Advertisement(970X90).png
Advertisement(300X90).png

১৫ কার্তিক ১৪৩৩, ১৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

৩ আইন নিয়ে অ্যামনেস্টি'র উদ্বেগ, সংশোধনের আহ্বান
৩ আইন নিয়ে অ্যামনেস্টি'র উদ্বেগ, সংশোধনের আহ্বান

আইন তিনটি হলো সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন ২০২৬, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন ২০২৬ এবং স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন ২০২৬। গত ২৬ অক্টোবর পাঠানো চিঠিতে এসব আইনের বিভিন্ন বিধান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। গত সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনের সময় আইনমন্ত্রীর সঙ্গে অ্যামনেস্টির মহাসচিবের বৈঠকের ধারাবাহিকতায় এই চিঠি পাঠানো হয়েছে। সাইবার আইনের অপব্যবহারের আশঙ্কা প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ জানিয়েছে অ্যামনেস্টি। সংস্থাটির মতে, আগের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইন ২০০৬, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ এবং সাইবার নিরাপত্তা আইন ২০২৩ মতপ্রকাশের স্বাধীনতাসহ বিভিন্ন মানবাধিকার খর্ব করতে ব্যবহৃত হয়েছে। নতুন সংশোধনীতে সেই সমস্যার সমাধান না হয়ে বরং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকি বাড়তে পারে। প্রস্তাবিত সংশোধনীতে মানহানি, অপমান, হয়রানি, ভুল তথ্য ও গুজব ছড়ানোর মতো বিষয়কে কেন্দ্র করে অপরাধের পরিধি বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। অ্যামনেস্টির মতে, এসব বিষয়ের সংজ্ঞা অস্পষ্ট ও ব্যাপক হওয়ায় সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ এবং সরকারের সমালোচকদের হয়রানি বা তাদের কণ্ঠরোধে আইনটি ব্যবহারের আশঙ্কা রয়েছে। সংশোধনীর ৮(২) ধারায় অনলাইন থেকে তথ্য অপসারণ বা প্রকাশ বন্ধ করার ক্ষমতাপ্রাপ্ত সংস্থার সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা, জনশৃঙ্খলা, ধর্মীয় বা সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের নির্দেশনা, মানহানি কিংবা রাষ্ট্রের প্রতি ‘অশ্রদ্ধা’ প্রকাশের মতো কারণ দেখিয়ে তথ্য অপসারণের সুযোগ রাখা হয়েছে। অ্যামনেস্টির আশঙ্কা, এসব বিষয়ের সংজ্ঞা স্পষ্ট না হওয়ায় কর্তৃপক্ষ ইচ্ছামতো মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করতে পারে। পাশাপাশি, তথ্য অপসারণ বা প্রকাশ বন্ধের ক্ষেত্রে ৩ দিনের মধ্যে ট্রাইব্যুনালের অনুমোদন নেওয়ার বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়ার প্রস্তাব নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে সংস্থাটি। প্রস্তাবিত বিধানে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ৪০ লাখ টাকা জরিমানার সুযোগ রয়েছে। এই কারণে সংশোধনীটি প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে অ্যামনেস্টি। গুম প্রতিরোধ আইন সংশোধনের সুপারিশ গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন ২০২৬ প্রণয়নকে স্বাগত জানিয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। তবে সংস্থাটির মতে, আইনটি আন্তর্জাতিক গুমবিরোধী সনদের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এই জন্য কয়েকটি বিধান সংশোধনের সুপারিশ করেছে তারা। অ্যামনেস্টির মতে, গুমের শিকার ব্যক্তির সংজ্ঞা এমনভাবে সংশোধন করা প্রয়োজন, যাতে কাউকে আটক করা এবং পরে আটকের তথ্য অস্বীকার করা বা তার অবস্থান গোপন করার কাজ একই সরকারি কর্মকর্তাকে করতে হবে, এমন শর্ত না থাকে। এছাড়া জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে গ্রেপ্তারের তথ্য গোপন রাখার সুযোগও বাতিলের আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি, এমনকি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করার ক্ষেত্রেও। আইনের ৬ ধারায় মৃত্যুদণ্ডের বিধান নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে অ্যামনেস্টি। সংস্থাটি মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ওপর স্থগিতাদেশ এবং তা পুরোপুরি বিলোপের আহ্বান জানিয়েছে। আইনের ১৮ ধারায় অভিযুক্ত ব্যক্তির অনুপস্থিতিতে বিচার করার সুযোগ রাখা হয়েছে। অ্যামনেস্টির মতে, নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতি ছাড়া এই ধরনের বিচার ন্যায্য বিচারপ্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। অন্যদিকে, ২১ ধারায় গুমের ‘মিথ্যা ও হয়রানিমূলক’ অভিযোগ করলে ক্ষতিপূরণ বা সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। এই বিধানের কারণে গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবার অভিযোগ জানাতে নিরুৎসাহিত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। র‍্যাবের নাম বদলে এসআরবি স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে অ্যামনেস্টি। সংস্থাটির মতে, র‍্যাবের নাম পরিবর্তন করে নতুন ইউনিট গঠন করা হলেও আগের বাহিনীর সদস্য, ক্ষমতা ও সম্পদ নতুন ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়েছে। র‍্যাবের বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম ও নির্যাতনসহ গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগের কথা উল্লেখ করেছে অ্যামনেস্টি। সংস্থাটির মতে, এসব অভিযোগ যাচাই-বাছাই না করে আগের বাহিনীর সদস্যদের নতুন ইউনিটে অন্তর্ভুক্ত করা আইনের একটি বড় ঘাটতি। নতুন বাহিনীতে সদস্য নিয়োগের আগে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগগুলো যথাযথভাবে যাচাই করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছে তারা। অ্যামনেস্টির মূল আহ্বান, তিনটি আইনই যেন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড মেনে চলে এবং আইন প্রয়োগের মাধ্যমে মানুষের মৌলিক অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচার পাওয়ার সুযোগ ক্ষুণ্ন না হয়। /শান্ত/

আলবেনিয়ায় বিক্ষোভ দমনে জরুরি ডিক্রি, উপস্থিত থাকলেই জরিমানা
আলবেনিয়ায় বিক্ষোভ দমনে জরুরি ডিক্রি, উপস্থিত থাকলেই জরিমানা

দেশটির প্রধানমন্ত্রী এদি রামার সরকার বুধবার (২৮ অক্টোবর) এই বিতর্কিত জরুরি আইনি পদক্ষেপ অনুমোদন করে, যা দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করা হয়েছে। নতুন এই বিধানের সবচেয়ে কঠোর দিক হলো, বিক্ষোভে উপস্থিত কেউ নিজে সরাসরি কোনো ভাঙচুর বা সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত না থাকলেও সমান শাস্তির আওতায় আসবেন। যদি কোনো ব্যক্তি জনসমক্ষে সহিংসতা বা লুটপাট চালানো জনতার মধ্যে অবস্থান করেন কিংবা আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার চোখ এড়াতে নিজের পরিচয় গোপন বা মুখাবরণ ব্যবহার করার চেষ্টা করেন, তবে তাঁকেও এই বিশাল অঙ্কের জরিমানার মুখোমুখি হতে হবে। আলবেনিয়ায় বর্তমানে কর-পূর্ব গড় মাসিক বেতন মাত্র ৯৩০ ইউরো। সেই তুলনায় এই জরিমানার অঙ্ক সাধারণ মানুষের মাসিক আয়ের চেয়ে প্রায় ছয় গুণ বেশি, যা মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের নাগরিকদের ওপর একটি চরম আর্থিক বোঝা তৈরি করবে বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা। সরকারি এই জরুরি ডিক্রিটি ইতিমধ্যেই কার্যকর করা হলেও এটি দীর্ঘমেয়াদে বহাল রাখতে আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে দেশের পার্লামেন্টের চূড়ান্ত অনুমোদন নিতে হবে। নতুন ব্যবস্থার আওতায় দেশটির স্টেট পুলিশকে বিশেষ ও ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। সহিংসতার সামান্য আশঙ্কা বা ইঙ্গিত থাকলেই তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, গণপরিবহণ টার্মিনাল, বন্দর, বিমানবন্দর এবং সরকারি দপ্তরের আশপাশসহ নির্দিষ্ট যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সাময়িকভাবে সমাবেশ সীমিত বা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে পারবে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ইমেইল বা অনলাইনের মাধ্যমে সহিংসতায় উসকানি দেওয়া এবং বিভ্রান্তি ছড়ানোর বিরুদ্ধেও নতুন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে, বিক্ষোভে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে উপযুক্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার একটি বিশেষ স্কিমও চালু করেছে রামা সরকার। প্রধানমন্ত্রী এদি রামা জানিয়েছেন, ফ্রান্সের একটি প্রস্তাবিত আইন থেকে তিনি এই ব্যতিক্রমী আর্থিক শাস্তির ধারণা পেয়েছেন। ফরাসি পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষে সম্প্রতি পাস হওয়া ওই আইন অনুযায়ী, রাজপথে বিক্ষোভের ফলে সৃষ্ট যেকোনো রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারি ক্ষয়ক্ষতির জন্য বিক্ষোভকারীদের সামষ্টিক ও আর্থিকভাবে দায়ী করার বিধান রাখা হয়েছে। চলতি বছরের মে মাসে আলবেনিয়ার একটি পরিবেশগতভাবে সুরক্ষিত এলাকায় বিলাসবহুল হোটেল ও আন্তর্জাতিক পর্যটন রিসোর্ট নির্মাণ প্রকল্পের বিরুদ্ধে পরিবেশবাদীদের একটি শান্তিপূর্ণ সমাবেশের মধ্য দিয়ে এই আন্দোলনের সূচনা হয়েছিলো। এই বহু বিলিয়ন ডলারের বিলাসবহুল প্রকল্পের পেছনে প্রধান বিনিয়োগকারী হিসেবে রয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং কন্যা ইভানকা ট্রাম্প। সজান দ্বীপ ও জর্নেক অঞ্চলের সুরক্ষিত জলাভূমিতে এই প্রকল্প নির্মাণের ফলে সামগ্রিক পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হবে এবং বিশেষ করে ওই অঞ্চলের পরিযায়ী রাজহাঁস বা ‘ফ্ল্যামিঙ্গো’ পাখির প্রাকৃতিক আবাসস্থল সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাবে বলে অভিযোগ করেন বিক্ষোভকারীরা। এই কারণেই এই আন্দোলনটি পরবর্তীতে ‘ফ্ল্যামিঙ্গো রেভল্যুশন’ বা রাজহাঁস বিপ্লব নামে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি পায়। শান্তিপূর্ণভাবে শুরু হওয়া এই আন্দোলন গত অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে এসে ব্যাপক সহিংস রূপ নেয়। এটি তখন কেবল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে একটি বৃহত্তর সরকারবিরোধী গণআন্দোলনে পরিণত হয়। দেশের প্রায় ২৩ লাখ মানুষের ভবিষ্যৎ, সরকারি খাতের ব্যাপক দুর্নীতি, ভঙ্গুর স্বাস্থ্যব্যবস্থা, জীবনযাত্রার আকাশছোঁয়া ব্যয় এবং তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থানের চরম অভাবের বিরুদ্ধে হাজার হাজার শিক্ষার্থী রাজধানী তিরানার রাজপথে নেমে আসেন। বিক্ষোভকারীরা ২০১৩ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী এদি রামার পদত্যাগ দাবি করলে পুলিশের সঙ্গে তাদের দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। আন্দোলনকারীরা বেশ কয়েকটি সরকারি ভবনে হামলা চালান ও আগুন ধরিয়ে দেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ব্যাপকভাবে কাঁদানে গ্যাস, জলকামান ও রাবার বুলেট ব্যবহার করে, যার ফলে শত শত পুলিশ সদস্য এবং আন্দোলনকারী গুরুতর আহত হন এবং অনেককে আটক করা হয়। বিক্ষোভের তীব্রতা দিন দিন বৃদ্ধি পেলেও প্রধানমন্ত্রী এদি রামা পদত্যাগের দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং আন্দোলনকারীদের সাথে কোনো প্রকার সংলাপে বসতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তিনি এই দেশব্যাপী সহিংসতার পেছনে একটি ‘বিদেশি শক্তির’ হাত রয়েছে বলে বারবার দাবি করে আসছেন। রামা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেছেন, অনলাইনে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো এবং দেশের তরুণদের উসকে দেওয়ার পেছনে রাশিয়া ও ইরানের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভূমিকা রয়েছে। তবে কঠোর দমনপীড়নের পাশাপাশি রাজনৈতিক সংকট নিরসনে তিনি এখনও শর্তসাপেক্ষে সংলাপের দরজা খোলা রাখার কথা বলছেন। /এমএএইচ/

চাঁদাবাজি নির্মূলে শিগগিরই নতুন আইন হচ্ছে: আইজিপি
চাঁদাবাজি নির্মূলে শিগগিরই নতুন আইন হচ্ছে: আইজিপি

চাঁদাবাজি নির্মূলে শিগগিরই নতুন আইন হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে খুলনায় পুলিশ লাইন্সে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) এবং খুলনা এলাকার মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং ও উগ্রবাদ বিরোধী কমিউনিটি পুলিশিং সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই কথা বলেন তিনি। আইজিপি বলেন, প্রভাবশালী চাঁদাবাজদের ভয়ে সাধারণ মানুষ থানায় অভিযোগ করতে চান না বা সাক্ষ্য দিতে ভয় পান। এই বাধা দূর করতে এবং চাঁদাবাজি নির্মূলে শিগগিরই নতুন আইন হতে যাচ্ছে। এই আইন পাস হলে ভুক্তভোগীর অভিযোগ ছাড়াই পুলিশ নিজে বাদী হয়ে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারবে। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে বলপ্রয়োগ করলে পুলিশকে ফ্যাসিবাদী বলা হয়, আর বলপ্রয়োগ না করলে দুর্বল মনে করে মানুষ। গত ১৭ বছরে পুলিশ ও জনগণের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। সমাজে মাদককে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। এই পরিস্থিতি নিরসনে কাজ করছে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও কার্যকর করতে স্বরাষ্ট্র ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনে আইনি কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে কমিউনিটি পুলিশিং পুলিশের একটি শাখা হিসেবে কাজ করবে। কমিউনিটি পুলিশের কতিপয় সদস্যের বিরুদ্ধে নিরীহ মানুষকে হয়রানি ও ভয়-ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। এসব যেন আর না হয়, সেজন্য একটি আইনি কাঠামোর ভেতরে কমিউনিটি পুলিশের কার্যক্রম পরিচালিত হবে। তিনি আরও বলেন, কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজি ও মাদক নিয়ন্ত্রণে দেশব্যাপী যৌথ অভিযান চলছে। পাশাপাশি চাঁদাবাজির অভিযোগে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ ছাড়াই পুলিশ যাতে স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলা করতে পারে, সেই ক্ষমতা দিতে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। /এমএএইচ/

‘চাকরিতে অর্জিত পদোন্নতির অধিকার কেড়ে নেওয়া যাবে না’
‘চাকরিতে অর্জিত পদোন্নতির অধিকার কেড়ে নেওয়া যাবে না’

১৭ পৃষ্ঠার ওই রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। আদালতের মূল রায়টি লিখেছেন বিচারপতি এ. এফ. এম সাইফুল করিম। প্রকাশিত রায় পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০০৪ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে মুহাম্মদ কামরুজ্জামান তালুকদারসহ মোট সাতজন উপসহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) পদে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটে (বারি) যোগদান করেন এবং পরবর্তীতে তাদের চাকরি স্থায়ীকরণ করা হয়। তৎকালীন ‘বারি প্রবিধানমালা, ২০১১’ অনুযায়ী, ফিডার পদে পাঁচ বছর চাকরি সম্পন্ন করার পর উপসহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) থেকে সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) পদে শতভাগ পদোন্নতির বিধান ছিল। রিট আবেদনকারী সাতজন প্রকৌশলীই ২০২১ সালের আগেই প্রবিধানমালা অনুযায়ী পদোন্নতির জন্য নির্ধারিত পাঁচ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতা অর্জন করেন। ২০২১ সালের ৯ মার্চ সরকার ‘বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রবিধানমালা, ২০২১’ গেজেটে আকারে প্রকাশ করে। নতুন এই প্রবিধানমালার ৩২ নম্বর ক্রমিকে সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) পদটি শতভাগ পদোন্নতির পরিবর্তে ৩৩ শতাংশ পদোন্নতি এবং ৬৭ শতাংশ সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে পূরণের বিধান করা হয়। বিপরীতে ইলেকট্রিক্যাল ও মেকানিক্যাল শাখার উপসহকারী প্রকৌশলীদের পদোন্নতির শতভাগ কোটা অপরিবর্তিত রাখা হয়। নতুন এই প্রবিধানমালার ফলে পদোন্নতির অর্জিত অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে রিট আবেদনকারীরা ২০২১ সালে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। ওই রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত রুল জারি করেন। শুনানিকালে রিট আবেদনকারীদের আইনজীবী এস.আর.এম. লুৎফর রহমান আখন্দ আদালতে তুলে ধরেন যে, ২০২১ সালের সংশোধিত প্রবিধানমালা কার্যকর হওয়ার আগেই তার মক্কেলগণ পদোন্নতির সকল শর্ত পূরণ করে অধিকার অর্জন করেছিলেন। তাই পরবর্তী সংশোধনের মাধ্যমে তাদের প্রতিকূলে পদোন্নতির সুযোগ সংকুচিত করা আইনত বেআইনি ও বৈষম্যমূলক। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) পক্ষের আইনজীবী কবির ইকবাল হোসেন যুক্তি দেন, ২০১১ সালের প্রবিধানমালা রহিত করে ২০২১ সালের প্রবিধানমালা প্রবর্তন করা হয়েছে। রহিত প্রবিধানের অধীনে কেউ পদোন্নতি দাবি করতে পারেন না এবং ভালো সেবা নিশ্চিত করতে সিভিল শাখায় বিএসসি প্রকৌশলীদের সরাসরি নিয়োগের বিধান করা হয়েছে। রায়ের পর্যবেক্ষণে হাইকোর্ট বলেন, দুই পক্ষের বক্তব্য ও নথি পর্যালোচনা করে আমরা এই মর্মে সিদ্ধান্ত প্রদান করছি যে, ইতোপূর্বে প্রবিধান সংশোধনীর আগেই যারা পদোন্নতির জন্য যোগ্য হয়েছিলেন, সেই রিট আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে নব প্রণীত পদোন্নতির প্রবিধান, ২০২১ ভূতাপেক্ষভাবে প্রয়োগ করা যাবে না। রিট আবেদনকারীরা পূর্ববর্তী প্রবিধান, ২০১১-এর অধীনে অর্জিত ও প্রতিষ্ঠিত অধিকারের অধিকারী। পরবর্তীকালে প্রবিধানে কোনো পরিবর্তন আনার মাধ্যমে তাদের অধিকার কেড়ে নেওয়া যাবে না। সুতরাং সংশোধিত প্রবিধান, ২০২১ কার্যকর হওয়ার আগে যেসব আবেদনকারী পদোন্নতির জন্য নির্ধারিত চাকরিকাল, যোগ্যতা ও অন্যান্য শর্ত পূরণ করেছিলেন, তাদের পদোন্নতির বিষয়টি পুরোনো প্রবিধান, ২০১১-এর বিধান অনুযায়ী কঠোরভাবে বিবেচনা করতে হবে। পরবর্তীতে প্রবর্তিত কোনো নতুন শর্তের কারণে তাদের ইতোমধ্যে অর্জিত যোগ্যতা ক্ষুণ্ণ করা যাবে না। উপর্যুক্ত কারণগুলোর জন্য আমরা রুলটিতে সারবত্তা খুঁজে পাচ্ছি। তাই রুলটি নির্দেশনাসহ নিষ্পত্তি করে বিবাদীগণকে নির্দেশ দেওয়া হয় যে, ২০২১ সালের প্রবিধানমালা চালুর আগেই পদোন্নতির জন্য নির্ধারিত যোগ্যতা অর্জনকারী রিট আবেদনকারীদের ‘বারি প্রবিধানমালা, ২০১১’-এর সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) পদে পদোন্নতির বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে এবং পদের শূন্যতা, যোগ্যতা এবং পদোন্নতি সংক্রান্ত অন্যান্য আইনানুগ শর্ত পূরণ সাপেক্ষে আগামী এক মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বিধানের অধীনে এই পদোন্নতির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হলো। এই রায়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনার আদেশটি নিষ্পত্তি করা হলো। ফলস্বরূপ, উপরোক্ত নির্দেশনা সাপেক্ষে রুল নিষ্পত্তি করা হলো। রায় এবং আদেশ অবিলম্বে সংশ্লিষ্টদের অবহিত করা হোক। /এমএএইচ/