Advertisement(970X90).png
Advertisement(300X90).png

১৫ কার্তিক ১৪৩৩, ১৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের দানবাক্সে মিললো ৮৮ লাখ টাকা
শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের দানবাক্সে মিললো ৮৮ লাখ টাকা

চতুর্থবারের মতো প্রকাশ্যে গণনা করা হয়েছে হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের দানবাক্সের টাকা। প্রায় সাড়ে ৭ ঘণ্টা গণনা শেষে মাজারের দানবাক্সে ৮৮ লাখ ৬৫ হাজার ৮০৪ নগদ টাকা, বিভিন্ন দেশের মুদ্রা এবং ১ ভরি সাড়ে ৮ আনা সোনা পাওয়া গেছে। এছাড়া ৩১০টি ছাগল দান হিসেবে পাওয়া গেছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টায় দানবাক্সগুলো ও ঐতিহাসিক পিতলের ৩টি ডেকচির দানের টাকা একত্র করে গণনা শুরু হয়। মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত উচ্চ কমিটির সদস্য ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে টাকা গণনায় অংশ নিয়েছেন দরগাহ মাদরাসার শিক্ষার্থীরা। গণনা শেষে সন্ধ্যা ৬টার পর প্রাপ্তির হিসাব ঘোষণা করেন মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত উচ্চ কমিটির সদস্যসচিব ও জেলা প্রশাসক আবদুল আল মামুন। তিনি জানান, দানের টাকা গণনায় নগদ ৮৮ লাখ ৬৫ হাজার ৮০৪ নগদ টাকা এবং ১ ভরি সাড়ে ৮ আনা সোনা পাওয়া গেছে। এছাড়া ব্রিটেনের ১৪ পাউন্ড, ভারতের ৭ হাজার ৬৪৭ রুপি, ১৩ দশমিক ৫০ ওমানি রিয়াল, ৯৩ সৌদি রিয়াল, ১৭ কাতার রিয়াল, ৬৫ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিহরাম, ১০০ বাহরাইনি দিনার, ২৯ মার্কিন ডলার এবং ৭ ইউরো ৩৩ সেন্ট পাওয়া গেছে। গত ৩৫ দিনে দরগাহ মাজারে ৩১০টি ছাগল দান হিসেবে পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ২১০টি লঙ্গরখানায় রান্না করে খাওয়ানো হয়েছে, ২৭টি দিয়ে সিন্নি রান্না করে সবার মাঝে বিতরণ হয়েছে। ৪৮টি ছাগল খাদেমদের দেওয়া হয়েছে। এর আগে ১৯ সেপ্টেম্বর সর্বশেষ দানবাক্স খোলা হয়েছিলো। সেদিন গণনা শেষে পাওয়া যায় ৮৮ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৬ টাকা, বিভিন্ন দেশের মুদ্রা এবং ১ ভরি ৯ আনা ২ রতি স্বর্ণ। এছাড়া ওই সময়ে ৬টি গরু ও ১১১টি ছাগলও দান হিসেবে পাওয়া যায়। এর আগে ১৫ আগস্ট দানবাক্স বাক্স খোলা হয়েছিলো। সেদিন গণনা শেষে পাওয়া যায় ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা। ওই সময় বিভিন্ন দেশের মুদ্রা ছাড়াও স্বর্ণ ও রূপার সামগ্রী পাওয়া গিয়েছিলো। সর্বপ্রথম গত ২২ জুন দানবক্স প্রকাশ্যে খুলে গণনা করা হয়। সিলেটের জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মাজারের ডেগ ও দানবাক্স সিলগালা করার মাত্র ৪ দিনের মাথায় ওইদিন অর্থ গণনা শেষে পাওয়া যায় ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা, ৭ আনা সোনা ও বিভিন্ন দেশের মুদ্রা। পরে জেলা প্রশাসনের তহবিল থেকে ৫ লাখ টাকা যোগ হওয়ায় ওই দফায় মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ২২ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা। এরপর ১১ জুলাই দ্বিতীয়বারের মতো প্রকাশ্যে দানবাক্সের অর্থ গণনা করে পাওয়া যায় ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা। এছাড়া দানবাক্সে ৯ গ্রাম স্বর্ণ, ১০ গ্রাম স্বর্ণসদৃশ বস্তু এবং ৩৯ দশমিক ৪ গ্রাম রুপা পাওয়া যায়। পাশাপাশি একটি গরু, ৬৫টি ছাগল পাওয়া গেছে। এর মধ্যে গরু ও ৪০টি ছাগল রান্না করে মাজারের ভক্ত ও অনুরাগীদের খাওয়ানো হয়েছে। ২৫টি ছাগল বিক্রি করা হয়েছে, যার বিক্রয়মূল্য ১ লাখ ১৫ হাজার ৪০৩ টাকা। /এমএএইচ/

জেন-জি'দের টাকার ধারণা বদলে দিচ্ছে অর্থনীতি
জেন-জি'দের টাকার ধারণা বদলে দিচ্ছে অর্থনীতি

টাকা জমিয়ে রাখার ধারণায় বিশ্বাসী নয় জেন-জি। তারা বিশ্বাস করে YOLO-You Only Live Once অর্থ আপনি কেবল একবারই বাঁচবেন। তাই সঞ্চয়ের চেয়ে অভিজ্ঞতায় খরচ করতে পছন্দ করে। নগদ অর্থ থেকে দূরত্ব ও ক্যাশলেস ঝোঁক: তারা নগদ টাকার চেয়ে ডিজিটাল পেমেন্ট, মোবাইল ব্যাংকিং, কার্ড এবং ইউপিআই ভিত্তিক লেনদেনে অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। সফট সেভিংস বা নমনীয় সঞ্চয়: অতীতের কঠোরভাবে সঞ্চয় বা অবসরের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠার বিপরীতে জেন-জিরা সফট সেভিংস-এ বিশ্বাসী। তারা ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার পাশাপাশি বর্তমানের মানসিক শান্তি ও জীবনযাত্রার মানকে বেশি প্রাধান্য দেয়। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও টিকে থাকার মানসিকতা: উচ্চ মূল্যস্ফীতি, আবাসন সংকট এবং পড়াশোনার ঋণের কারণে তাদের অনেকে মনে করেন প্রথাগত উপায়ে ধনী হওয়া কঠিন। তাই তারা জীবনকে উপভোগ করার পাশাপাশি বিকল্প আয়ের উৎসের দিকে ঝুঁকছে। বিলাসী পণ্যের বদলে অভিজ্ঞতা: জেন-জির কাছে দামি ঘড়ি, গাড়ি বা বড় কোনো স্থায়ী সম্পত্তি কেনার চেয়ে ভ্রমণ, কনসার্ট কিংবা অভিজ্ঞতা অর্জনের পেছনে খরচ করাকে বেশি মূল্যবান মনে হয়। স্বচ্ছতা ও মুক্ত আলোচনা: তারা টাকা-পয়সা নিয়ে লুকোচুরি না করে খোলামেলা কথা বলতে পছন্দ করে এবং সোশ্যাল মিডিয়া বা ফিনফ্লুয়েন্সারদের (Finfluencers) পরামর্শ দেখে আর্থিক সিদ্ধান্ত নেয়। এই পরিবর্তনগুলো ব্যাংক, রিটেইল বাজার ও বিনিয়োগ ব্যবস্থার পুরো কাঠামোকে নতুনভাবে রূপ দিচ্ছে। তাদের টাকা যায় কনসার্টের টিকিট, বিদেশ ট্রাভেল, নতুন আইফোন বা ট্রেন্ডি কফি শপে। অনেকেই মাসের শেষে টানাটানি করলেও, ইনস্টাগ্রামে লাইফস্টাইল বজায় রাখতে তারা পিছপা হয় না। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এই প্রবণতা অর্থনীতিতে নতুন ধারা তৈরি করেছে। ইক্সপেরিয়েন্স ইকোনোমি এখন বড় হচ্ছে। ব্র্যান্ডগুলো এখন পণ্য নয়, অভিজ্ঞতা বিক্রি করছে। তবে সমালোচকরা বলছেন, ভবিষ্যৎ নিয়ে তাদের উদাসীনতা বিপজ্জনক হতে পারে। জেন-জির উত্তর, ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত, তাই বর্তমানটাই উপভোগ করতে চাই। /শিউলী/