ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোট গ্রহণ চলছে
সকালে কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের উপস্থিতি কিছুটা কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লাইনে মানুষের ভিড় বাড়তে দেখা যায়। সাধারণ ভোটাররা কোনো ধরনের বাধা ছাড়া, নির্বিঘ্নে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে চলতি বছরেই দু’বার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়ে স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। সকালে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমিন। ভোটদান শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান, নির্বাচনের সামগ্রিক পরিবেশ অত্যন্ত সুন্দর ও উৎসবমুখর রয়েছে। ভোটাররা কোনো ধরনের ভয়ভীতি ছাড়া কেন্দ্রে এসে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিচ্ছেন এবং তাদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া দেখা যাচ্ছে। অন্যদিকে, ঠাকুরগাঁও আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন। তিনি নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে কিছুটা সংশয় ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, সকাল থেকেই কয়েকটি কেন্দ্রে তাঁর দলীয় পোলিং এজেন্টদের ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়েছে। বেশ কিছু অনিয়মের অভিযোগ তুললেও তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, শেষ পর্যন্ত প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা বজায় রাখবে। সাবেক সংসদ সদস্য ও বর্তমান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছেড়ে দেওয়া ঠাকুরগাঁও-১ আসনে এই উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। হাইপ্রোফাইল এই আসনটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৪০ জন। নির্বাচনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মোট ৫ জন প্রার্থী চূড়ান্তভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমিন হলেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছোট ভাই। অন্যদিকে, ১১ দলীয় ঐক্যজোটের প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি দেলাওয়ার হোসেন। এছাড়া অন্য দলগুলোর আরও ৩ জন প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। উপনির্বাচন ঘিরে ঠাকুরগাঁও জেলা নির্বাচন অফিস ও স্থানীয় প্রশাসন কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। এবারই প্রথম স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে। ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা রক্ষায় প্রতিটি কেন্দ্রে ১৩ জন আনসার সদস্য এবং ৭ জন পুলিশ সদস্য সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি নির্বাচনী এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে মাঠে মোতায়েন রয়েছে আনসার ব্যাটালিয়ন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও এসআরবি সদস্যরা। সারাদেশের মধ্যে এই মুহূর্তে একমাত্র ঠাকুরগাঁও-১ আসনেই উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই পুরো দেশের মানুষের নজর রয়েছে এই ভোটের দিকে। এই কারণে প্রশাসন অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলায় প্রথমবারের মতো দু’টি হেলিকপ্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নির্বাচনের দিন সকাল পর্যন্ত শহর থেকে শুরু করে গ্রামীণ জনপদে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা ও পোস্টারে মুখর ছিলো চারপাশ। ভোটারদের মন জয় করতে প্রার্থীরা এলাকার উন্নয়ন ও নানা নাগরিক সুবিধা নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত ভোটের হিসাব-নিকাশ কোন প্রার্থীর পক্ষে যায়, তা নিয়ে চায়ের দোকান থেকে শুরু করে সর্বত্র চলছে রাজনৈতিক বিশ্লেষণ। ভোট দিতে আসা স্থানীয় সাধারণ ভোটাররা জানান, এখন পর্যন্ত এলাকার পরিবেশ সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ রয়েছে এবং কোনো ধরনের সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি। দীর্ঘদিন পর গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়ে ভোট দিতে পেরে তারা অত্যন্ত আনন্দিত। ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, নির্বাচন অবাধ ও নিখুঁত করতে পর্যাপ্ত সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে। এমনকি প্রতিটি কেন্দ্রের পরিস্থিতি বডি ক্যামেরার মাধ্যমে সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পরিবেশ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক থাকায় ভোটারদের উপস্থিতি ও উৎসাহ সন্তোষজনক। /এমএএইচ/