Advertisement(970X90).png
Advertisement(300X90).png

১৫ কার্তিক ১৪৩৩, ১৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

পেঁপে বাগানে সাথি ফসল, এক জমিতে তিন আয়ের পথ
পেঁপে বাগানে সাথি ফসল, এক জমিতে তিন আয়ের পথ

বগুড়া সদর উপজেলার খামারকান্দি গ্রামের কামাল প্রায় আট বছর ধরে শাহী জাতের পেঁপে চাষ করছেন। শুরুতে এক বিঘা জমিতে পেঁপে চাষ করলেও ফলন ও বাজারে সাড়া পেয়ে ধীরে ধীরে চাষের পরিমাণ বাড়ান। বর্তমানে তার বাগানের গাছের ফাঁকা জায়গায় চাষ হচ্ছে হলুদ ও বিভিন্ন মৌসুমি সবজি। কামাল জানান, চলতি বছর পেঁপে চাষে তার খরচ হয়েছে প্রায় ৪ লাখ টাকা। সাড়ে ৪ বিঘা জমির পাকা পেঁপে বিক্রি করে ১৫ থেকে ১৬ লাখ টাকা পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন তিনি। সেই হিসাবে অন্যান্য খরচ বাদ দেওয়ার আগেই সম্ভাব্য আয় থেকে উৎপাদন খরচ বাদ দিলে ১১ থেকে ১২ লাখ টাকা অবশিষ্ট থাকতে পারে। সাথি ফসলে জমির বাড়তি ব্যবহার একসময় এই জমিতে ফুলকপি, বেগুন ও আলুসহ বিভিন্ন ফসল চাষ করতেন কামাল। পরে কৃষি বিভাগের পরামর্শে পেঁপে চাষ শুরু করেন। পেঁপের গাছের সারির মাঝের ফাঁকা জায়গায় হলুদ ও মৌসুমি সবজি চাষ করে জমির ব্যবহার বাড়িয়েছেন তিনি। একই জমিতে প্রধান ফসলের পাশাপাশি উপযোগী অন্য ফসল চাষের এই পদ্ধতি সাথি ফসল চাষ হিসেবে পরিচিত। এতে প্রধান ফসলের পাশাপাশি বাড়তি উৎপাদন ও আয়ের সুযোগ তৈরি হয়। তবে ফসলের ধরন, আলো-বাতাস, পানি ও পুষ্টির চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে চাষ করতে হয়। চারা বিক্রিতেও আয় কামালের উদ্যোগের আরেকটি দিক পেঁপের চারা উৎপাদন। নিজের বাগানের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি উদ্বৃত্ত চারা অন্য কৃষকদের কাছে বিক্রি করেন তিনি। চলতি বছর প্রায় দুই হাজার শাহী জাতের পেঁপের চারা বিক্রি করে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা আয় করেছেন বলে জানান কামাল। বাজারের সুবিধা কামালের বাগানের পাশ দিয়ে গেছে বগুড়া দ্বিতীয় বাইপাস সড়ক। ফলে বাগান থেকে দ্রুত শহরের চেলোপাড়া পাইকারি বাজারে পেঁপে নিয়ে যেতে পারেন তিনি। পেঁপে দ্রুত পচনশীল হওয়ায় সময়মতো বাজারে পৌঁছানো তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা। বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) মাহফুজ আলম জানান, জেলায় বর্তমানে প্রায় ৬৫০ হেক্টর জমিতে পেঁপে চাষ হচ্ছে। কৃষকদের নতুন ফসল চাষে উৎসাহিত করা এবং উৎপাদন বাড়াতে কৃষি বিভাগের পরামর্শ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা কে এম মনসুর রহমান জানান, ৩ বছর আগে কামালকে শাহী জাতের পেঁপে চাষে উৎসাহিত করা হয়। পেঁপের পাশাপাশি হলুদের মতো সাথি ফসল চাষ ও চারা বিক্রির মাধ্যমে তার আয়ের সুযোগ বেড়েছে। তবে সম্ভাব্য বিক্রির অঙ্কই প্রকৃত মুনাফা নয়। জমির মূল্য, শ্রম, পরিবহন ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় হিসাব করলে প্রকৃত লাভের চিত্র পাওয়া যাবে। বাজারদর ও ফলনের ওপরও আয়ের পরিমাণ নির্ভর করে। /শান্ত/

জমি লিজ নিয়ে মাল্টা চাষে লাখপতি শারমিন
জমি লিজ নিয়ে মাল্টা চাষে লাখপতি শারমিন

২০২৩ সালের শেষ দিকে ৫ বছরের জন্য ২ বিঘা জমি লিজ নিয়ে মাল্টা চাষ শুরু করেন শারমিন। বাগানে লাগান ভিয়েতনামি ও বারি-১ জাতের চারা। প্রথম দিকে ফলন কম হলেও সময়ের সঙ্গে গাছ বড় হয়, বাড়তে থাকে ফলনও। শারমিনের ভাষ্য, জমির লিজ ও পরিচর্যাসহ অন্যান্য খরচ বাদ দিয়ে গত বছর ২ লাখ টাকার বেশি লাভ হয়েছে। চলতি মৌসুমে প্রায় ৪ লাখ টাকা মুনাফার আশা করছেন তিনি। চাটমোহর উপজেলার ডিবিগ্রাম ইউনিয়নের বাসিন্দা শারমিন জানান, তাদের এলাকায় সাধারণত ধান, সরিষা ও মৌসুমি ফসলের চাষ হয়। সেখানে মাল্টা চাষ শুরু করায় প্রথম দিকে অনেকের বিরূপ মন্তব্য শুনতে হয়েছে। তবে সেসব উপেক্ষা করে নিজের পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ চালিয়ে গেছেন তিনি। রেললাইনের পাশে তুলনামূলক দুর্গম এলাকায় অবস্থিত তার বাগানে এখন প্রতিদিনই মানুষ আসছেন। কেউ মাল্টা কিনছেন, কেউ চাষের পদ্ধতি জানতে চাইছেন। স্থানীয় বাজারে সবুজ মাল্টার দাম ও চাহিদা নিয়ে চ্যালেঞ্জ থাকায় নতুন করে এক বিঘা জমিতে অস্ট্রেলীয় হলুদ জাতের মাল্টা চাষ শুরু করেছেন শারমিন। নতুন জাতটি বাজারে ভালো সাড়া ফেলবে বলে আশা তার। চাটমোহর ও ভাঙ্গুড়া থেকে বাগান দেখতে আসা আনিসুল হক ও রায়হান আলী জানান, ফলন ও চাষের পরিবেশ দেখে তারা উৎসাহিত হয়েছেন। সুযোগ পেলে তারাও লাভজনক ফল চাষ শুরু করতে চান। কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, উপযুক্ত পরিচর্যা ও কৃষি বিভাগের পরামর্শ মেনে চললে মাল্টা চাষে ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। শারমিনকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় ফল মেলায় তার বাগানের মাল্টা প্রদর্শনের পর এলাকার আরও কৃষক এই চাষে আগ্রহী হয়েছেন। /শান্ত/