Advertisement(970X90).png
Advertisement(300X90).png

১৫ কার্তিক ১৪৩৩, ১৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

সবজি চাষে স্বাবলম্বী রংপুরের সেলিনা
সবজি চাষে স্বাবলম্বী রংপুরের সেলিনা

সেলিনা আক্তার উপজেলার কান্দী ইউনিয়নের কান্দী কাবিলাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। এক সময় সংসারে সচ্ছলতা আনতে তাকে বেশ হিমশিম খেতে হতো। পরে বাড়ির পাশের এক একর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে সবজি চাষ শুরু করেন তিনি। কঠোর পরিশ্রম ও নিয়মিত পরিচর্যায় ধীরে ধীরে সাফল্য আসে। শীত ও গ্রীষ্ম দুই মৌসুমেই তার জমিতে লাউ, মিষ্টিকুমড়া, বেগুন, করলা, টমেটো, বাঁধাকপি, ফুলকপি, শসা, শিমসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি উৎপাদিত হয়। স্থানীয় বাজারে চাহিদা মেটানোর পর অবশিষ্ট সবজি আড়তে বিক্রি করেন তিনি। অনেক সময় পাইকাররা সরাসরি ক্ষেত থেকে সবজি কিনে নেওয়ায় পরিবহন খরচও কমে। সেলিনা আক্তার জানান, প্রতি মাসে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকার সবজি বিক্রি করেন তিনি। খরচ বাদ দিয়ে আয় থাকে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা। এই আয় দিয়েই সংসার চালানোর পাশাপাশি অনার্সপড়ুয়া একমাত্র ছেলের পড়াশোনার খরচ বহন করছেন। তার খেতে প্রতিদিন গড়ে চার থেকে ছয়জন শ্রমিক কাজ করেন। সেলিনা জানান, রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমিয়ে জৈব সার ও ভার্মিকম্পোস্ট ব্যবহার করে সবজি উৎপাদন করছেন তিনি। স্থানীয় শিক্ষক আমিনুল ইসলাম বলেন, কৃষি পরামর্শ, উন্নত বীজ ও বাজারজাতকরণে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পেলে তার মতো উদ্যোক্তারা আরও এগিয়ে যেতে পারবেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিলুফা ইয়াসমিন জানান, সেলিনার মতো নারী কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। তার সাফল্য অন্য নারী ও বেকার তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণা হতে পারে। /শান্ত/

অনাবাদী জমিতে আদা চাষে স্বাবলম্বী গৃহিণীরা
অনাবাদী জমিতে আদা চাষে স্বাবলম্বী গৃহিণীরা

স্থানীয় নারী উদ্যোক্তা আইরিন আক্তার ছায়াযুক্ত অনাবাদী জায়গায় পরীক্ষামূলকভাবে শুরু করেছিলেন এই উদ্যোগ। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা শরীয়তপুর ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি (এসডিএস) এবং পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)-এর কারিগরি ও কৃষি সহায়তায় তিনি প্রাথমিকভাবে ২০০টি বস্তায় আদা চাষ শুরু করেন। নিজের তৈরি জৈব সার এবং সংস্থার দেওয়া বীজ-কীটনাশক ব্যবহার করায় উৎপাদন খরচ ছিল প্রায় শূন্যের কোঠায়। নারী উদ্যোক্তা আইরিন আক্তার বলেন, পরিবারের প্রয়োজনীয় আদার চাহিদা তো মিটবেই, আশা করছি সব খরচ বাদ দিয়ে প্রায় ৪০ হাজার টাকার আদা বিক্রি করতে পারব। একই গ্রামের আরেক নারী ঝর্ণা আক্তার ২৫০টি বস্তায় আদা চাষ করেছেন। গৃহস্থালি কাজের ফাঁকেই সামান্য পরিচর্যা করে তিনি দেখছেন তিনগুণ লাভের মুখ। আগামী মৌসুমে আরও বড় পরিসরে চাষ করার পরিকল্পনা করছেন তিনি। আইরিন ও ঝর্ণার সাফল্য দেখে জাজিরার বিকেনগর এলাকার অন্তত ১০ জন নারী উদ্যোক্তা এখন এই আধুনিক প্রযুক্তিতে আদা চাষে যুক্ত হয়েছেন। দেখতে ক্ষুদ্র হলেও একেকটি বস্তা থেকে প্রায় ১ থেকে দেড় কেজি পর্যন্ত আদা পাওয়া যাচ্ছে, যা গ্রামীণ পরিবারগুলোতে নতুন আয়ের উৎস তৈরি করেছে। জাজিরা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মুসলিমা জাহান লিনিয়া জানান, বাড়ির আঙিনায় অবহেলায় পড়ে থাকা জমি ব্যবহার করে নারীরা কেবল নিজেদের আদার চাহিদা পূরণ করছেন না, বরং তা বিক্রি করে পরিবারকে আর্থিকভাবে মজবুত করছেন। এটি গ্রামীণ নারীদের ক্ষমতায়ন ও স্বাবলম্বী করার ক্ষেত্রে দৃষ্টান্তমূলক ভূমিকা রাখছে। লালমাটি থেকে চরাঞ্চলের নতুন সম্ভাবনা বস্তায় আদা চাষের এই সফলতার হাওয়া কেবল জাজিরাতেই সীমাবদ্ধ নেই; ছড়িয়ে পড়েছে টাঙ্গাইলের মধুপুর এবং জামালপুর জেলায়ও।মধুপুরের পাহাড়ি ও লালমাটির এলাকায় সাধারণত আনারস ও কলা চাষের আধিক্য দেখা যায়। তবে উঁচু জমি এবং বাড়ির আঙিনায় ছায়াযুক্ত স্থানে বস্তায় আদা চাষ সেখানকার কৃষকদের কাছে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। মধুপুরের বিষমুক্ত ও প্রাকৃতিকভাবে সমৃদ্ধ মাটিতে বস্তায় আদা চাষ করে কৃষকরা কম খরচে দ্বিগুণ ফলন পাচ্ছেন। জামালপুরের নদীতীরবর্তী ও চরাঞ্চল জামালপুরের বন্যাপ্রবণ ও চরাঞ্চলে যেখানে বর্ষাকালে নিচু জমি পানির নিচে তলিয়ে যায়, সেখানে বস্তায় আদা চাষ কৃষকদের জন্য এক আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। উঁচু ভিটা বা আঙিনায় বস্তা রেখে সহজে সরিয়ে নেওয়া যায় বলে বন্যার রূপ পরিবর্তন করলেও ফসলের কোনো ক্ষতি হয় না। জামালপুরের অনেক নারী এখন হাঁস-মুরগি পালনের পাশাপাশি এই সহজ আদা চাষকে তাদের বাড়তি আয়ের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছেন। বস্তায় আদা চাষ কেন এত জনপ্রিয় সনাতন পদ্ধতির তুলনায় বস্তায় আদা চাষের বেশ কিছু অনন্য সুবিধা রয়েছে, যা একে দিন দিন জনপ্রিয় করে তুলছে বলে মনে করেন জামালপুর কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আলম শরিফ খান। তিনি জানান, অনাবাদী জায়গা ব্যবহার করে বাড়ির আঙিনা, ছাদে বা ছায়াযুক্ত অনাবাদী জায়গায় এটি সহজেই করা যায়। এছাড়া রোগবালাই ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকেও সুরক্ষিত থাকে এবং কম খরচ ও সহজে পরিচর্যা করা যায়। আর ফলনও হয় বেশি। বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের পথ কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে প্রতি বছর আদার একটি বড় ঘাটতি থাকে, যা মেটাতে চীন বা ভারত থেকে আদা আমদানি করতে হয়। এ বিষয়ে শরীয়তপুর ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির কৃষি কর্মকর্তা মো. মোস্তফা কামাল বলেন, নারীদের স্বাবলম্বী করার পাশাপাশি এ ধরনের উদ্যোগ জাতীয় পর্যায়ে আদার আমদানি নির্ভরতা কমাবে। এতে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে। আগামীর প্রত্যাশা যেখানে একসময় গ্রামীণ নারীদের কেবল গৃহস্থালি কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ভাবা হতো, সেখানে আজ বস্তায় আদা চাষের মাধ্যমে তারা হয়ে উঠছেন সফল উদ্যোক্তা। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সঠিক প্রশিক্ষণ, মানসম্পন্ন বীজ সরবরাহ এবং আর্থিক ঋণ সুবিধা আরও বৃদ্ধি করা গেলে জাজিরা, মধুপুর ও জামালপুরের মতো দেশের প্রতিটি উপজেলায় এ প্রযুক্তি ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব। বাড়ির আঙিনার ছোট একখণ্ড সবুজ জায়গা আজ কেবল সৌন্দর্যই ছড়াচ্ছে না, বুনে দিচ্ছে নতুন দিনের স্বাবলম্বী বাংলাদেশের গল্প। ইউনিসেফ ফিচার /কেআর/

জমি লিজ নিয়ে মাল্টা চাষে লাখপতি শারমিন
জমি লিজ নিয়ে মাল্টা চাষে লাখপতি শারমিন

২০২৩ সালের শেষ দিকে ৫ বছরের জন্য ২ বিঘা জমি লিজ নিয়ে মাল্টা চাষ শুরু করেন শারমিন। বাগানে লাগান ভিয়েতনামি ও বারি-১ জাতের চারা। প্রথম দিকে ফলন কম হলেও সময়ের সঙ্গে গাছ বড় হয়, বাড়তে থাকে ফলনও। শারমিনের ভাষ্য, জমির লিজ ও পরিচর্যাসহ অন্যান্য খরচ বাদ দিয়ে গত বছর ২ লাখ টাকার বেশি লাভ হয়েছে। চলতি মৌসুমে প্রায় ৪ লাখ টাকা মুনাফার আশা করছেন তিনি। চাটমোহর উপজেলার ডিবিগ্রাম ইউনিয়নের বাসিন্দা শারমিন জানান, তাদের এলাকায় সাধারণত ধান, সরিষা ও মৌসুমি ফসলের চাষ হয়। সেখানে মাল্টা চাষ শুরু করায় প্রথম দিকে অনেকের বিরূপ মন্তব্য শুনতে হয়েছে। তবে সেসব উপেক্ষা করে নিজের পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ চালিয়ে গেছেন তিনি। রেললাইনের পাশে তুলনামূলক দুর্গম এলাকায় অবস্থিত তার বাগানে এখন প্রতিদিনই মানুষ আসছেন। কেউ মাল্টা কিনছেন, কেউ চাষের পদ্ধতি জানতে চাইছেন। স্থানীয় বাজারে সবুজ মাল্টার দাম ও চাহিদা নিয়ে চ্যালেঞ্জ থাকায় নতুন করে এক বিঘা জমিতে অস্ট্রেলীয় হলুদ জাতের মাল্টা চাষ শুরু করেছেন শারমিন। নতুন জাতটি বাজারে ভালো সাড়া ফেলবে বলে আশা তার। চাটমোহর ও ভাঙ্গুড়া থেকে বাগান দেখতে আসা আনিসুল হক ও রায়হান আলী জানান, ফলন ও চাষের পরিবেশ দেখে তারা উৎসাহিত হয়েছেন। সুযোগ পেলে তারাও লাভজনক ফল চাষ শুরু করতে চান। কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, উপযুক্ত পরিচর্যা ও কৃষি বিভাগের পরামর্শ মেনে চললে মাল্টা চাষে ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। শারমিনকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় ফল মেলায় তার বাগানের মাল্টা প্রদর্শনের পর এলাকার আরও কৃষক এই চাষে আগ্রহী হয়েছেন। /শান্ত/

কলা চাষে সাড়া ফেলেছেন হাফিজুর
কলা চাষে সাড়া ফেলেছেন হাফিজুর

বোয়ালমারী সদর ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামে গড়ে তোলা বাগানে এখন সারি সারি কলাগাছে ফল ধরেছে। এর মধ্যে ১২০০টি সাগর কলার চারা গত বছরের আশ্বিন মাসে রোপণ করেন হাফিজুর। বেশির ভাগ গাছেই কলা ধরেছে। জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার শিবপুর গ্রামের বাসিন্দা হাফিজুর বর্তমানে বোয়ালমারীতে বসবাস করছেন। স্থানীয় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান একেএম হামিদুল বারী বরুণ মিয়ার কাছ থেকে জমি লিজ নিয়ে কলা চাষ শুরু করেন তিনি। জমিটির বড় একটি অংশ আগে পরিত্যক্ত ছিলো। সেটি পরিষ্কার করে চাষের উপযোগী করেন হাফিজুর। তিনি জানান, বাগান তৈরি থেকে ফলন আসা পর্যন্ত খরচ হয়েছে প্রায় আড়াই লাখ টাকা। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ১৫ থেকে ২০ কাঁদি সাগর কলা বিক্রি হচ্ছে। আকার ও মানভেদে প্রতি কাঁদি কলার পাইকারি দাম ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা। হাফিজুর বলেন, মাছ ও ফিলিপাইন জাতের আখ চাষের পর নতুন কিছু করার চিন্তা থেকে কলা চাষে আগ্রহী হন। নিয়মিত পরিচর্যার প্রায় ১০ মাস পর গাছে ফল আসতে শুরু করে। এখন কলার পাশাপাশি গাছের গোড়ায় জন্মানো চারাও বিক্রি করছেন তিনি। প্রতিটি চারা ২৫ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও তার বাগান দেখতে আসছেন। কেউ কলা কিনছেন, আবার কেউ চারা সংগ্রহ করে চাষের পরিকল্পনা করছেন। হাফিজুরের আশা, ভবিষ্যতে তার বাগানের কলা দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করতে পারবেন। বোয়ালমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলভীর রহমান জানান, কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে হাফিজুরকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও পরামর্শ দেওয়া হবে। স্থানীয়ভাবে কলার উৎপাদন বাড়লে কৃষকের আয় বৃদ্ধি এবং এলাকার চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখবে। /শান্ত/