Advertisement(970X90).png
Advertisement(300X90).png

১৫ কার্তিক ১৪৩৩, ১৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া হুঁশিয়ারি ইরানের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর
যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া হুঁশিয়ারি ইরানের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর

রোববার (১৮ অক্টোবর) পার্লামেন্টের আস্থা ভোটে জয়ী হওয়ার পরপরই সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। খবর এনডিটিভির। মেহরদাদ আখলাঘি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ইরানে হামলা চালানোর সাহস করার কথা নয়। তবে হামলা হলে এর পরিণতি যুক্তরাষ্ট্র ও পুরো অঞ্চলকেই ভোগ করতে হবে। তিনি বলেন, ‘মানুষ নিশ্চিন্ত থাকতে পারে, সম্ভবত তারা আমাদের ওপর হামলা চালানোর সাহস করবে না। যদি তারা (যুক্তরাষ্ট্র) হামলা চালায়, তাহলে তাদের নিজেদের এবং পুরো অঞ্চলকে বিপুল ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।’ এর আগে ইরানের আইনপ্রণেতারা নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে আখলাঘির নিয়োগ অনুমোদন করেন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিনেই তার পূর্বসূরি নিহত হওয়ার পর এ পদে তাকে নিয়োগ দেওয়া হলো। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘ইসলামি পরামর্শ পরিষদের (পার্লামেন্ট) সদস্যরা আজ প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও সশস্ত্র বাহিনীর রসদ ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে মেহরদাদ আখলাঘির নিয়োগের পক্ষে ভোট দিয়েছেন’। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলার মাধ্যমে সংঘাতের সূত্রপাত হওয়ার প্রায় আট মাস পর এ নিয়োগ অনুমোদন করা হলো। ইরান সরকারের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, মোট ২৭৭টি ভোটের মধ্যে ২৩৭টি ভোট পেয়ে এ পদে নির্বাচিত হয়েছেন আখলাঘি। তিনি তার পূর্বসূরি আজিজ নাসিরজাদেহর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নাসিরজাদেহ নিহত হন। ওই হামলায় দেশটির সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তারাও নিহত হয়েছিলেন। ইরানের সংবাদ সংস্থা আইএসএনএর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পার্লামেন্টে ভোটাভুটির আগে আখলাঘি বলেন, ‘পার্লামেন্ট তার ওপর আস্থা রেখে ভোট দিলে দেশের এক সংবেদনশীল সময়ে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব আমার ওপর বর্তাবে’। তিনি আরও বলেন, ‘এমন পরিস্থিতিতে দেশকে রক্ষা করতে হলে সামগ্রিক পরিস্থিতি সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকতে হবে, বিভিন্ন ঘটনার পেছনের যুক্তি বুঝতে হবে, প্রভাব বিস্তারকারী প্রবণতাগুলো শনাক্ত করতে হবে এবং সম্ভাব্য বিভিন্ন পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে হবে।’ প্রসঙ্গত, সামরিক পদমর্যাদা না থাকলেও দীর্ঘ ৪২ বছর ধরে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে কাজ করছেন আখলাঘি। ২০১৩ সাল থেকে তিনি ইরানের রাষ্ট্রীয় অস্ত্র উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ইরানিয়ান ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিজ অর্গানাইজেশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পারমাণবিক বা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র-সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কারণে ২০০৭ সালে জাতিসংঘ আখলাঘির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল।

নতুন যে ৩ সামরিক বিকল্প ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র
নতুন যে ৩ সামরিক বিকল্প ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে কিংবা ওই অঞ্চলের পথে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত তিনটি বিমানবাহী রণতরির স্ট্রাইক গ্রুপ রয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের বিরুদ্ধে তিনটি সামরিক বিকল্প বিবেচনা করতে পারে ওয়াশিংটন। প্রথমত, ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ বজায় রেখে দেশটির ওপর সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখা। দ্বিতীয়ত, নতুন করে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো। তৃতীয়ত, সীমিত পরিসরে স্থল অভিযান পরিচালনা করা। তবে প্রতিটি বিকল্পেই ঝুঁকি রয়েছে। কয়েক মাসের সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ইন্টারসেপ্টরের মজুত কমেছে। নতুন করে হামলার ক্ষেত্রে সামরিক সক্ষমতা ও সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি বিবেচনায় নিতে হবে ওয়াশিংটনকে। সীমিত স্থল অভিযানের সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপের নামও আলোচনায় এসেছে। তবে সেখানে অভিযান চালালে মার্কিন বাহিনী বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, পূর্ণমাত্রার স্থল অভিযান চালানোর সম্ভাবনা কম। এমন পদক্ষেপে প্রাণহানি বাড়ার পাশাপাশি পুরো মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়তে পারে। ফলে সামরিক চাপ বজায় রাখার বিকল্প থাকলেও কোন পথে এগোবে যুক্তরাষ্ট্র, তা এখনো অনিশ্চিত। /শান্ত/