Advertisement(970X90).png
Advertisement(300X90).png

১৫ কার্তিক ১৪৩৩, ১৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

জনগণের তথ্য পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে কাজ করবে তথ্য কমিশন
জনগণের তথ্য পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে কাজ করবে তথ্য কমিশন

রবিবার (১৮ অক্টোবর) সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। প্রথমবারের মতো তথ্য কমিশনে নারী সদস্য নিয়োগ এবং কমিশনের কার্যক্রম নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ড. নাহরিন ইসলাম খান বলেন, ‘নারী হিসেবে যে কথাটি বলছিলেন, আমি মনে করি, যখনই দায়িত্ব দেওয়া হয়, তখন আসলে কোনো জেন্ডার কাজ করে না। দায়িত্বটাই কাজ করে। জেন্ডার কোনো কাজ করে না। যাতে সমভাবে প্রায়োরিটি পায় সোসাইটিতে, সেটাই আসলে সবচেয়ে বড় কথা।’ তিনি বলেন, ‘এটা সুন্দর একটি বিষয় যে, আসলে আপনারা জানেন, গত দুই কমিশনার নারী ছিলেন না। গত ১৭ বছর তথ্য কমিশন থাকলেও বাংলাদেশে যেটি হয়েছে, খুব সিগনিফিক্যান্ট কোনো কাজ তথ্য কমিশন করতে পারেনি। আর ঠিক তেমনি কোনো কমিশনার নিয়োগ দেওয়া হয়নি। তো আমরা বিশ্বাস করি, গণতান্ত্রিক সরকারের যে তথ্য কমিশনের নিয়োগ হবে, এটি একটি স্বতন্ত্র বডি হিসেবে কাজ করবে এবং জনগণের যে তথ্য পাওয়ার অধিকার, সেটি নিশ্চিত করবে।’ তথ্য কমিশন জনগণের জন্য কাজ করবে জানিয়ে প্রধান তথ্য কমিশনার বলেন, ‘আরেকটি কথা হচ্ছে, তথ্য কমিশন কিন্তু আসলে জনগণের জন্য। আমরা কাজ করবো মানুষের জন্য, আমরা কোনো সরকারের জন্য কাজ করবো না, আমরা কোনো বিশেষ ব্যক্তির জন্য কাজ করবো না। আমরা সবার জন্যই কাজ করবো এবং আমাদের দরজা বাংলাদেশের সব মানুষের জন্য খোলা থাকবে। যে কোনো ধরনের ইনফরমেশন পাওয়ার রাইট, অধিকার, সেটা বাস্তবায়নে আমরা সবাই কাজ করবো।’ তথ্য কমিশনের কার্যক্রম সম্পর্কে সাধারণ মানুষ জানে না এবং অতীতে কমিশনের তেমন কোনো কার্যক্রম চোখে পড়েনি, এ বিষয়ে জানতে চাইলে ড. নাহরিন ইসলাম খান বলেন, ‘আমাদের আসলে প্রথমে যেটা হচ্ছে, আপা রাইটলি আমাকে কোয়েশ্চেনটি করেছেন যে তথ্য কমিশন সম্পর্কে এখনও মানুষ জানে না। কিন্তু যে কোনো একটি দেশে পৃথিবীতে মানবাধিকার কমিশন এবং তথ্য কমিশন খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সো যেহেতু এটি আগে সেরকম করে ফাংশন করতে পারেনি এবং আমাদের কাজ যেহেতু রাইট টু ইনফরমেশন, মানুষের কাছে ইনফরমেশন পৌঁছে দেওয়া, আমি মনে করি যে আমরা যে টিমটি কাজ করবো, আমাদের প্রথম কাজই হবে যে তথ্য কমিশনে আপনি তথ্যের অধিকার কত সহজ-সরলভাবে করা যায় এবং আমাদের কাছে মানুষের অ্যাকসেসটা কতটুকু পাবে এবং আমরা আসলে কী কাজ করি, কী তার প্রথম পদক্ষেপ হবে তথ্য কমিশনের মানুষের কাছে জানানোর।’ এদিকে, নতুন সরকারের সময়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দায়িত্ব পালনের পর এবার তথ্য কমিশনার হিসেবে নতুন দায়িত্ব ও অগ্রাধিকার সম্পর্কে জানতে চাইলে তথ্য কমিশনার সাংবাদিক এস এ এম মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘আমি আগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কাজ করেছি। প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার। এখন একটা সাংবিধানিক দায়িত্বে আমরা এসেছি। এটা একটা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান।’ তিনি বলেন, ‘এই প্রতিষ্ঠান গত ১৭ বছরে যেটা বলেছেন উনি, তখন যেটা উল্লেখযোগ্য কাজ করতে পারেনি। একটা জিনিস আমাদের বুঝতে হবে যে একটা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান কীভাবে কাজ করে। জনগণের কল্যাণে কীভাবে সে আসবে, সে জিনিসটা আমাদের প্রকাশ্যের মধ্যে আনতে হবে। একটা জিনিস খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে তথ্যের যে অধিকারের যে প্রশ্নটা, এটা হচ্ছে যে জনগণের তথ্য, এটা শুধুমাত্র গণমাধ্যমের নয়। এটা জনগণের তথ্যের অধিকারের প্রশ্ন।’ তথ্যপ্রবাহে স্বচ্ছতা ও সঠিক তথ্য নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে এস এ এম মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘আমরা তথ্যের স্বচ্ছতা এবং নিষ্ঠার সঙ্গে তথ্যপ্রবাহ এবং সঠিক তথ্যের প্রবাহের মধ্য দিয়ে সামাজিক কল্যাণ এবং জনগণের কল্যাণ, রাষ্ট্রের কল্যাণ নিশ্চিত করবার ক্ষেত্রে যে এই একটা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের যে অধিকার, সেইটাকে আমরা সফল করবার চেষ্টা করবো।’ তথ্য কমিশনার বলেন, ‘আমরা ধরেই নিতে পারি যে আজকে থেকে আমরা আমাদের এই কাজ শুরু। আমরা আমাদের অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতির মধ্য দিয়েই জনগণের কাছেই ফিরে আসবো এবং আমাদের যে অঙ্গীকার, সরকারের যে অঙ্গীকার, সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে আমরা যথেষ্ট সম্পূর্ণ সফলভাবে এটাকে গড়ে তুলবার জন্য সেই চেষ্টাই থাকবে।’ /এসআই/