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা এবং ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে কাজের অভিজ্ঞতাকে প্রাধান্য দেওয়া হবে বলেও নীতিমালায় বলা হয়েছে। জানা গেছে, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সংশ্লিষ্ট নীতিমালা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী এই শর্তগুলো নির্ধারিত হয়। এই প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাংলাদেশ বাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন বলেন, জিএম পদে পদোন্নতির জন্য নির্ধারিত তারিখগুলোতে যোগ্য ডিজিএমদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা হবে। এ মুহূর্তে এর বেশি বলার কিছু নেই। জানতে চাইলে রূপালী ব্যাংকের একজন ডিজিএম নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জারি করা সংশোধিত নীতিমালার আলোকেই সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা হবে। আমরা সাক্ষাৎকারে অংশ নেবো। /এসআই/শান্ত/