Advertisement(970X90).png
Advertisement(300X90).png

১৫ কার্তিক ১৪৩৩, ১৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

৩ আইন নিয়ে অ্যামনেস্টি'র উদ্বেগ, সংশোধনের আহ্বান
৩ আইন নিয়ে অ্যামনেস্টি'র উদ্বেগ, সংশোধনের আহ্বান

আইন তিনটি হলো সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন ২০২৬, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন ২০২৬ এবং স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন ২০২৬। গত ২৬ অক্টোবর পাঠানো চিঠিতে এসব আইনের বিভিন্ন বিধান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। গত সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনের সময় আইনমন্ত্রীর সঙ্গে অ্যামনেস্টির মহাসচিবের বৈঠকের ধারাবাহিকতায় এই চিঠি পাঠানো হয়েছে। সাইবার আইনের অপব্যবহারের আশঙ্কা প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ জানিয়েছে অ্যামনেস্টি। সংস্থাটির মতে, আগের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইন ২০০৬, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ এবং সাইবার নিরাপত্তা আইন ২০২৩ মতপ্রকাশের স্বাধীনতাসহ বিভিন্ন মানবাধিকার খর্ব করতে ব্যবহৃত হয়েছে। নতুন সংশোধনীতে সেই সমস্যার সমাধান না হয়ে বরং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকি বাড়তে পারে। প্রস্তাবিত সংশোধনীতে মানহানি, অপমান, হয়রানি, ভুল তথ্য ও গুজব ছড়ানোর মতো বিষয়কে কেন্দ্র করে অপরাধের পরিধি বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। অ্যামনেস্টির মতে, এসব বিষয়ের সংজ্ঞা অস্পষ্ট ও ব্যাপক হওয়ায় সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ এবং সরকারের সমালোচকদের হয়রানি বা তাদের কণ্ঠরোধে আইনটি ব্যবহারের আশঙ্কা রয়েছে। সংশোধনীর ৮(২) ধারায় অনলাইন থেকে তথ্য অপসারণ বা প্রকাশ বন্ধ করার ক্ষমতাপ্রাপ্ত সংস্থার সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা, জনশৃঙ্খলা, ধর্মীয় বা সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের নির্দেশনা, মানহানি কিংবা রাষ্ট্রের প্রতি ‘অশ্রদ্ধা’ প্রকাশের মতো কারণ দেখিয়ে তথ্য অপসারণের সুযোগ রাখা হয়েছে। অ্যামনেস্টির আশঙ্কা, এসব বিষয়ের সংজ্ঞা স্পষ্ট না হওয়ায় কর্তৃপক্ষ ইচ্ছামতো মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করতে পারে। পাশাপাশি, তথ্য অপসারণ বা প্রকাশ বন্ধের ক্ষেত্রে ৩ দিনের মধ্যে ট্রাইব্যুনালের অনুমোদন নেওয়ার বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়ার প্রস্তাব নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে সংস্থাটি। প্রস্তাবিত বিধানে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ৪০ লাখ টাকা জরিমানার সুযোগ রয়েছে। এই কারণে সংশোধনীটি প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে অ্যামনেস্টি। গুম প্রতিরোধ আইন সংশোধনের সুপারিশ গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন ২০২৬ প্রণয়নকে স্বাগত জানিয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। তবে সংস্থাটির মতে, আইনটি আন্তর্জাতিক গুমবিরোধী সনদের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এই জন্য কয়েকটি বিধান সংশোধনের সুপারিশ করেছে তারা। অ্যামনেস্টির মতে, গুমের শিকার ব্যক্তির সংজ্ঞা এমনভাবে সংশোধন করা প্রয়োজন, যাতে কাউকে আটক করা এবং পরে আটকের তথ্য অস্বীকার করা বা তার অবস্থান গোপন করার কাজ একই সরকারি কর্মকর্তাকে করতে হবে, এমন শর্ত না থাকে। এছাড়া জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে গ্রেপ্তারের তথ্য গোপন রাখার সুযোগও বাতিলের আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি, এমনকি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করার ক্ষেত্রেও। আইনের ৬ ধারায় মৃত্যুদণ্ডের বিধান নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে অ্যামনেস্টি। সংস্থাটি মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ওপর স্থগিতাদেশ এবং তা পুরোপুরি বিলোপের আহ্বান জানিয়েছে। আইনের ১৮ ধারায় অভিযুক্ত ব্যক্তির অনুপস্থিতিতে বিচার করার সুযোগ রাখা হয়েছে। অ্যামনেস্টির মতে, নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতি ছাড়া এই ধরনের বিচার ন্যায্য বিচারপ্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। অন্যদিকে, ২১ ধারায় গুমের ‘মিথ্যা ও হয়রানিমূলক’ অভিযোগ করলে ক্ষতিপূরণ বা সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। এই বিধানের কারণে গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবার অভিযোগ জানাতে নিরুৎসাহিত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। র‍্যাবের নাম বদলে এসআরবি স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে অ্যামনেস্টি। সংস্থাটির মতে, র‍্যাবের নাম পরিবর্তন করে নতুন ইউনিট গঠন করা হলেও আগের বাহিনীর সদস্য, ক্ষমতা ও সম্পদ নতুন ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়েছে। র‍্যাবের বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম ও নির্যাতনসহ গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগের কথা উল্লেখ করেছে অ্যামনেস্টি। সংস্থাটির মতে, এসব অভিযোগ যাচাই-বাছাই না করে আগের বাহিনীর সদস্যদের নতুন ইউনিটে অন্তর্ভুক্ত করা আইনের একটি বড় ঘাটতি। নতুন বাহিনীতে সদস্য নিয়োগের আগে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগগুলো যথাযথভাবে যাচাই করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছে তারা। অ্যামনেস্টির মূল আহ্বান, তিনটি আইনই যেন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড মেনে চলে এবং আইন প্রয়োগের মাধ্যমে মানুষের মৌলিক অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচার পাওয়ার সুযোগ ক্ষুণ্ন না হয়। /শান্ত/

এল নিনোর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে দাবানল নিয়ে  আইএমএফ’র উদ্বেগ
এল নিনোর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে দাবানল নিয়ে  আইএমএফ’র উদ্বেগ

সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ার ফলে সৃষ্ট এই প্রাকৃতিক আবহাওয়াচক্র মানুষের জীবনযাত্রায় মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে ইন্দোনেশিয়া ও ব্রাজিলের আমাজন অঞ্চলে চলমান দাবানল পরিস্থিতির ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ বোর্নিও দ্বীপ ও দক্ষিণ সুমাত্রার বিস্তীর্ণ বনভূমি মাসের পর মাস পুড়ছে, যার ধোঁয়ায় পুরো অঞ্চল আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে। এর প্রভাবে গত সপ্তাহে মালয়েশিয়ার কয়েকটি অঞ্চলে স্কুল বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং সিঙ্গাপুর ধোঁয়াজনিত অসুস্থতার চিকিৎসার জন্য ভর্তুকির ঘোষণা দিয়েছে। মধ্য কালিমান্তান প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংস্থার প্রধান আন্দি মুহাম্মদ খাদাফি জানান, আগুনে আটকে পড়া নোভিতা নামের একটি অগ্নিদগ্ধ নারী ওরাংওটাংসহ প্রায় ৪৬টি ওরাংওটাংকে উদ্ধার করা হয়েছে। অন্যদিকে ব্রাজিলের আমাজোনাস রাজ্যে গত সেপ্টেম্বরে আগের বছরের তুলনায় প্রায় চার গুণ বেশি দাবানল শনাক্ত হয়েছে, যার ধোঁয়ায় ঢেকে গেছে বৃহত্তম শহর মানাউস। এশিয়া মহাদেশের অন্য দেশগুলোতেও দেখা দিয়েছে তীব্র জ্বালানি ও প্রাকৃতিক সংকট। মিয়ানমারে অসময়ের অতিরিক্ত তাপপ্রবাহের কারণে বিদ্যুতের ব্যবহার বেড়ে গিয়ে গ্রিডে চরম চাপ পড়েছে। ফলে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের আশঙ্কায় দেশের নাগরিকদের সতর্ক করেছে দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয়। একইভাবে ফিলিপাইনের জ্বালানি মন্ত্রী শ্যারন গারিন গরম ও শুষ্ক আবহাওয়ায় জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কায় জনসাধারণকে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের আহ্বান জানিয়েছেন। এছাড়া থাইল্যান্ডে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে সৃষ্ট বন্যায় এ পর্যন্ত ৭১ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রধান ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা জানিয়েছেন, এল নিনোর বৈশ্বিক প্রভাব, বিশেষ করে খাদ্যনিরাপত্তা নিয়ে তিনি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে সহায়তায় আইএমএফ প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) সতর্ক করে বলেছে, ঋণের ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবে কোটি কোটি মানুষ দারিদ্র্যের মুখে পড়তে পারেন। আফ্রিকার মাদাগাস্কারের দক্ষিণাঞ্চলে ইতোমধ্যেই দুর্ভিক্ষের প্রভাব দেখা দিয়েছে। বিজ্ঞানী ও আবহাওয়াবিদদের মতে, প্রশান্ত মহাসাগরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ইতিহাসের সর্বোচ্চ ২৯.৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। জাতিসংঘের বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) জানিয়েছে, ডিসেম্বর মাসে সর্বোচ্চ তীব্রতায় পৌঁছানো পর্যন্ত এই ‘সুপার এল নিনো’ বা অতি শক্তিশালী এল নিনো আরও বিধ্বংসী হতে পারে, যা বিশ্বব্যাপী খরা ও বন্যার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। - কেআর