হানিফসহ ৪ নেতার মামলার রায় বৃহস্পতিবার
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ৩ সদস্যের বিচারিক প্যানেল রায় ঘোষণার এই দিন ধার্য করেন। প্যানেলের অন্য ২ সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। মামলার অন্য তিন আসামি হলেন কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী এবং শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা। চার আসামিই বর্তমানে পলাতক। এর আগে গত ৭ অক্টোবর মামলাটিতে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তি-পালটা যুক্তি উপস্থাপন শেষ হয়। পরে রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন ট্রাইব্যুনাল-২। এর আগে ৫ অক্টোবর ৪ আসামির সর্বোচ্চ সাজা চেয়ে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করে প্রসিকিউশন। প্রসিকিউশনের দাবি, মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম আগেই শেষ হয়েছিলো। তবে রাষ্ট্রপক্ষ নতুন কিছু তথ্যপ্রমাণ দাখিল করায় পুনরায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম যুক্তিতর্কে বলেন, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মাহবুবউল আলম হানিফ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আন্দোলন দমনে সরকারের সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত ছিলেন এবং অধীনদের মাধ্যমে তা বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখেন। তাঁর দাবি, হানিফ বেসামরিক নেতা হিসেবে বিভিন্ন নির্দেশনা ও টেলিফোনে কথোপকথনের মাধ্যমে আন্দোলন দমনের কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন। প্রসিকিউটর আরও বলেন, একই ধরনের অপরাধে আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দীন নাছিমকে সর্বোচ্চ সাজা দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। সে-ই বিবেচনায় হানিফের ক্ষেত্রেও একই সাজা প্রত্যাশা করছে রাষ্ট্রপক্ষ। এর আগে গত ১০ জুন রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তি-পালটা যুক্তি শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছিলো। ২৩ এপ্রিল তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরার মধ্য দিয়ে মামলায় ১৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। পরে অতিরিক্ত তথ্যপ্রমাণ দাখিলের কারণে আবারও যুক্তিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়। গত বছরের ২ নভেম্বর ৪ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। মামলায় তাঁদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য, ষড়যন্ত্র এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ৬ জনকে হত্যার ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে আগামী ২৯ অক্টোবর রায় ঘোষণা করবেন ট্রাইব্যুনাল। /এমএএইচ/