Advertisement(970X90).png
Advertisement(300X90).png

১৫ কার্তিক ১৪৩৩, ১৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

চিত্রশিল্পী যোগেন চৌধুরী’র জীবনাবসান
চিত্রশিল্পী যোগেন চৌধুরী’র জীবনাবসান

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, এক বছরেরও বেশি সময় ধরে রক্তের ক্যান্সারে ভুগছিলেন গুণী এই শিল্পী। ১৪ মাসে তাঁকে একাধিকবার কেমোথেরাপি দেওয়া হয়। সম্প্রতি মূত্রনালির সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার পর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। এরপর থেকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। ছবিতে অভিনব রেখার ব্যবহার এবং মানুষের শরীরের বিভিন্ন ভঙ্গি, আবেগ ও অনুভূতি ফুটিয়ে তোলার অসাধারণ দক্ষতার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন যোগেন চৌধুরী। নিজস্ব শৈলীর কারণে ভারতীয় আধুনিক চিত্রকলায় তিনি স্বতন্ত্র পরিচিতি অর্জন করেন। চিত্রকলার বাইরেও প্রশাসন ও শিক্ষাক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে তাঁর। দিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবনের সংগ্রহশালায় অবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। পরে শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনে অধ্যাপক ও অধ্যক্ষ হিসেবে কাজ করেন। শিল্পচর্চার পাশাপাশি লেখালেখিতেও সক্রিয় ছিলেন যোগেন চৌধুরী। শিল্পভাবনা, সমাজ, পরিবেশ, শিল্পকলা শিক্ষা ও সংস্কৃতি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রবন্ধ লিখেছেন তিনি। তাঁর লেখা বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। এসব বিষয়ের ওপর তাঁর একাধিক গ্রন্থও প্রকাশিত হয়। এছাড়া সাহিত্যচর্চার অংশ হিসেবে কবিতাও লিখেছেন এই শিল্পী। ১৯৩৯ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি অবিভক্ত বাংলার ফরিদপুরের দহরপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন যোগেন চৌধুরী। তাঁর বাবা প্রমথনাথ চৌধুরী ছিলেন জমিদার। তাঁর মাও আলপনা আঁকায় পারদর্শী ছিলেন। ছোটবেলা থেকেই ছবি আঁকার প্রতি আগ্রহ ছিলো তাঁর। ১৯৪৮ সালে পরিবারের সঙ্গে কলকাতায় চলে যান তিনি। ১৯৫৫ সালে কলকাতার সরকারি চারুকলা ও কারুশিল্প মহাবিদ্যালয়ে ভর্তি হন যোগেন চৌধুরী। ১৯৬০ সালে পড়াশোনা শেষ করে হাওড়া জেলা স্কুলে শিল্পের শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে কলকাতার তাঁত বোর্ডে নকশাকার হিসেবে কাজ করেন। ১৯৬৫ সালে ফরাসি সরকারের বৃত্তি নিয়ে শিল্পশিক্ষার জন্য প্যারিসে যান। সেখানে চারুকলা বিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি ছাপচিত্রের চর্চা করেন। ইউরোপীয় শিল্পচর্চার অভিজ্ঞতা তাঁর শিল্পকর্মে নতুন মাত্রা যোগ করে। দেশে ফেরার পর সমাজসচেতন শিল্পী হিসেবে পরিচিতি বাড়তে থাকে তার। সমাজ ও রাজনীতির অসংগতি, ক্ষমতার কদর্যতা এবং মানুষের জীবনের টানাপোড়েন তার শিল্পকর্মে বিশেষভাবে উঠে এসেছে। তার ছবিতে মানুষের অবয়ব হয়ে উঠেছে সমাজের অন্তর্লীন যন্ত্রণা ও বৈপরীত্যের প্রতীক। শিল্পকলায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি পদ্মভূষণসহ বিভিন্ন সম্মাননা লাভ করেন। ললিতকলা একাডেমির স্বীকৃতিও পেয়েছেন তিনি। ফ্রান্সেও তার শিল্পকর্ম সম্মানিত হয়েছে। জীবনের শেষ পর্যায়ে তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্য হিসেবে ভারতের রাজ্যসভার সংসদ সদস্যের দায়িত্ব পালন করেন যোগেন চৌধুরী। /এমএএইচ/

চিত্রশিল্পী সাইদা কামাল আর নেই
চিত্রশিল্পী সাইদা কামাল আর নেই

সাইদা কামাল কবি সুফিয়া কামালের মেয়ে। তিনি সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা সুলতানা কামালের ছোট বোন। সুলতানা কামাল তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সাইদা কামাল দীর্ঘদিন ধরে নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। সর্বশেষ তাকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছিলো। সেখানেই তার মৃত্যু হয়েছে। পরিবার আরও জানায়, সাইদা কামাল তার সৃজনশীল শিল্পকর্মের মধ্য দিয়ে দেশের চারুশিল্পে অবদান রেখেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চারুকলায় শিক্ষা লাভ করেছেন। দেশ-বিদেশে তার বহু একক আর যৌথ চিত্রপ্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় সাইদা কামাল তার বড় বোন সুলতানা কামালের সঙ্গে রণাঙ্গনে ‘বাংলাদেশ ফিল্ড হাসপাতালে’ কর্মরত ছিলেন। এই অবদানের জন্য তিনি মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়কের বিশেষ প্রশংসাপত্র লাভ করেন। /সোহেল/