Advertisement(970X90).png
Advertisement(300X90).png

১৫ কার্তিক ১৪৩৩, ১৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

৫ লাখ কর্মী নেবে ইতালি, মানতে হবে যেসব নিয়ম
৫ লাখ কর্মী নেবে ইতালি, মানতে হবে যেসব নিয়ম

ইতালির নতুন ফ্লো ডিক্রি বা ‘ডেক্রেতো ফ্লুসি’ অনুযায়ী, তিন বছরে গড়ে প্রতিবছর ১ লাখ ৬৪ হাজার ৮৫০ জন বিদেশি কর্মী কাজের অনুমতি পাবেন। মৌসুমি ও অমৌসুমি কর্মীদের পাশাপাশি সীমিতসংখ্যক স্বনির্ভর কর্মী, উদ্যোক্তা, ফ্রিল্যান্সার ও শিল্পীদের জন্যও সুযোগ রাখা হয়েছে। কোন কোন খাতে কাজের সুযোগ অমৌসুমি কর্মীদের জন্য পরিবহন ও সরবরাহ, ধাতব ও যন্ত্রপাতি উৎপাদন, পর্যটন, কৃষি ও কৃষিজ পণ্য, নির্মাণ এবং উৎপাদন খাতে কাজের সুযোগ থাকবে। মৌসুমি কর্মীরা মূলত কৃষি, ফসল সংগ্রহ, খামার, হোটেল, রেস্তোরাঁ ও পর্যটনকেন্দ্রে অস্থায়ী কাজের সুযোগ পাবেন। এছাড়া পারিবারিক পরিচর্যা, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সহায়তা এবং সামাজিক-স্বাস্থ্যসেবা খাতেও কর্মী নিয়োগের ব্যবস্থা রয়েছে। ইতালির সঙ্গে অভিবাসন সহযোগিতা চুক্তি থাকা দেশগুলোর কর্মীরা নির্দিষ্ট কোটায় অগ্রাধিকার পেতে পারেন। শরণার্থী ও রাষ্ট্রহীন ব্যক্তিদের জন্যও কিছু সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে কোন দেশের নাগরিক কোন কোটায় আবেদন করতে পারবেন, তা নির্দিষ্ট নিয়ম ও যোগ্যতার ওপর নির্ভর করবে। আবেদন করবেন যেভাবে এই ব্যবস্থায় সাধারণত ইতালির নিয়োগকর্তাকেই বিদেশি কর্মীর পক্ষে কাজের অনুমতির আবেদন করতে হয়। আবেদনকারী নিজে টাকা দিয়ে কোনো মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে চাকরি বা ভিসা নিশ্চিত করতে পারবেন, এমন নিশ্চয়তা নেই। নিয়োগকর্তাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন প্রস্তুত করতে হয়। ২০২৬-২০২৮ সালের ডিক্রিতে কৃষি খাতের মৌসুমি কর্মীদের জন্য ১২ জানুয়ারি, পর্যটন খাতের মৌসুমি কর্মীদের জন্য ৯ ফেব্রুয়ারি, চুক্তিবদ্ধ দেশের অমৌসুমি কর্মীদের জন্য ১৬ ফেব্রুয়ারি এবং অন্যান্য অমৌসুমি কর্মীদের জন্য ১৮ ফেব্রুয়ারি আবেদন জমার দিন নির্ধারণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আবেদনে মজুরি, বাসস্থান ও কর্মীর যোগ্যতাসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হয়। আবেদন ও ভিসার সময়সীমা এবং শর্ত সংশ্লিষ্ট সরকারি নির্দেশনা থেকে যাচাই করা জরুরি। প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকবেন যেভাবে ফ্লো ডিক্রির আওতায় কাজের সুযোগকে কেন্দ্র করে ভুয়া নিয়োগকর্তা, মধ্যস্থতাকারী ও ভিসার প্রতিশ্রুতি দিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। একটি পাচারবিরোধী হটলাইনের প্রতিবেদনে ২০২৪ সালে এই ধরনের প্রতারণার কথা উঠে আসে। প্রতারণা এড়াতে নিয়োগকর্তার পরিচয়, চাকরির চুক্তি, কাজের অনুমতির আবেদন এবং ভিসার তথ্য যাচাই করতে হবে। শুধু আবেদন জমা হয়েছে বা কোটায় নাম এসেছে, এমন দাবি শুনে কাউকে বড় অঙ্কের টাকা দেওয়া উচিত নয়। প্রয়োজনে ইতালির সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর ও বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে তথ্য নিশ্চিত করা যেতে পারে। ইতালির নতুন ফ্লো ডিক্রি নিয়মিত অভিবাসনের সুযোগ তৈরি করলেও চাকরি, কাজের অনুমতি ও ভিসা নিশ্চিত হওয়ার বিষয়টি নির্দিষ্ট শর্ত পূরণের ওপর নির্ভরশীল। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট বছরের সরকারি নির্দেশনা ও হালনাগাদ সময়সীমা যাচাই করা জরুরি। /শান্ত/

১ এপ্রিল থেকে জাপানে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ শুরু
১ এপ্রিল থেকে জাপানে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ শুরু

সোমবার (১৯ অক্টোবর) চুক্তি সই ও কর্মী নিয়োগের বিষয়টি জানিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। এর আগে রবিবার (১৭ অক্টোবর) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং জাপান সরকারের প্রায় এক বছরের দীর্ঘ প্রচেষ্টার ফলস্বরূপ উভয় দেশের মধ্যে কর্মসংস্থান সংক্রান্ত একটি নতুন চুক্তি ইএসডিপি-এমওসি (মেমোরেন্ডাম অব কো-অপারেশন অন এমপ্লয়মেন্ট স্কিলস ডেভেলপমেন্ট) চূড়ান্তভাবে স্বাক্ষরিত হয়। বাংলাদেশের পক্ষে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং জাপানের পক্ষে দেশটির মিনিস্ট্রি অব জাস্টিস, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য, শ্রম ও কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং ন্যাশনাল পুলিশ এজেন্সির প্রতিনিধিরা এই চুক্তিতে সই করেন। বর্তমান সরকারের বৈদেশিক কর্মসংস্থান সম্প্রসারণের ইতিহাসে এটি একটি অন্যতম মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন জাপান সফরের সময় এই চুক্তির কপি আনুষ্ঠানিকভাবে উভয় পক্ষের মধ্যে হস্তান্তর করা হবে। এই চুক্তির অধীনে ২০২৭ সালের ১ এপ্রিল থেকে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ শুরু করবে জাপান। চুক্তির প্রাথমিক মেয়াদ ৫ বছর। আর মেয়াদ শেষে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে আরও ৫ বছরের জন্য বৃদ্ধি পাবে, ফলে সামগ্রিক মেয়াদ দাঁড়াবে ১০ বছর। ঐতিহাসিক এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশি কর্মীরা জাপানে অভূতপূর্ব সুযোগ ও সুরক্ষা লাভ করবেন। /শুভ/